১০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় দেশে ফিরছেন শ্রমিকরা, রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কায় বাংলাদেশসহ এশিয়ায় নতুন সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরছেন। এর ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে।

যুদ্ধের প্রভাব: চাকরি হারিয়ে ফিরছেন শ্রমিকরা

ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত বহু প্রবাসী শ্রমিক হঠাৎ করেই কাজ হারাচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না।

একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, হঠাৎ চাকরি হারিয়ে পরিবার চালানোর সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি এখন হাজার হাজার পরিবারের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য এটি বড় সংকেত। বাংলাদেশে ২০২৫ সালে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের মোট অর্থনীতির একটি বড় অংশ।

যদি প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা কমে যায়, তাহলে এই প্রবাহও দ্রুত কমে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামান্য অর্থনৈতিক সংকোচনও রেমিট্যান্সে বড় পতন ঘটাতে পারে।

জ্বালানি সংকটের সঙ্গে দ্বিগুণ চাপ

এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।

ফলে একদিকে রেমিট্যান্স কমছে, অন্যদিকে জ্বালানি খরচ বাড়ছে—এই দ্বৈত চাপে বাংলাদেশসহ অনেক দেশই অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে।

বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা

এই পরিস্থিতিতে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা চলছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এখন সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে এসব দেশে কাজের সুযোগ তৈরি করা সহজ নয়। ভাষা, দক্ষতা এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

জুলাই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে | শিরোনাম | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

নতুন পথ তৈরির প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সময় শ্রমবাজার বৈচিত্র্য আনার। কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়িয়ে নতুন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

একই সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা নতুন বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারেন।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের শঙ্কা

রেমিট্যান্স শুধু অর্থনীতিকেই নয়, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রবাহ কমে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাই এই সংকট শুধু সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় দেশে ফিরছেন শ্রমিকরা, রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কায় বাংলাদেশসহ এশিয়ায় নতুন সংকট

১০:৫৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরছেন। এর ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে।

যুদ্ধের প্রভাব: চাকরি হারিয়ে ফিরছেন শ্রমিকরা

ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত বহু প্রবাসী শ্রমিক হঠাৎ করেই কাজ হারাচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না।

একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, হঠাৎ চাকরি হারিয়ে পরিবার চালানোর সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি এখন হাজার হাজার পরিবারের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেমিট্যান্সে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য এটি বড় সংকেত। বাংলাদেশে ২০২৫ সালে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের মোট অর্থনীতির একটি বড় অংশ।

যদি প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা কমে যায়, তাহলে এই প্রবাহও দ্রুত কমে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামান্য অর্থনৈতিক সংকোচনও রেমিট্যান্সে বড় পতন ঘটাতে পারে।

জ্বালানি সংকটের সঙ্গে দ্বিগুণ চাপ

এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।

ফলে একদিকে রেমিট্যান্স কমছে, অন্যদিকে জ্বালানি খরচ বাড়ছে—এই দ্বৈত চাপে বাংলাদেশসহ অনেক দেশই অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে।

বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা

এই পরিস্থিতিতে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার চেষ্টা চলছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এখন সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে এসব দেশে কাজের সুযোগ তৈরি করা সহজ নয়। ভাষা, দক্ষতা এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

জুলাই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে | শিরোনাম | বাংলাদেশ  সংবাদ সংস্থা (বাসস)

নতুন পথ তৈরির প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সময় শ্রমবাজার বৈচিত্র্য আনার। কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়িয়ে নতুন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

একই সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা নতুন বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারেন।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের শঙ্কা

রেমিট্যান্স শুধু অর্থনীতিকেই নয়, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রবাহ কমে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাই এই সংকট শুধু সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।