একসময় পরিবেশ ও আবাসিক সুবিধার জন্য পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এখন গুরুতর স্যানিটেশন সংকটে পড়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে অপরিচ্ছন্ন ও অযত্নে থাকা টয়লেট ব্যবস্থার কারণে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে। একাধিক ভবন, হল ও জনসাধারণের ব্যবহারের স্থানে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধিও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
ক্যাম্পাসে নোংরা পরিবেশের চিত্র
সাম্প্রতিক পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ টয়লেটে সাবান, টিস্যু, হ্যান্ডওয়াশ বা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা নেই। অনেক জায়গায় ট্যাপ নষ্ট, বেসিন বন্ধ, মেঝে অপরিষ্কার এবং দুর্গন্ধ স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ নিয়মিত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
শিক্ষার্থীরা জানান, ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধাও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিজেদেরই কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। আবাসিক হলগুলোতে বাইরের দিক থেকে পরিবেশ স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরের টয়লেটগুলোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।

ছাত্রীদের জন্য বাড়তি সংকট
ছাত্রীদের হলগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। টয়লেটে নেই স্যানিটারি বর্জ্য ফেলার উপযুক্ত ব্যবস্থা। নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে অনেক জায়গা। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ব্যবহারেও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।
পরিকল্পনার অভাব ও দীর্ঘমেয়াদি সংকট
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, স্যানিটেশন ব্যবস্থার জন্য সমন্বিত কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। টয়লেটের পানিজটসহ নানা সমস্যা বারবার দেখা দিচ্ছে।
জনসাধারণের টয়লেটের ভয়াবহ অবস্থা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেট ও কেন্দ্রীয় মাঠের আশপাশের টয়লেটগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। অনেক জায়গায় পানির সরবরাহ নেই, সাবান বা টিস্যুও নেই। জরুরি অবস্থায় ব্যবহার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংকট তীব্র
শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্রসহ ব্যস্ত এলাকাগুলোর টয়লেটগুলোও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সমাবেশের সময় অতিরিক্ত চাপ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।
বাজেট সংকট বড় বাধা
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হলগুলোর জন্য বরাদ্দ অর্থ খুবই সীমিত, যা দিয়ে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন। পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মী না থাকাও একটি বড় সমস্যা।
একাডেমিক ভবনেও একই চিত্র

শুধু হল নয়, একাডেমিক ভবনগুলোর টয়লেটও একইভাবে অপরিচ্ছন্ন। নতুন ভবনেও ভাঙা ট্যাপ, অচল বেসিন এবং দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা টয়লেট ব্যবহার এড়িয়ে চলছেন।
স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কবার্তা
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, অপরিচ্ছন্ন টয়লেট থেকে ডায়রিয়া, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, কিডনি জটিলতা এমনকি হেপাটাইটিসের মতো রোগ ছড়াতে পারে। বিশেষ করে অনেক ছাত্রী নোংরা টয়লেট এড়িয়ে চলায় দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘদিনেও জনসাধারণের টয়লেট নেই
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছর পার হলেও দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা টয়লেট তৈরি হয়নি। ফলে বাইরের লোকজনও শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ব্যবহৃত টয়লেটের ওপর নির্ভর করছেন, যা সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সমাধানের দাবি
শিক্ষার্থীদের মতে, দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এই সংকট আরও ভয়াবহ হবে। স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য দুটিই ঝুঁকির মুখে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















