০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

মোদির টেলিভিশন ভাষণ ‘হতাশার বহিঃপ্রকাশ’: স্তালিন

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্তালিন অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণ ছিল “হতাশার বহিঃপ্রকাশ” এবং এটি মূলত সংসদে পরাজয়ের পর ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনী বিলকে ঘিরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও পরাজিত হয়েছে।

রাজনৈতিক বক্তব্য, সরকারি মঞ্চে

স্তালিন বলেন, মোদির ভাষণ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে জাতীয় পতাকার আড়ালে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ইঙ্গিতপূর্ণ অভিযোগ আনা হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া উচিত ছিল, সরকারি ভাষণে নয়। তিনি আরও দাবি করেন, এই ভাষণ নির্বাচন আচরণবিধিরও লঙ্ঘন।

‘ডিলিমিটেশন বিল’ নিয়ে বিতর্ক

স্তালিনের অভিযোগ, নারীদের সংরক্ষণের আড়ালে ডিলিমিটেশন বিলকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় এই কৌশল উল্টো ফল দিয়েছে এবং তা এখন এনডিএ জোটের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

From the autobiography: Tamil Nadu Chief Minister MK Stalin on how he got  his name

দক্ষিণে ক্ষোভ বাড়ছে

স্তালিন দাবি করেন, নির্বাচনের মাঝখানে একটি “কালো আইন” চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা দক্ষিণ ভারতের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এই ক্ষোভই নির্বাচনে বড় পরাজয়ের কারণ হবে।

তামিলনাড়ুতে চ্যালেঞ্জের মুখে বিজেপি

নির্বাচনী প্রচারে স্তালিন বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও যদি বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটকে পরাজিত করা যায়, তাহলে তামিলনাড়ুতে তাদের অবস্থা আরও দুর্বল হবে। তার মতে, এখানে বিজেপির কোনো শক্ত ভিত্তি নেই।

খারগের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খারগে অভিযোগ করেন, নারীদের সংরক্ষণের অজুহাতে ডিলিমিটেশন আনার চেষ্টা হয়েছে, যা আসলে ডিএমকে-কে পরাজিত করার রাজনৈতিক কৌশল। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনী বিলের সঙ্গে নারীদের সংরক্ষণের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

নারী সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

খারগে উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে বিরোধীদের সমর্থনে নারী সংরক্ষণ আইন পাস হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এতদিনেও সেই আইন বাস্তবায়ন করা হয়নি। তার মতে, এখন রাজনৈতিক প্রয়োজনে বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে।

Meet new Congress chief Mallikarjun Kharge, a Gandhi family loyalist

‘ঐতিহাসিক বিজয়’ দাবি

সংবিধান সংশোধনী বিলের পরাজয়কে “ঐতিহাসিক বিজয়” বলে উল্লেখ করেন খারগে। তিনি বলেন, এই পরাজয় প্রমাণ করে যে বিরোধী জোট গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সমতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বিরোধীদের অবস্থান

খারগে স্পষ্ট করে বলেন, বিরোধীরা নারীদের বিরুদ্ধে নয়। বরং তারা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সমতার পক্ষে। তিনি জনগণকে আহ্বান জানান, তারা যেন মোদি ও বিরোধী নেতৃত্বের মধ্যে বেছে নেয়।

জনসমর্থনের গুরুত্ব

খারগে বলেন, জনগণের ভোটের কারণেই ডিলিমিটেশন বিল থামানো সম্ভব হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই সমর্থন ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

মোদির টেলিভিশন ভাষণ ‘হতাশার বহিঃপ্রকাশ’: স্তালিন

০২:৩৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্তালিন অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণ ছিল “হতাশার বহিঃপ্রকাশ” এবং এটি মূলত সংসদে পরাজয়ের পর ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনী বিলকে ঘিরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও পরাজিত হয়েছে।

রাজনৈতিক বক্তব্য, সরকারি মঞ্চে

স্তালিন বলেন, মোদির ভাষণ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে জাতীয় পতাকার আড়ালে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ইঙ্গিতপূর্ণ অভিযোগ আনা হয়েছে। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া উচিত ছিল, সরকারি ভাষণে নয়। তিনি আরও দাবি করেন, এই ভাষণ নির্বাচন আচরণবিধিরও লঙ্ঘন।

‘ডিলিমিটেশন বিল’ নিয়ে বিতর্ক

স্তালিনের অভিযোগ, নারীদের সংরক্ষণের আড়ালে ডিলিমিটেশন বিলকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় এই কৌশল উল্টো ফল দিয়েছে এবং তা এখন এনডিএ জোটের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

From the autobiography: Tamil Nadu Chief Minister MK Stalin on how he got  his name

দক্ষিণে ক্ষোভ বাড়ছে

স্তালিন দাবি করেন, নির্বাচনের মাঝখানে একটি “কালো আইন” চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা দক্ষিণ ভারতের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এই ক্ষোভই নির্বাচনে বড় পরাজয়ের কারণ হবে।

তামিলনাড়ুতে চ্যালেঞ্জের মুখে বিজেপি

নির্বাচনী প্রচারে স্তালিন বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও যদি বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটকে পরাজিত করা যায়, তাহলে তামিলনাড়ুতে তাদের অবস্থা আরও দুর্বল হবে। তার মতে, এখানে বিজেপির কোনো শক্ত ভিত্তি নেই।

খারগের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খারগে অভিযোগ করেন, নারীদের সংরক্ষণের অজুহাতে ডিলিমিটেশন আনার চেষ্টা হয়েছে, যা আসলে ডিএমকে-কে পরাজিত করার রাজনৈতিক কৌশল। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনী বিলের সঙ্গে নারীদের সংরক্ষণের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

নারী সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

খারগে উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে বিরোধীদের সমর্থনে নারী সংরক্ষণ আইন পাস হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এতদিনেও সেই আইন বাস্তবায়ন করা হয়নি। তার মতে, এখন রাজনৈতিক প্রয়োজনে বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে।

Meet new Congress chief Mallikarjun Kharge, a Gandhi family loyalist

‘ঐতিহাসিক বিজয়’ দাবি

সংবিধান সংশোধনী বিলের পরাজয়কে “ঐতিহাসিক বিজয়” বলে উল্লেখ করেন খারগে। তিনি বলেন, এই পরাজয় প্রমাণ করে যে বিরোধী জোট গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সমতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বিরোধীদের অবস্থান

খারগে স্পষ্ট করে বলেন, বিরোধীরা নারীদের বিরুদ্ধে নয়। বরং তারা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সমতার পক্ষে। তিনি জনগণকে আহ্বান জানান, তারা যেন মোদি ও বিরোধী নেতৃত্বের মধ্যে বেছে নেয়।

জনসমর্থনের গুরুত্ব

খারগে বলেন, জনগণের ভোটের কারণেই ডিলিমিটেশন বিল থামানো সম্ভব হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই সমর্থন ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।