০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
হামে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৩৩ জন ফ্লু ভ্যাকসিন থেকে ডায়াবেটিসের ওষুধ—ডিমেনশিয়া ঝুঁকি কমাতে নতুন আশার ইঙ্গিত বিদ্যুৎ সংকট ‘সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে গেছে’, ঘাটতি তিন হাজার মেগাওয়াট: বিদ্যুৎ বিভাগ যুদ্ধের ধাক্কায় ডিজেলের দামে আগুন, পেট্রলকে ছাপিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট রানা প্লাজা ধস: ১৩ বছরেও বিচার মেলেনি, মোমবাতি হাতে সাভারে কাঁদলেন বেঁচে থাকা শ্রমিকেরা ইন্দোনেশিয়ার তরুণদের পছন্দে বড় পরিবর্তন: মার্কিন ব্র্যান্ড ছেড়ে চীনা পণ্যের দিকে ঝুঁকছে নতুন প্রজন্ম ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীকে ‘বিপদগ্রস্ত’ ঘোষণা করল মার্কিন পুলিশ রেকর্ড ভোটে উত্তাল বাংলা, কিন্তু ভোটার কমেছে ১২%—এসআইআরের ছায়ায় নতুন সমীকরণ ভার্জিনিয়ায় নতুন নির্বাচনী মানচিত্রে জয়, কংগ্রেস দখলে ডেমোক্র্যাটদের ‘কঠোর কৌশল’ স্পষ্ট মুর্শিদাবাদে নাম কাটার আতঙ্কে রেকর্ড ভোট, দীর্ঘ লাইনে ভরসা খুঁজলেন মানুষ

আই-প্যাককে বাংলা ছাড়ার চাপ, দাবি মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের মাত্র চার দিন আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে আই-প্যাককে ঘিরে। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল পরিচালনাকারী এই সংস্থাটি রাজ্যে কাজ স্থগিত করেছে—এমন জল্পনা ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

জল্পনা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া

কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, আই-প্যাকের দলকে ২০ দিনের জন্য ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে এবং সংস্থাটি কার্যত কাজ বন্ধ রেখেছে। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব দ্রুত এই দাবি খারিজ করে দেয়। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভোটের আগে বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যেই ছড়ানো হয়েছে।

তৃণমূল আরও জানায়, আই-প্যাকের দল আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে এবং নির্বাচনী প্রচার পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। দলের মতে, এই ধরনের প্রচার আসলে মাটির বাস্তব পরিস্থিতি থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা।

Jalpaiguri | CM Mamata Banerjee at North Bengal visit for 4 days dgtlds -  Anandabazar

মমতার অভিযোগ: চাপ দিয়ে সরানোর চেষ্টা

এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, আই-প্যাককে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, যদি সংস্থাটির কর্মীদের ভয় দেখানো হয়, তবে তিনি তাদের সবাইকে তৃণমূল দলে অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং কাজের ব্যবস্থা করবেন।

একটি জনসভায় তিনি বলেন, বিরোধীদের একাধিক সংস্থা থাকলেও তৃণমূলের জন্য মূলত একটি সংস্থাই কাজ করছে। সেই সংস্থাকে লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কাউকে চাকরি হারাতে দেবেন না এবং প্রয়োজনে তাদের দলের মধ্যেই জায়গা করে দেবেন।

নির্বাচনী কৌশলে আই-প্যাকের গুরুত্ব

গত কয়েকটি নির্বাচনে তৃণমূলের কৌশল নির্ধারণে আই-প্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জোরালো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই সংস্থার পরিকল্পনা বড় ভূমিকা রাখে। পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের আসন সংখ্যা বাড়াতে আই-প্যাকের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতলেন মোদি-অমিত শাহ

এই পরিস্থিতিতে যদি সংস্থাটি সত্যিই কাজ বন্ধ করে, তাহলে বিজেপির শক্তিশালী নির্বাচনী যন্ত্রের বিরুদ্ধে তৃণমূল বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক জনসভা করছেন, সঙ্গে বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও প্রচারে সক্রিয়।

তদন্ত ও আইনি জটিলতা

আই-প্যাককে ঘিরে বিতর্কের পেছনে তদন্ত সংস্থার পদক্ষেপও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কয়লা পাচার মামলায় সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতার বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায় তদন্তকারী সংস্থা। ওই সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেখানে উপস্থিত হয়ে কিছু নথি নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এরপর এপ্রিল মাসে একই মামলায় সংস্থার আরেক পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার জেরে বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি অভিযানও চালানো হয়েছে।

এই সব ঘটনার প্রেক্ষাপটে আই-প্যাককে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা এবং রাজনৈতিক চাপ নির্বাচনের আগে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৩৩ জন

আই-প্যাককে বাংলা ছাড়ার চাপ, দাবি মমতার

০২:৫০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের মাত্র চার দিন আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে আই-প্যাককে ঘিরে। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল পরিচালনাকারী এই সংস্থাটি রাজ্যে কাজ স্থগিত করেছে—এমন জল্পনা ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

জল্পনা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া

কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, আই-প্যাকের দলকে ২০ দিনের জন্য ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে এবং সংস্থাটি কার্যত কাজ বন্ধ রেখেছে। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব দ্রুত এই দাবি খারিজ করে দেয়। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভোটের আগে বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যেই ছড়ানো হয়েছে।

তৃণমূল আরও জানায়, আই-প্যাকের দল আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে এবং নির্বাচনী প্রচার পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। দলের মতে, এই ধরনের প্রচার আসলে মাটির বাস্তব পরিস্থিতি থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা।

Jalpaiguri | CM Mamata Banerjee at North Bengal visit for 4 days dgtlds -  Anandabazar

মমতার অভিযোগ: চাপ দিয়ে সরানোর চেষ্টা

এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, আই-প্যাককে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, যদি সংস্থাটির কর্মীদের ভয় দেখানো হয়, তবে তিনি তাদের সবাইকে তৃণমূল দলে অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং কাজের ব্যবস্থা করবেন।

একটি জনসভায় তিনি বলেন, বিরোধীদের একাধিক সংস্থা থাকলেও তৃণমূলের জন্য মূলত একটি সংস্থাই কাজ করছে। সেই সংস্থাকে লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কাউকে চাকরি হারাতে দেবেন না এবং প্রয়োজনে তাদের দলের মধ্যেই জায়গা করে দেবেন।

নির্বাচনী কৌশলে আই-প্যাকের গুরুত্ব

গত কয়েকটি নির্বাচনে তৃণমূলের কৌশল নির্ধারণে আই-প্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জোরালো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই সংস্থার পরিকল্পনা বড় ভূমিকা রাখে। পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের আসন সংখ্যা বাড়াতে আই-প্যাকের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতলেন মোদি-অমিত শাহ

এই পরিস্থিতিতে যদি সংস্থাটি সত্যিই কাজ বন্ধ করে, তাহলে বিজেপির শক্তিশালী নির্বাচনী যন্ত্রের বিরুদ্ধে তৃণমূল বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক জনসভা করছেন, সঙ্গে বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও প্রচারে সক্রিয়।

তদন্ত ও আইনি জটিলতা

আই-প্যাককে ঘিরে বিতর্কের পেছনে তদন্ত সংস্থার পদক্ষেপও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কয়লা পাচার মামলায় সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতার বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায় তদন্তকারী সংস্থা। ওই সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেখানে উপস্থিত হয়ে কিছু নথি নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এরপর এপ্রিল মাসে একই মামলায় সংস্থার আরেক পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার জেরে বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি অভিযানও চালানো হয়েছে।

এই সব ঘটনার প্রেক্ষাপটে আই-প্যাককে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা এবং রাজনৈতিক চাপ নির্বাচনের আগে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।