বাংলাদেশে হামের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ২০,৩৫২টি সন্দেহজনক হামের কেস শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩,০৬৫টি ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্যু হামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৩০টি নিশ্চিত। মহামারিটি ইতিমধ্যে দেশের ৬৪টির মধ্যে ৫৮টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ঢাকায় সর্বোচ্চ সংক্রমণ, বরিশালে সবচেয়ে বেশি হার
বিভাগওয়ারি তুলনায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক কেস রিপোর্ট হয়েছে ঢাকা বিভাগে — ৭,৭৫৮টি। তবে প্রতি মিলিয়ন জনসংখ্যার অনুপাতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ হার বরিশাল বিভাগে (প্রতি মিলিয়নে ৩৯.৪)। এর পরে রয়েছে ঢাকা (৩৫), ময়মনসিংহ (২৯.৬) এবং রাজশাহী (২৮.৩)।

সরকারের টিকাদান অভিযান শুরু
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের সহায়তায় সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান শুরু করেছে। প্রথম ধাপে ১৮টি জেলার উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ১২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সারাদেশে ২১ মে’র মধ্যে অভিযান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন এই অবস্থা?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ধাক্কায় নির্ধারিত টিকাদান কার্যক্রম পিছিয়ে পড়েছিল এবং ঈদের ছুটিতে ব্যাপক মানুষের চলাচল এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করেছে। ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটির প্রধান মাহমুদুর রহমান বলেছেন, “আমরা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু দুর্বল টিকাদান কর্মসূচির কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।”
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















