আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি দেশের ভোক্তা পর্যায়ে এসে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার সব ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন দামের তালিকা
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে। অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই হিসাবে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা বেড়েছে।
মাসিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এড়িয়ে সিদ্ধান্ত

মার্চ ২০২৪ সালে চালু হওয়া স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি মাসের শেষে পরবর্তী মাসের জ্বালানির দাম নির্ধারণ করার কথা ছিল। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দাম বাড়ানোর মাধ্যমে সেই পদ্ধতি কার্যত এড়িয়ে গেছে সরকার।
আগের মূল্য পরিস্থিতি
এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা কমানো হয়েছিল। এরপর মার্চ ও এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ওঠানামা থাকলেও দেশে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বৈশ্বিক প্রভাব
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, যেখান দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়, সেখানে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
দেশে প্রভাব ও চাহিদা বৃদ্ধি

এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। সাম্প্রতিক দিনে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা।
সরকার অবশ্য জানিয়েছে, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।
অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান
জ্বালানি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে সরকার দেশজুড়ে অভিযান চালিয়েছে। এ সময় পাঁচ লাখ লিটারের বেশি জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
ভবিষ্যৎ মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা
এর আগে জনভোগান্তি কমাতে জ্বালানির দাম না বাড়ানোর চেষ্টা করার কথা জানিয়েছিল সরকার। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দাম সমন্বয়ের সম্ভাবনার কথা ইঙ্গিত দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা এখনই নিশ্চিত নয়। যদি উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হয় এবং জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ে, তাহলে ভর্তুকি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সরকারের মতে, ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম নির্ধারণ পুরোপুরি নির্ভর করবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















