০১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
নারীদের নগদ প্রণোদনায় জমে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ ভোট: লক্ষ্মীর ভান্ডার বনাম মাতৃশক্তি প্রতিশ্রুতির লড়াই বুলিং সংকট: সমাজের জন্য এক জাগরণবার্তা বলিভিয়ায় প্রথমবারের মতো বনে ফেরানো হচ্ছে জাগুয়ার: সংরক্ষণে নতুন যুগের সূচনা? আদালত থেকে সমাজে: ইসলামের বৈশ্বিক পুনরুত্থান পাইপলাইনের গ্যাস—স্বপ্ন থেকে এখন বাস্তব প্রয়োজন মণিপুর মহাসড়কে অতর্কিত হামলা: দুই নিহত, উত্তেজনা নতুন করে তীব্র ডিএমকে-কংগ্রেসের বাধায় থমকে নারী সংরক্ষণ উদ্যোগ, তবু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা মোদির পশ্চিমবঙ্গে একা লড়াইয়ে কংগ্রেস, তৃণমূলের সঙ্গে ভোট-পরবর্তী জোটের জল্পনা নাকচ দার্জিলিং পাহাড়ে বহু-পক্ষের লড়াই, বদলে যাচ্ছে রাজনীতির চরিত্র বিজেপির অভিযোগ: নারী কোটা বিল ব্যর্থতায় কংগ্রেস ‘উল্লাস করেছে’

শেল স্টেশনে জ্বালানি সংকটঃ আমদানি অনুমতির জন্য দৌড়ঝাঁপে প্রতিষ্ঠান

ইন্দোনেশিয়ায় বেসরকারি জ্বালানি খুচরা বিক্রেতা শেল ইন্দোনেশিয়া চলতি বছরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি আমদানির অনুমতি পেতে সরকারের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বেশ কিছু ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি না থাকায় এই চাপ আরও বেড়েছে।

কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর ও মোবিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইনগ্রিড সিবুরিয়ান জানিয়েছেন, বিদ্যমান নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গেও কাজ করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত শেলের স্টেশনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের বেস ফুয়েল সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করতে শেল প্রস্তুত আছে, তবে সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও মানের কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। যদিও কবে নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবুও শিগগিরই সরবরাহ ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

জ্বালানির তীব্র সংকট

Shell Stations in Indonesia Are Running Dry as EVs Overtake - Bloomberg

বর্তমানে শেল ইন্দোনেশিয়ার স্টেশনগুলোতে জ্বালানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে আরওএন ৯৫ (ভি-পাওয়ার) ও আরওএন ৯৮ (ভি-পাওয়ার নাইট্রো+) সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। অন্যদিকে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে উন্নত।

বিপি-একেয়ার স্টেশনগুলোতে আরওএন ৯২, আরওএন ৯৫ এবং ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি আবার পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে ভিভো ব্র্যান্ডও তাদের আরওএন ৯২ ও ৯৫ জ্বালানির সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি স্বাভাবিক করেছে, বিশেষ করে বৃহত্তর জাকার্তা অঞ্চলে।

নিয়ন্ত্রক জটিলতা ও অনুমতির বাধা

শেলের এই সংকট মূলত জ্বালানি আমদানির অনুমতি পাওয়ার জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তেল ও গ্যাস বিভাগের মহাপরিচালক লাওদে সুলায়েমান জানিয়েছেন, শেলসহ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্ত পার্টামিনার কাছে বেস ফুয়েল কেনার আবেদন করেছে।

২০২৬ সালের জন্য শেলের আমদানি সুপারিশ এখনো মূল্যায়নাধীন রয়েছে, যা তাদের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরবরাহ চুক্তি ও মজুত পরিস্থিতি

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শেল পার্টামিনার বাণিজ্যিক শাখার সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তির মাধ্যমে ১ লাখ ব্যারেল আরওএন-৯২ বেস ফুয়েল সংগ্রহ করে। পার্টামিনা জানিয়েছে, এই জ্বালানি সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ করেছে।

তেলের ব্যারেল ১২০ ডলার ছাড়ালে বাড়তি ব্যয় হবে ৬১ হাজার কোটি টাকা

এই বরাদ্দসহ বেসরকারি স্টেশনগুলোর মোট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে। তবুও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংকটের পেছনের কারণ

গত বছরের আগস্টে জাকার্তায় বেসরকারি ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংকট শুরু হয়ে পরে সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্টামিনাকে ঘিরে জালিয়াতি ও অবৈধ আমদানির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ভোক্তাদের আচরণ বদলে যায়।

অনেক চালক তখন বেশি দামের হলেও তুলনামূলক মানসম্মত বিকল্প ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকেন, ফলে চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হয়।

এর পাশাপাশি, গত অক্টোবর মাসে পূর্ব জাভায় পার্টালাইট ব্যবহার করে গাড়ি বিকল হওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর জনঅসন্তোষ আরও বেড়ে যায়।

সরকারের অবস্থান

এই পরিস্থিতিতে সরকার বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানির কোটা বাড়াতে অনাগ্রহী। বরং তারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পার্টামিনা থেকে বেস ফুয়েল কেনার পরামর্শ দিচ্ছে, যা বাজারে প্রতিযোগিতা ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শেলের জন্য দ্রুত আমদানি অনুমতি পাওয়া এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগস্টে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না কমছে? যা জানা গেল

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের নগদ প্রণোদনায় জমে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ ভোট: লক্ষ্মীর ভান্ডার বনাম মাতৃশক্তি প্রতিশ্রুতির লড়াই

শেল স্টেশনে জ্বালানি সংকটঃ আমদানি অনুমতির জন্য দৌড়ঝাঁপে প্রতিষ্ঠান

১১:৪২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় বেসরকারি জ্বালানি খুচরা বিক্রেতা শেল ইন্দোনেশিয়া চলতি বছরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি আমদানির অনুমতি পেতে সরকারের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বেশ কিছু ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি না থাকায় এই চাপ আরও বেড়েছে।

কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর ও মোবিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইনগ্রিড সিবুরিয়ান জানিয়েছেন, বিদ্যমান নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গেও কাজ করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত শেলের স্টেশনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের বেস ফুয়েল সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করতে শেল প্রস্তুত আছে, তবে সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও মানের কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। যদিও কবে নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবুও শিগগিরই সরবরাহ ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

জ্বালানির তীব্র সংকট

Shell Stations in Indonesia Are Running Dry as EVs Overtake - Bloomberg

বর্তমানে শেল ইন্দোনেশিয়ার স্টেশনগুলোতে জ্বালানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে আরওএন ৯৫ (ভি-পাওয়ার) ও আরওএন ৯৮ (ভি-পাওয়ার নাইট্রো+) সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। অন্যদিকে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে উন্নত।

বিপি-একেয়ার স্টেশনগুলোতে আরওএন ৯২, আরওএন ৯৫ এবং ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি আবার পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে ভিভো ব্র্যান্ডও তাদের আরওএন ৯২ ও ৯৫ জ্বালানির সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি স্বাভাবিক করেছে, বিশেষ করে বৃহত্তর জাকার্তা অঞ্চলে।

নিয়ন্ত্রক জটিলতা ও অনুমতির বাধা

শেলের এই সংকট মূলত জ্বালানি আমদানির অনুমতি পাওয়ার জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তেল ও গ্যাস বিভাগের মহাপরিচালক লাওদে সুলায়েমান জানিয়েছেন, শেলসহ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্ত পার্টামিনার কাছে বেস ফুয়েল কেনার আবেদন করেছে।

২০২৬ সালের জন্য শেলের আমদানি সুপারিশ এখনো মূল্যায়নাধীন রয়েছে, যা তাদের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরবরাহ চুক্তি ও মজুত পরিস্থিতি

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শেল পার্টামিনার বাণিজ্যিক শাখার সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তির মাধ্যমে ১ লাখ ব্যারেল আরওএন-৯২ বেস ফুয়েল সংগ্রহ করে। পার্টামিনা জানিয়েছে, এই জ্বালানি সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ করেছে।

তেলের ব্যারেল ১২০ ডলার ছাড়ালে বাড়তি ব্যয় হবে ৬১ হাজার কোটি টাকা

এই বরাদ্দসহ বেসরকারি স্টেশনগুলোর মোট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে। তবুও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংকটের পেছনের কারণ

গত বছরের আগস্টে জাকার্তায় বেসরকারি ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংকট শুরু হয়ে পরে সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্টামিনাকে ঘিরে জালিয়াতি ও অবৈধ আমদানির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ভোক্তাদের আচরণ বদলে যায়।

অনেক চালক তখন বেশি দামের হলেও তুলনামূলক মানসম্মত বিকল্প ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকেন, ফলে চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হয়।

এর পাশাপাশি, গত অক্টোবর মাসে পূর্ব জাভায় পার্টালাইট ব্যবহার করে গাড়ি বিকল হওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর জনঅসন্তোষ আরও বেড়ে যায়।

সরকারের অবস্থান

এই পরিস্থিতিতে সরকার বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানির কোটা বাড়াতে অনাগ্রহী। বরং তারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পার্টামিনা থেকে বেস ফুয়েল কেনার পরামর্শ দিচ্ছে, যা বাজারে প্রতিযোগিতা ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শেলের জন্য দ্রুত আমদানি অনুমতি পাওয়া এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগস্টে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না কমছে? যা জানা গেল