বাংলাদেশে পোলট্রি খাত বর্তমানে কঠিন সংকটের মুখে। বাজারে ডিমের দাম কমে যাওয়ায় খামারিরা প্রতি ডিমে অন্তত ২ টাকা করে লোকসান দিচ্ছেন। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন ক্ষুদ্র খামারিরা, যাদের ওপরই পুরো খাতটি অনেকাংশে নির্ভরশীল।
ক্ষুদ্র খামারিদের সংকট আরও গভীর
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, বাজার পরিস্থিতি দ্রুত সামাল না দিলে ক্ষুদ্র উৎপাদকরা ভেঙে পড়তে পারেন। তিনি বলেন, এই ছোট খামারিরাই খাতের মূল শক্তি। তাদের ক্ষতি হলে পুরো পোলট্রি শিল্পই বিপদের মুখে পড়বে।
সংলাপে তিনি আরও বলেন, বড় ব্যবসায়ীদের উচিত ক্ষুদ্র খামারিদের পাশে দাঁড়ানো। কারণ তারা বর্তমানে উৎপাদন খরচের নিচে ডিম বিক্রি করছেন এবং একই সঙ্গে ঋণ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
ঋণ ও ভ্যাকসিন নিয়ে উদ্বেগ
প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য ঋণ সুবিধা পুনরায় চালু করা জরুরি। বিশেষ করে বাচ্চা মুরগি কেনার জন্য সহজ ঋণের ব্যবস্থা না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে।
ভ্যাকসিন সরবরাহ নিয়েও তিনি সতর্কতা দেন। নিম্নমানের ভ্যাকসিন সরবরাহ করলে খামারিরা আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই আমদানিকারকদের মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষক কার্ডে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ
ঋণ জটিলতা ও করের চাপ কমাতে পোলট্রি খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এর ফলে তারা সহজে ঋণ পেতে পারবেন এবং করসংক্রান্ত সমস্যাও কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নীতিগত সহায়তার আশ্বাস
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন জানান, খাতটির জন্য কর ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মকানুন ও পরিচালনাগত সমস্যাগুলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
দেশীয় ভ্যাকসিন উৎপাদনের সম্ভাবনা
বর্তমানে দেশে মোট প্রয়োজনের প্রায় ১২ শতাংশ প্রাণী ভ্যাকসিন উৎপাদন করা হয়। তবে সামান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এই সক্ষমতা দ্বিগুণ করা সম্ভব বলে জানান সচিব। সরকার ইতোমধ্যে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনায় কাজ করছে।
মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান বলেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ পোলট্রি খামারি ক্ষুদ্র পর্যায়ের এবং তারা খাদ্য, বাচ্চা ও অর্থায়নের জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রপ্তানির সম্ভাবনা সামনে
খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যথাযথ নীতিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশ শুধু দেশের চাহিদা পূরণই করতে পারবে না, বরং ২০৩০ সালের মধ্যে পোলট্রি পণ্য রপ্তানিও শুরু করতে পারবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















