তামিলনাড়ুর বিরুধুনগরের কাছে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২৩ জন শ্রমিক নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে আতশবাজি কারখানায় এটিকে অন্যতম বড় দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার ভয়াবহতা ও উদ্ধার অভিযান
রবিবার কাট্টানারপট্টি এলাকার ভানাজা আতশবাজি ইউনিটে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে বহু শ্রমিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেক দেহ পুড়ে অচেনা হয়ে যায়, আবার অনেকের দেহাংশ ছিটকে যায় চারদিকে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারকর্মীরা দেহাবশেষ সংগ্রহ করতে থাকেন। একটি শেড ধসে পড়ায় তার নিচে চাপা পড়ে আরও অনেকে নিহত হন।
দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ও নতুন আতঙ্ক
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ২০ মিনিটে, ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ১৭ জন আহত হন, যাদের মধ্যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যও ছিলেন। উপস্থিত উদ্ধারকর্মী ও সাংবাদিকরা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। এ সময় পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে এবং অনেক কর্মকর্তা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

আহতদের অবস্থা
মোট আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, বিশেষ করে দু’জনের শরীরের ৮০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। আহতদের মধ্যে একজন শিশু ও পাঁচজন নারীও রয়েছেন। সবাইকে দ্রুত বিরুধুনগর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাশাপাশি শিবকাশির হাসপাতালেও কিছু আহতকে পাঠানো হয়েছে।
নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারখানাটি রবিবার বন্ধ থাকার কথা থাকলেও অনুমতি ছাড়াই চালু ছিল। বিস্ফোরণের সময় প্রায় ৪০ জন শ্রমিক ভেতরে ও বাইরে কাজ করছিলেন। অথচ নিরাপত্তা নিয়ম অনুযায়ী রাসায়নিক মিশ্রণের স্থান থেকে দূরে পৃথক শেডে কাজ করার কথা ছিল। এই নিয়ম লঙ্ঘনের কারণেই হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা মানদণ্ড ও প্রশ্ন
নিয়ম অনুযায়ী একটি লাইসেন্সধারী আতশবাজি কারখানায় একসঙ্গে সীমিত সংখ্যক শ্রমিক কাজ করতে পারেন। কিন্তু এই ঘটনায় সেই সীমা অতিক্রম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেডগুলোর মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হলে এবং মৌলিক নিরাপত্তা নিয়ম মানা হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হতে পারত।
প্রশাসনের তৎপরতা

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ তদারকি করেন। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞদের আনা হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ
বিস্ফোরণের পর আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়। কারখানায় থাকা রাসায়নিক পদার্থের কারণে বারবার ছোট ছোট বিস্ফোরণ হচ্ছিল, যা আগুন নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তোলে। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
লাইসেন্স ও অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর কারখানাটির লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার কাছে সঠিক রাস্তা পর্যন্ত ছিল না, যা জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















