০২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে উত্তেজনা, সংঘর্ষ-গ্রেফতার-সেনা মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক মণিপুরে নতুন করে হত্যাকাণ্ড, দ্রুত তদন্ত ও শান্তি ফেরাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চায় কংগ্রেস বিজেপি মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সীমা পুনর্নির্ধারণ চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল: কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে.সি. ভেনুগোপাল এআইএডিএমকেকে বিজেপির  নিয়ন্ত্রণে : ওদের ভোট দেবেন না -কেজরিওয়াল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকচাপায় কিশোর নিহত, দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার বাদ দিতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’: কেন এই যুক্তি প্রশ্নের মুখে এলসি পতন, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বৈশ্বিক চাপ—বাংলাদেশের ব্যবসা এখন বহুমুখী সংকটে যুদ্ধবাজরা ইতিহাসকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে জেমস কনোলি: এডিনবরার সন্তান থেকে আইরিশ বিদ্রোহের সমাজতান্ত্রিক মুখ শীতল যুদ্ধের শিশুদের চোখে ভয়, প্রতিবাদ আর বেড়ে ওঠার গল্প—নতুন গবেষণায় উঠে এলো অজানা ইতিহাস

সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব: ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

বিশ্বজুড়ে আধুনিক যুদ্ধের ধরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে—সস্তা প্রযুক্তির ড্রোন কীভাবে ব্যয়বহুল সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। মাত্র কয়েক হাজার ডলারের ড্রোন ঠেকাতে কখনও কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা যুদ্ধের অর্থনীতি ও কৌশল—দুটোকেই নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।

সস্তা ড্রোনের উত্থান

ইরানের তৈরি কিছু ড্রোন বাণিজ্যিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি, যার প্রতিটির উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। কিন্তু এই ড্রোনগুলোতে বিস্ফোরক বহন করার ক্ষমতা রয়েছে এবং এগুলো দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। ফলে অল্প খরচে বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে সংখ্যার জোরে আক্রমণ চালানো সম্ভব হচ্ছে।

Cheap drones are reshaping the war in the sky | The Business Standard

ব্যয়বহুল প্রতিরোধ ব্যবস্থা

এই ড্রোন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হচ্ছে, তা অনেক বেশি ব্যয়বহুল। উদাহরণ হিসেবে যুদ্ধবিমান থেকে রকেট ছুড়ে ড্রোন ধ্বংস করতে হলে একটি ড্রোন নামাতে কয়েকগুণ বেশি অর্থ ব্যয় হয়।

এছাড়া স্থলভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জাহাজভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবস্থাগুলো মূলত বড় ও দ্রুতগতির লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য তৈরি। ফলে ছোট ও সস্তা ড্রোনের বিরুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করা অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

ড্রোন শনাক্তকরণে সীমাবদ্ধতা

ড্রোন শনাক্ত করা নিজেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আকাশ থেকে শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ হলেও সব সময় তা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে স্থলভিত্তিক রাডার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে—পৃথিবীর বক্রতার কারণে নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন সহজে ধরা পড়ে না।

এই সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়েই ড্রোন হামলা আরও কার্যকর হয়ে উঠছে।

Army Raises Enlistment Age Limit to 42 and Eases Marijuana Rules - The New  York Times

প্রতিরক্ষা ব্যয়ে চাপ

যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনেই যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। এর বড় অংশ গেছে ড্রোন প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে শুধু অর্থ নয়, অস্ত্রের মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।

কারণ প্রতিটি ড্রোনের বিপরীতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যা ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দেয়।

বিকল্প সমাধানের খোঁজ

ড্রোন মোকাবিলায় কম খরচের সমাধান খুঁজতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রতিরোধ ড্রোন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রু ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

লেজার প্রযুক্তি, যা খুব কম খরচে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হতে পারে। তবে এসব প্রযুক্তি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

The New Economics of War: How Cheap Drones Challenge Advanced Defense  Systems | Ratopati | No.1 Nepali News Portal

শেষ মুহূর্তের প্রতিরক্ষা

ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর খুব কাছাকাছি চলে এলে স্থলভিত্তিক দ্রুতগতি বন্দুক ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে কম খরচের হলেও এর কার্যকারিতা সীমিত, কারণ এটি খুব কাছাকাছি দূরত্বেই কাজ করে।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এমন এক সময়ে তৈরি, যখন বড় ও উচ্চগতির অস্ত্র ছিল প্রধান হুমকি। কিন্তু এখন সস্তা, ছোট ও সংখ্যায় বেশি ড্রোন সেই কাঠামোকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো—ব্যয় নয়, বরং অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি। কারণ দ্রুত নতুন অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব না হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট—ভবিষ্যতের যুদ্ধ শুধু শক্তির নয়, অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও প্রযুক্তিগত অভিযোজনের লড়াইও হয়ে উঠছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে উত্তেজনা, সংঘর্ষ-গ্রেফতার-সেনা মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব: ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

০২:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে আধুনিক যুদ্ধের ধরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে—সস্তা প্রযুক্তির ড্রোন কীভাবে ব্যয়বহুল সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। মাত্র কয়েক হাজার ডলারের ড্রোন ঠেকাতে কখনও কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা যুদ্ধের অর্থনীতি ও কৌশল—দুটোকেই নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।

সস্তা ড্রোনের উত্থান

ইরানের তৈরি কিছু ড্রোন বাণিজ্যিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি, যার প্রতিটির উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। কিন্তু এই ড্রোনগুলোতে বিস্ফোরক বহন করার ক্ষমতা রয়েছে এবং এগুলো দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। ফলে অল্প খরচে বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে সংখ্যার জোরে আক্রমণ চালানো সম্ভব হচ্ছে।

Cheap drones are reshaping the war in the sky | The Business Standard

ব্যয়বহুল প্রতিরোধ ব্যবস্থা

এই ড্রোন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হচ্ছে, তা অনেক বেশি ব্যয়বহুল। উদাহরণ হিসেবে যুদ্ধবিমান থেকে রকেট ছুড়ে ড্রোন ধ্বংস করতে হলে একটি ড্রোন নামাতে কয়েকগুণ বেশি অর্থ ব্যয় হয়।

এছাড়া স্থলভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জাহাজভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবস্থাগুলো মূলত বড় ও দ্রুতগতির লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য তৈরি। ফলে ছোট ও সস্তা ড্রোনের বিরুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করা অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

ড্রোন শনাক্তকরণে সীমাবদ্ধতা

ড্রোন শনাক্ত করা নিজেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আকাশ থেকে শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ হলেও সব সময় তা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে স্থলভিত্তিক রাডার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে—পৃথিবীর বক্রতার কারণে নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন সহজে ধরা পড়ে না।

এই সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়েই ড্রোন হামলা আরও কার্যকর হয়ে উঠছে।

Army Raises Enlistment Age Limit to 42 and Eases Marijuana Rules - The New  York Times

প্রতিরক্ষা ব্যয়ে চাপ

যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনেই যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। এর বড় অংশ গেছে ড্রোন প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে শুধু অর্থ নয়, অস্ত্রের মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।

কারণ প্রতিটি ড্রোনের বিপরীতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যা ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দেয়।

বিকল্প সমাধানের খোঁজ

ড্রোন মোকাবিলায় কম খরচের সমাধান খুঁজতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রতিরোধ ড্রোন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রু ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

লেজার প্রযুক্তি, যা খুব কম খরচে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হতে পারে। তবে এসব প্রযুক্তি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

The New Economics of War: How Cheap Drones Challenge Advanced Defense  Systems | Ratopati | No.1 Nepali News Portal

শেষ মুহূর্তের প্রতিরক্ষা

ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর খুব কাছাকাছি চলে এলে স্থলভিত্তিক দ্রুতগতি বন্দুক ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে কম খরচের হলেও এর কার্যকারিতা সীমিত, কারণ এটি খুব কাছাকাছি দূরত্বেই কাজ করে।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এমন এক সময়ে তৈরি, যখন বড় ও উচ্চগতির অস্ত্র ছিল প্রধান হুমকি। কিন্তু এখন সস্তা, ছোট ও সংখ্যায় বেশি ড্রোন সেই কাঠামোকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো—ব্যয় নয়, বরং অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি। কারণ দ্রুত নতুন অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব না হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট—ভবিষ্যতের যুদ্ধ শুধু শক্তির নয়, অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও প্রযুক্তিগত অভিযোজনের লড়াইও হয়ে উঠছে।