পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নতুন করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে নানা দেশের শীর্ষ নেতারা চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। একইসঙ্গে রাশিয়া জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা চীনের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসতে পারে।
বুধবার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। এই বৈঠকের পর লাভরভ বলেন, হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ বিঘ্নিত থাকলে রাশিয়া চীনের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে
শুধু রাশিয়াই নয়, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং ভিয়েতনামের নেতা তো লামও এই সপ্তাহে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার প্রভাব মোকাবিলায় চীনকে কেন্দ্র করে এই কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই সক্রিয় ভূমিকা শুধু কূটনীতির ক্ষেত্রেই নয়, জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ।
চীনের মধ্যস্থতার চেষ্টা
বর্তমান সংকটে চীন নিজেকে এক স্থিতিশীল ও নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠকে শি জিনপিং স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি আলোচনায় চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তিনি বিশ্ব পরিস্থিতিকে “বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতায় ভরা” বলে উল্লেখ করেন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। এতে স্পেনও চীনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
ইরানের ওপর চীনের প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ওপর চীনের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে, যা এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক দেশ আশা করছে, চীন তার প্রভাব ব্যবহার করে ইরানকে সংযত হতে এবং কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরতে চাপ দিতে পারে।
বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো চায়, ইরানের হামলা বন্ধ হোক এবং স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক। এই প্রেক্ষাপটে চীনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাশিয়া-চীন সম্পর্ক আরও গভীর
রাশিয়া ও চীনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক গত কয়েক বছরে আরও শক্তিশালী হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমান জ্বালানি সংকটেও সেই ঘনিষ্ঠতা স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
বিশ্ব রাজনীতির এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে চীন এখন শুধু একটি অর্থনৈতিক শক্তি নয়, বরং কূটনৈতিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীর সংকট কত দ্রুত মেটে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















