০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা: বিশেষ অংশীদারিত্ব থেকে হিসাবি লেনদেনের পথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ ইরানের ফিফা বিশ্বকাপের টিকেট বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৫ বাংলাদেশি আহত, দূতাবাস মাঠে ইরান-ইসরায়েল আবার থামল, কিন্তু শান্তি কতটা টেকসই? ব্যাংক অ্যাকাউন্টে TIN বাধ্যতামূলক হচ্ছে, কোটি গ্রাহকের জীবনে বড় পরিবর্তন টাঙ্গাইলে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রাক্তন আমলার নাম, সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার শুনানি ১৬ জুন রামিসা হত্যা: ১৯ দিনে ফাঁসির রায়, দেশজুড়ে স্বস্তি ইসলামী ব্যাংকে সংকট: সাত দিনে উঠে গেল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার পথে, তবে ‘সহনশীলতায়’ এগিয়ে তেহরান: বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে ইরানের ওপর। এই চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে তেহরান এখন যুদ্ধবিরতির সীমা ছাড়িয়ে একটি স্থায়ী সমঝোতার পথ খুঁজছে। তবে আলোচনার এই প্রক্রিয়ায় ইরান নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি সহনশীল বলে মনে করছে—যা সমঝোতা বিলম্বিত হওয়ার একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমঝোতার কাঠামো তৈরির চেষ্টা

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমেরসি জানিয়েছেন, ইরান দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক বা প্রাথমিক কাঠামোতে পৌঁছাতে আগ্রহী। এই চুক্তি হলে বর্তমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

তার মতে, প্রথম ধাপে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে, যা পরবর্তী দুই থেকে তিন মাসে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ভিত্তি তৈরি করবে। এই বৃহত্তর চুক্তির বিষয়গুলো ভবিষ্যতে বড় কূটনৈতিক বৈঠকেও গুরুত্ব পেতে পারে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা

সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী। ইরান একাধিকবার এই পথ খুলে আবার বন্ধ করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরান পথ খুলে দিয়ে পিছু হটছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসভঙ্গের কারণে তারা আবার প্রণালী বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে এই জলপথ এখন দুই দেশের টানাপোড়েনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলোচনায় প্রধান বাধাগুলো

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার পথে তিনটি বড় বাধা রয়েছে—

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের ভবিষ্যৎ
ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম সীমিত করা

Trump announces Israel and Lebanon agreement to 10-day ceasefire

এই তিনটি ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা চায়, যেখানে ইরান তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি সমঝোতায় আগ্রহী।

যুদ্ধের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা

ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির নেতৃত্ব ও সামরিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৯০০-এর বেশি হামলায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তবে যুদ্ধবিরতির পরও উত্তেজনা কমেনি। বিশেষ করে সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

আমেরসির মতে, কোনো সমঝোতা না হলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া অনিবার্য। ইতিমধ্যে ইরান নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে।

কূটনীতির পথে থাকার বার্তা

ইরানের কূটনৈতিক মহল বলছে, তারা আলোচনায় আগ্রহী হলেও এমন কোনো আলোচনা চায় না যা ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। তাদের মতে, ফলপ্রসূ আলোচনার জন্য অপর পক্ষকেও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে এবং কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।

তবে দেশের অভ্যন্তরে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

অর্থনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক প্রভাব

ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য তারা নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার চেষ্টা করছে।

এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোও এই সংঘাতের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তারা দ্রুত সমাধান চায়।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করতে রাজি নয়, যা ভবিষ্যৎ সমঝোতার জন্য বড় বাধা হয়ে থাকতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা: বিশেষ অংশীদারিত্ব থেকে হিসাবি লেনদেনের পথে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার পথে, তবে ‘সহনশীলতায়’ এগিয়ে তেহরান: বিশ্লেষণ

০৬:৩৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে ইরানের ওপর। এই চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে তেহরান এখন যুদ্ধবিরতির সীমা ছাড়িয়ে একটি স্থায়ী সমঝোতার পথ খুঁজছে। তবে আলোচনার এই প্রক্রিয়ায় ইরান নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি সহনশীল বলে মনে করছে—যা সমঝোতা বিলম্বিত হওয়ার একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমঝোতার কাঠামো তৈরির চেষ্টা

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমেরসি জানিয়েছেন, ইরান দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক বা প্রাথমিক কাঠামোতে পৌঁছাতে আগ্রহী। এই চুক্তি হলে বর্তমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

তার মতে, প্রথম ধাপে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে, যা পরবর্তী দুই থেকে তিন মাসে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ভিত্তি তৈরি করবে। এই বৃহত্তর চুক্তির বিষয়গুলো ভবিষ্যতে বড় কূটনৈতিক বৈঠকেও গুরুত্ব পেতে পারে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা

সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী। ইরান একাধিকবার এই পথ খুলে আবার বন্ধ করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরান পথ খুলে দিয়ে পিছু হটছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসভঙ্গের কারণে তারা আবার প্রণালী বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে এই জলপথ এখন দুই দেশের টানাপোড়েনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলোচনায় প্রধান বাধাগুলো

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার পথে তিনটি বড় বাধা রয়েছে—

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের ভবিষ্যৎ
ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম সীমিত করা

Trump announces Israel and Lebanon agreement to 10-day ceasefire

এই তিনটি ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা চায়, যেখানে ইরান তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি সমঝোতায় আগ্রহী।

যুদ্ধের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা

ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির নেতৃত্ব ও সামরিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৯০০-এর বেশি হামলায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তবে যুদ্ধবিরতির পরও উত্তেজনা কমেনি। বিশেষ করে সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

আমেরসির মতে, কোনো সমঝোতা না হলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া অনিবার্য। ইতিমধ্যে ইরান নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে।

কূটনীতির পথে থাকার বার্তা

ইরানের কূটনৈতিক মহল বলছে, তারা আলোচনায় আগ্রহী হলেও এমন কোনো আলোচনা চায় না যা ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। তাদের মতে, ফলপ্রসূ আলোচনার জন্য অপর পক্ষকেও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে এবং কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।

তবে দেশের অভ্যন্তরে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

অর্থনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক প্রভাব

ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য তারা নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার চেষ্টা করছে।

এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোও এই সংঘাতের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তারা দ্রুত সমাধান চায়।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করতে রাজি নয়, যা ভবিষ্যৎ সমঝোতার জন্য বড় বাধা হয়ে থাকতে পারে।