০৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধ-সমঝোতার আশায় তেলের দাম কমল, শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি ইন্দোনেশিয়ায় বিশাল গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার, এশিয়ার বাজারে প্রভাবের ইঙ্গিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে  বৈষম্য  ভারতের এলপিজি সরবরাহে কৌশলগত দুর্বলতা: আমদানিনির্ভর রান্নাঘরের ঝুঁকি বাড়ছে ইউপিএসসি প্রস্তুতির দীর্ঘ পথ মানসিক চাপে ভেঙে পড়ছেন প্রার্থীরা পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে উত্তেজনা, সংঘর্ষ-গ্রেফতার-সেনা মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক মণিপুরে নতুন করে হত্যাকাণ্ড, দ্রুত তদন্ত ও শান্তি ফেরাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চায় কংগ্রেস বিজেপি মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সীমা পুনর্নির্ধারণ চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল: কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে.সি. ভেনুগোপাল এআইএডিএমকেকে বিজেপির  নিয়ন্ত্রণে : ওদের ভোট দেবেন না -কেজরিওয়াল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকচাপায় কিশোর নিহত, দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

মানুষের মুখ চিনতে এআই আত্মবিশ্বাসী,বাস্তবে কি সঠিক 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি মানুষের মুখ চেনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী—নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষকরা বলছেন, এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই ভবিষ্যতে প্রতারণা ও ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

গবেষণার ফল যা বলছে

অস্ট্রেলিয়ার দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা এই গবেষণায় মোট ১২৫ জন অংশ নেন। এর মধ্যে ৩৬ জন ছিলেন তথাকথিত ‘সুপার রিকগনাইজার’—যাদের মুখ মনে রাখার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। বাকি ৮৯ জন ছিলেন সাধারণ অংশগ্রহণকারী।

অনলাইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সামনে একাধিক মুখ দেখানো হয়, যেগুলোর কিছু ছিল বাস্তব মানুষের ছবি এবং কিছু ছিল এআই দিয়ে তৈরি। তাদের কাজ ছিল কোনটি আসল আর কোনটি কৃত্রিম তা শনাক্ত করা।

Most people can't spot fake faces. Can you?

ফলাফল দেখায়, সুপার রিকগনাইজাররা কিছুটা ভালো করলেও সেই পার্থক্য ছিল খুবই সামান্য। অন্যদিকে সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের পারফরম্যান্স প্রায় অনুমানের কাছাকাছি ছিল। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সবাই নিজেদের দক্ষতা নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, যদিও বাস্তবে তাদের সাফল্য সেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মেলেনি।

সুপার রিকগনাইজার কারা

সুপার রিকগনাইজাররা সাধারণত জনসংখ্যার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। তারা বহু বছর আগে এক ঝলক দেখা কারও মুখও মনে রাখতে পারেন। এমনকি চেহারার বড় পরিবর্তন হলেও পরিচিত মুখ চিনতে পারেন। চলচ্চিত্র বা টেলিভিশনে পেছনের চরিত্রও তারা সহজে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

কেন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, এই ভুল আত্মবিশ্বাস মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডেটিং প্ল্যাটফর্ম বা পেশাদার নেটওয়ার্কে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা এখন অনেক সহজ হয়ে উঠছে।

Uncanny Average: Most People Can No Longer Spot an AI Face - Neuroscience  News

মানুষ যদি মনে করে তারা সহজেই আসল-নকল মুখ আলাদা করতে পারবে, তাহলে তারা প্রতারকদের ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। কারণ বাস্তবে এই কাজটি মানুষের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।

সামনে কী চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই বাস্তব ও কৃত্রিমের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে উঠছে। তাই শুধু ব্যক্তিগত দক্ষতার উপর নির্ভর না করে প্রযুক্তিগত যাচাই ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

একই সঙ্গে মানুষকে বোঝাতে হবে—নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস না দেখিয়ে বরং সতর্ক থাকা এখন সময়ের দাবি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধ-সমঝোতার আশায় তেলের দাম কমল, শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি

মানুষের মুখ চিনতে এআই আত্মবিশ্বাসী,বাস্তবে কি সঠিক 

১২:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি মানুষের মুখ চেনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী—নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষকরা বলছেন, এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই ভবিষ্যতে প্রতারণা ও ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

গবেষণার ফল যা বলছে

অস্ট্রেলিয়ার দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা এই গবেষণায় মোট ১২৫ জন অংশ নেন। এর মধ্যে ৩৬ জন ছিলেন তথাকথিত ‘সুপার রিকগনাইজার’—যাদের মুখ মনে রাখার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। বাকি ৮৯ জন ছিলেন সাধারণ অংশগ্রহণকারী।

অনলাইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সামনে একাধিক মুখ দেখানো হয়, যেগুলোর কিছু ছিল বাস্তব মানুষের ছবি এবং কিছু ছিল এআই দিয়ে তৈরি। তাদের কাজ ছিল কোনটি আসল আর কোনটি কৃত্রিম তা শনাক্ত করা।

Most people can't spot fake faces. Can you?

ফলাফল দেখায়, সুপার রিকগনাইজাররা কিছুটা ভালো করলেও সেই পার্থক্য ছিল খুবই সামান্য। অন্যদিকে সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের পারফরম্যান্স প্রায় অনুমানের কাছাকাছি ছিল। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সবাই নিজেদের দক্ষতা নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, যদিও বাস্তবে তাদের সাফল্য সেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মেলেনি।

সুপার রিকগনাইজার কারা

সুপার রিকগনাইজাররা সাধারণত জনসংখ্যার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। তারা বহু বছর আগে এক ঝলক দেখা কারও মুখও মনে রাখতে পারেন। এমনকি চেহারার বড় পরিবর্তন হলেও পরিচিত মুখ চিনতে পারেন। চলচ্চিত্র বা টেলিভিশনে পেছনের চরিত্রও তারা সহজে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

কেন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, এই ভুল আত্মবিশ্বাস মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডেটিং প্ল্যাটফর্ম বা পেশাদার নেটওয়ার্কে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা এখন অনেক সহজ হয়ে উঠছে।

Uncanny Average: Most People Can No Longer Spot an AI Face - Neuroscience  News

মানুষ যদি মনে করে তারা সহজেই আসল-নকল মুখ আলাদা করতে পারবে, তাহলে তারা প্রতারকদের ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। কারণ বাস্তবে এই কাজটি মানুষের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।

সামনে কী চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই বাস্তব ও কৃত্রিমের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে উঠছে। তাই শুধু ব্যক্তিগত দক্ষতার উপর নির্ভর না করে প্রযুক্তিগত যাচাই ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

একই সঙ্গে মানুষকে বোঝাতে হবে—নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস না দেখিয়ে বরং সতর্ক থাকা এখন সময়ের দাবি।