জাতীয় সংসদে বক্তব্যের সময় এক সদস্যের প্রতি ‘অশালীন অঙ্গভঙ্গি’ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি সংসদে শালীনতা বজায় রাখা এবং কথা বলার ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ক্রম অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
রবিবার (১৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৬তম দিনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলছিল। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের সময় ট্রেজারি বেঞ্চের কিছু সদস্যের আচরণ নিয়ে আপত্তি ওঠে।

বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিক্রিয়া
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সময় কিছু সদস্যের অশালীন অঙ্গভঙ্গি তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি জানান, অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। সংসদে সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি আরও বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হলেও, সুযোগ বণ্টনে যে বৈষম্য দেখা যাচ্ছে তা উদ্বেগজনক।
স্পিকারের অবস্থান
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার সবাইকে সংসদীয় শিষ্টাচার মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে সংসদ পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন এবং সুস্থ আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার কথা বলেন।

চিফ হুইপের মন্তব্য
সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সংসদে প্রায় ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন। তারা নিজেদের এলাকা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ একাধিকবার সুযোগ পেলেও অনেক নতুন সদস্য একবারও কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন না।
তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যারা আগে নোটিশ দেবেন, তাদের বক্তব্য যেন সেই ক্রমানুসারে তালিকাভুক্ত করা হয়। এতে নতুন সদস্যরা উৎসাহ পাবেন এবং সংসদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















