আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করেছে চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আগের সহায়তা কমে যাওয়ায় যে বিশাল অর্থঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি পূরণ হয়নি।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা
গত মার্চে উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেং কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি সফরকালে খরা মোকাবিলায় নগদ সহায়তা ঘোষণা করে চীন। পাশাপাশি সোমালিয়া, টোগো, জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ায় খাদ্য সহায়তা পাঠানো হয়েছে। শুধু জাম্বিয়াতেই দুই লক্ষের বেশি মানুষ এই সহায়তার আওতায় এসেছে এবং জিম্বাবুয়েকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার টন চাল।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা বিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক দু শিয়াওহুই জানিয়েছেন, আফ্রিকার দেশগুলোকে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং কৃষিখাতে টেকসই সক্ষমতা গড়ে তুলতে জরুরি সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহায়তা দেওয়া হবে। লক্ষ্য হচ্ছে দেশগুলোকে আত্মনির্ভর করে তোলা।

স্বাস্থ্যখাতে চীনের নতুন উদ্যোগ
আফ্রিকায় স্বাস্থ্য কূটনীতিতেও সক্রিয় হয়েছে বেইজিং। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রায় ৩৪ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলারের অনুদান দিয়েছে চীন, যা ইউএনএইডস–এর সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। এই অর্থ দিয়ে প্রায় ৫৪ হাজার শিক্ষার্থী ও মাদক ব্যবহারকারীর মধ্যে এইচআইভি প্রতিরোধ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় আনুমানিক ৮০ লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। এতদিন এই খাতে প্রধান সহায়তাকারী ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পেপফার কর্মসূচি। চীনের এই অনুদানকে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাব
২০২৫ সালের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি সহায়তা কমিয়ে দেয় এবং ইউএসএআইডি–এর অধিকাংশ অনুদান বাতিল করে। এর ফলে আফ্রিকার স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি বাজেটের প্রায় ১৭ শতাংশ, অর্থাৎ বছরে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসত। সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে কিছু দেশে মোট তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি হারিয়ে যায়।
চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে
চীন সহায়তা বাড়ালেও বিশাল এই অর্থঘাটতি পূরণ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। জরুরি সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য টেকসই সমাধান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















