০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
জীবনরক্ষাকারী ওষুধের পথে কেন এত বাধা মানুষের গল্প ক্যামেরায়: দূরত্ব পেরিয়ে চিকিৎসার খোঁজে এক মানবিক যাত্রা নিয়ম ভেঙে সুরের নতুন ভাষা, মঞ্চে একা দাঁড়িয়ে সঙ্গীতের সীমানা বদলে দিচ্ছেন আলিসা ওয়াইলারস্টাইন লোডশেডিং চরমে, গরমে নাজেহাল জনজীবন ও উৎপাদন ব্যাহত ইউয়ানে লৌহ আকরিকের দাম নির্ধারণে নতুন অধ্যায়, ডলারের আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ লোম্বক প্রণালীতে চীনা ড্রোন উদ্ধার, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রতলের নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা তীব্র কৃত্রিমভাবে তৈরি জ্বালানি সংকট, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি মির্জা ফখরুলের হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেশে বাড়ছে সংক্রমণ বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা ঝিনাইদহে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল গৃহবধূর

ম্যান্ডেলসনের প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ক্লায়েন্ট চীনা সামরিক সংশ্লিষ্ট কোম্পানি—যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় এক সংকট 

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী রাজনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসনের প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় ক্লায়েন্ট হিসেবে উঠে এসেছে একটি চীনা কোম্পানির নাম, যার সঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনীর যোগসূত্র থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফাঁস হওয়া নথি থেকে এই তথ্য সামনে আসায় নতুন করে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গ্লোবাল কাউন্সিল নামের ওই লবিং প্রতিষ্ঠানে ম্যান্ডেলসন শেয়ার ধরে রেখেছিলেন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত থাকার সময়ও। নথি অনুযায়ী, সাংহাইভিত্তিক লাইফ সায়েন্স কোম্পানি উক্সি অ্যাপটেক থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অর্থ আয় করেছে, যা তাদের আয়ের তালিকায় শীর্ষে ছিল।

চীনা সামরিক সংযোগের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ইতোমধ্যেই উক্সি অ্যাপটেককে এমন একটি কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যারা চীনের সামরিক খাতে সহায়তা দিতে পারে। এছাড়া কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও আগে থেকেই রয়েছে।

যদিও কোম্পানির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, যথাযথ প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অন্যায্য।

Olly Robbins, Brexit adviser to Prime Minister Theresa May, smiling and wearing a suit and tie, with another man and a city street in the background.

নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন

এই তথ্য প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে—ম্যান্ডেলসনের নিয়োগের সময় নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় কী ঘটেছিল এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এ বিষয়ে কতটা জানতেন।

সরকারি সূত্র বলছে, নিরাপত্তা যাচাই সংস্থা তার নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তবে সেই তথ্য সময়মতো প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের কাছে পৌঁছায়নি।

ম্যান্ডেলসন পরে তার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও শেয়ার ধরে রাখেন, যা সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও বিতর্ক

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা ওলি রবিন্স এই তথ্য গোপন রেখেছিলেন কিনা, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের দাবি, তিনি একাধিক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি জানাননি।

অন্যদিকে রবিন্সের সমর্থকদের বক্তব্য, নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া সরল ‘পাস বা ফেল’ নয়। বরং ঝুঁকি মূল্যায়নের পর কিছু শর্ত আরোপ করে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়ায় অনেক তথ্য গোপন রাখা বাধ্যতামূলক।

Prime Minister Sir Keir Starmer and British ambassador to the United States Peter Mandelson at a reception.

তাদের মতে, আইনি কাঠামোর কারণে সব তথ্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেয়ার করা সম্ভব ছিল না।

রাজনৈতিক চাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

ঘটনাটি সামনে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে সংসদে ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছে এবং পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।

একই সময়ে এই ইস্যু দলীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু নেতার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনাও এতে প্রভাবিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

কেউ কেউ বলছেন, নিয়ম মেনে কাজ করা হলেও যোগাযোগের ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আবার অন্যদের মতে, এটি সরাসরি রাজনৈতিক ব্যর্থতার উদাহরণ।

পুরো ঘটনাটি এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় এক সংকটে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া, সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা—সবকিছুই এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগামী দিনগুলোতে এই বিতর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Ciaran Martin of the National Cyber Security Centre speaking at The Times CEO Summit.

 

Photo of Sue Gray.

 

Catherine Little, Chief Operating Officer for the Civil Service, walking in Westminster, London.

 

 

জীবনরক্ষাকারী ওষুধের পথে কেন এত বাধা

ম্যান্ডেলসনের প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ক্লায়েন্ট চীনা সামরিক সংশ্লিষ্ট কোম্পানি—যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় এক সংকট 

০৩:১৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী রাজনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসনের প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় ক্লায়েন্ট হিসেবে উঠে এসেছে একটি চীনা কোম্পানির নাম, যার সঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনীর যোগসূত্র থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফাঁস হওয়া নথি থেকে এই তথ্য সামনে আসায় নতুন করে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গ্লোবাল কাউন্সিল নামের ওই লবিং প্রতিষ্ঠানে ম্যান্ডেলসন শেয়ার ধরে রেখেছিলেন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত থাকার সময়ও। নথি অনুযায়ী, সাংহাইভিত্তিক লাইফ সায়েন্স কোম্পানি উক্সি অ্যাপটেক থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অর্থ আয় করেছে, যা তাদের আয়ের তালিকায় শীর্ষে ছিল।

চীনা সামরিক সংযোগের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ইতোমধ্যেই উক্সি অ্যাপটেককে এমন একটি কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যারা চীনের সামরিক খাতে সহায়তা দিতে পারে। এছাড়া কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও আগে থেকেই রয়েছে।

যদিও কোম্পানির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, যথাযথ প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং অন্যায্য।

Olly Robbins, Brexit adviser to Prime Minister Theresa May, smiling and wearing a suit and tie, with another man and a city street in the background.

নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন

এই তথ্য প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে—ম্যান্ডেলসনের নিয়োগের সময় নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় কী ঘটেছিল এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এ বিষয়ে কতটা জানতেন।

সরকারি সূত্র বলছে, নিরাপত্তা যাচাই সংস্থা তার নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তবে সেই তথ্য সময়মতো প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের কাছে পৌঁছায়নি।

ম্যান্ডেলসন পরে তার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও শেয়ার ধরে রাখেন, যা সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও বিতর্ক

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা ওলি রবিন্স এই তথ্য গোপন রেখেছিলেন কিনা, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের দাবি, তিনি একাধিক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি জানাননি।

অন্যদিকে রবিন্সের সমর্থকদের বক্তব্য, নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া সরল ‘পাস বা ফেল’ নয়। বরং ঝুঁকি মূল্যায়নের পর কিছু শর্ত আরোপ করে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়ায় অনেক তথ্য গোপন রাখা বাধ্যতামূলক।

Prime Minister Sir Keir Starmer and British ambassador to the United States Peter Mandelson at a reception.

তাদের মতে, আইনি কাঠামোর কারণে সব তথ্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেয়ার করা সম্ভব ছিল না।

রাজনৈতিক চাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

ঘটনাটি সামনে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে সংসদে ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছে এবং পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।

একই সময়ে এই ইস্যু দলীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু নেতার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনাও এতে প্রভাবিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

কেউ কেউ বলছেন, নিয়ম মেনে কাজ করা হলেও যোগাযোগের ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আবার অন্যদের মতে, এটি সরাসরি রাজনৈতিক ব্যর্থতার উদাহরণ।

পুরো ঘটনাটি এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় এক সংকটে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া, সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা—সবকিছুই এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগামী দিনগুলোতে এই বিতর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Ciaran Martin of the National Cyber Security Centre speaking at The Times CEO Summit.

 

Photo of Sue Gray.

 

Catherine Little, Chief Operating Officer for the Civil Service, walking in Westminster, London.