ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী দাতব্য প্রতিষ্ঠান টাটা ট্রাস্টকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাবেক ট্রাস্টি মেহলি মিস্ত্রি গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে ট্রাস্ট পরিচালনায় প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ট্রাস্টের সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনবিরুদ্ধ এবং এতে প্রতিষ্ঠানের সুশাসন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বেআইনি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
মেহলি মিস্ত্রি মুম্বইয়ের চ্যারিটি কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে দাবি করেছেন, ট্রাস্টের বোর্ডে সাম্প্রতিক যেসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা মহারাষ্ট্র পাবলিক ট্রাস্ট আইনের বিধান লঙ্ঘন করে করা হয়েছে। বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেছেন, আইন অনুযায়ী ট্রাস্টি পুনর্নিয়োগ ও মেয়াদ নির্ধারণে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তা মানা হয়নি।
বর্তমানে ট্রাস্টের বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে নোয়েল টাটা এবং সহ-সভাপতি হিসেবে ভেনু শ্রীনিবাসনের পাশাপাশি আরও কয়েকজন সদস্য রয়েছেন। তবে নতুন করে দুই সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মিস্ত্রি।

নিজের পুনর্নিয়োগ না হওয়া নিয়েও আপত্তি
গত বছর নভেম্বর মাসে পুনর্নিয়োগ না হওয়ায় ট্রাস্টি পদ থেকে সরে দাঁড়ান মেহলি মিস্ত্রি। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের একটি প্রস্তাব অনুযায়ী ট্রাস্টিদের পারস্পরিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা ছিল। সেই সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করেই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর ব্যক্তিগতভাবে ট্রাস্টে ফেরার আগ্রহ নেই। বরং তিনি চান, যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের মাধ্যমে অথবা একজন প্রশাসকের অধীনে ট্রাস্ট পরিচালিত হোক।
স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ
মেহলি মিস্ত্রি তাঁর অভিযোগে আরও গুরুতর বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এক ট্রাস্টি বিভিন্ন টাটা গ্রুপ কোম্পানি থেকে কমিশন ও সম্মানী হিসেবে প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থ গ্রহণ করেছেন, যা ট্রাস্টির দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এছাড়া আরেক ট্রাস্টির বিরুদ্ধেও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে ট্রাস্টির দায়িত্ব ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
ট্রাস্টের সুশাসন নিয়ে উদ্বেগ
মেহলি মিস্ত্রির অভিযোগে বলা হয়েছে, ট্রাস্ট পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব দেখা দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাঁর মতে, ট্রাস্টের কার্যক্রম সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যথাযথ সময়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

সামনে কী হতে পারে
এই অভিযোগের ভিত্তিতে চ্যারিটি কমিশনার বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানা গেছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে ট্রাস্টের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও পরিচালনা পদ্ধতি।
এই ঘটনা দেশের কর্পোরেট ও দাতব্য খাতে সুশাসনের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয় এবং এর প্রভাব কতদূর গড়ায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















