০৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
মুখ ধোয়ার সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার হাঁটেন—পেছনে লুকিয়ে ভিটামিন ঘাটতির সংকেত জাপানের বইপাড়ায় পর্যটনের ঢল: ভাষার বাধা, বদলাবে কি ঐতিহ্য? দক্ষিণ লেবাননে ‘বাফার জোন’ ধারণা ভ্রান্ত, শান্তির পথ নয় বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে ভেঙে পড়ার শঙ্কায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পশ্চিমবঙ্গ ভোট ২০২৬: প্রথম দফায় দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট পড়ল ৬২.১৮%, সহিংসতা ও ইভিএম সমস্যায় উত্তেজনা ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে ট্রাক ভাড়া ৫ হাজার টাকা বেড়েছে, যাত্রাপিছু খরচ এখন ২২ হাজারের কাছাকাছি সিলেট-শেরপুর রুটে ট্রাক ভাড়া ৫ হাজার থেকে বেড়ে ৭ হাজার টাকা নিক্কি ২২৫ সূচক ইতিহাসে প্রথমবার ৬০ হাজার ছাড়াল রাজশাহীতে ট্রাক ভাড়া ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা বেড়েছে, কৃষক-ব্যবসায়ীরা চাপে চট্টগ্রামে ট্রাক ভাড়া প্রতি ট্রিপে ভাড়া বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা

ওজন কমানোর ওষুধ বন্ধ করলে কি আবার বাড়বে ওজন? বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও করণীয়

ওজন কমানোর আধুনিক ওষুধ এখন অনেকের জন্য যেন এক আশীর্বাদ। নিয়মিত ব্যবহারে অল্প সময়েই শরীরের উল্লেখযোগ্য ওজন কমে যায়। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ওষুধ বন্ধ করার পর কী হয়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন আবার বাড়ার ঝুঁকি থাকে, তবে সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললে তা পুরোপুরি অনিবার্য নয়।

কেন আবার বাড়ে ওজন

গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে এক বছরে শরীরের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ওজন কমানো সম্ভব। কিন্তু ওষুধ বন্ধ করার পর পরবর্তী এক বছরে সেই কমানো ওজনের বড় অংশই আবার ফিরে আসতে পারে। এর মূল কারণ হলো এই ওষুধগুলো শরীরে তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে এমন হরমোনের মতো কাজ করে। ফলে ক্ষুধা কমে যায়। কিন্তু ওষুধ বন্ধ হলেই সেই প্রভাবও কমে যায়।

শরীরের স্বাভাবিক প্রবণতাও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। ওজন কমে গেলে শরীর আবার আগের অবস্থায় ফিরতে চায়। এতে ক্ষুধা বাড়ে, আর বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে সামান্য বেশি খাওয়াতেই দ্রুত ওজন বাড়তে পারে।

People coming off weight-loss injections risk fast weight gain

ওষুধ চলাকালীন সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ নেওয়ার সময়টাকে শুধু ওজন কমানোর জন্য নয়, নতুন জীবনধারা গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। এই সময় ক্ষুধা কম থাকায় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করা তুলনামূলক সহজ হয়।

ধীরে ধীরে খাওয়া, টিভি দেখার সময় অযথা খাওয়া বন্ধ করা, মানসিক চাপ থেকে খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ—এসব পরিবর্তন এই সময়েই গড়ে তুলতে হবে। কারণ এই অভ্যাসগুলোই পরে ওষুধ ছাড়ার পর সবচেয়ে বড় সহায়তা দেয়।

খাদ্যাভ্যাসে কী পরিবর্তন দরকার

ওষুধ বন্ধ করার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করা। এজন্য খাদ্যতালিকায় প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো জরুরি। এগুলো পেটে বেশি সময় থাকে এবং স্বাভাবিকভাবেই তৃপ্তির অনুভূতি বাড়ায়।

ডিম, মাছ, দই, ডাল, ওটস, বাদাম, শাকসবজি—এসব খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চিনি ও অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট কমানোও জরুরি। ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাসও তৃপ্তি বাড়াতে সহায়ক।

ব্যায়াম কেন অপরিহার্য

2 Ways to Measure Weight Loss That Have Nothing to Do With Pounds

নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ওষুধ বন্ধ করার পর নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যান, তাদের মধ্যে ওজন ধরে রাখার হার তুলনামূলক বেশি।

তবে এটি সহজ নয়। অনেকের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুরু থেকেই একটি বাস্তবসম্মত ব্যায়াম রুটিন তৈরি করা জরুরি।

সবাই কি একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব মানুষের ক্ষেত্রে ফল একরকম হয় না। কারও ক্ষেত্রে ওজন দ্রুত ফিরে আসে, আবার কেউ তুলনামূলকভাবে তা ধরে রাখতে পারেন। এর পেছনে জেনেটিক কারণ, জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাস—সবকিছুই প্রভাব ফেলে।

Weight Gain After Ozempic or Mounjaro: Why It Happens

তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ একটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। কারও জন্য শুধু খাদ্য ও ব্যায়াম যথেষ্ট, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

এখন গবেষণা চলছে এমন ওষুধ নিয়ে, যা ধীরে ধীরে কম মাত্রায় ব্যবহার করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। এতে একেবারে বন্ধ না করে ধীরে ধীরে নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ওজন কমানো যতটা সহজ হচ্ছে, তা ধরে রাখা ততটাই কঠিন। তাই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য জীবনধারার পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মুখ ধোয়ার সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার হাঁটেন—পেছনে লুকিয়ে ভিটামিন ঘাটতির সংকেত

ওজন কমানোর ওষুধ বন্ধ করলে কি আবার বাড়বে ওজন? বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ও করণীয়

১২:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ওজন কমানোর আধুনিক ওষুধ এখন অনেকের জন্য যেন এক আশীর্বাদ। নিয়মিত ব্যবহারে অল্প সময়েই শরীরের উল্লেখযোগ্য ওজন কমে যায়। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ওষুধ বন্ধ করার পর কী হয়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন আবার বাড়ার ঝুঁকি থাকে, তবে সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললে তা পুরোপুরি অনিবার্য নয়।

কেন আবার বাড়ে ওজন

গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে এক বছরে শরীরের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ওজন কমানো সম্ভব। কিন্তু ওষুধ বন্ধ করার পর পরবর্তী এক বছরে সেই কমানো ওজনের বড় অংশই আবার ফিরে আসতে পারে। এর মূল কারণ হলো এই ওষুধগুলো শরীরে তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে এমন হরমোনের মতো কাজ করে। ফলে ক্ষুধা কমে যায়। কিন্তু ওষুধ বন্ধ হলেই সেই প্রভাবও কমে যায়।

শরীরের স্বাভাবিক প্রবণতাও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। ওজন কমে গেলে শরীর আবার আগের অবস্থায় ফিরতে চায়। এতে ক্ষুধা বাড়ে, আর বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে সামান্য বেশি খাওয়াতেই দ্রুত ওজন বাড়তে পারে।

People coming off weight-loss injections risk fast weight gain

ওষুধ চলাকালীন সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ নেওয়ার সময়টাকে শুধু ওজন কমানোর জন্য নয়, নতুন জীবনধারা গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। এই সময় ক্ষুধা কম থাকায় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করা তুলনামূলক সহজ হয়।

ধীরে ধীরে খাওয়া, টিভি দেখার সময় অযথা খাওয়া বন্ধ করা, মানসিক চাপ থেকে খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ—এসব পরিবর্তন এই সময়েই গড়ে তুলতে হবে। কারণ এই অভ্যাসগুলোই পরে ওষুধ ছাড়ার পর সবচেয়ে বড় সহায়তা দেয়।

খাদ্যাভ্যাসে কী পরিবর্তন দরকার

ওষুধ বন্ধ করার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করা। এজন্য খাদ্যতালিকায় প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো জরুরি। এগুলো পেটে বেশি সময় থাকে এবং স্বাভাবিকভাবেই তৃপ্তির অনুভূতি বাড়ায়।

ডিম, মাছ, দই, ডাল, ওটস, বাদাম, শাকসবজি—এসব খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চিনি ও অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট কমানোও জরুরি। ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাসও তৃপ্তি বাড়াতে সহায়ক।

ব্যায়াম কেন অপরিহার্য

2 Ways to Measure Weight Loss That Have Nothing to Do With Pounds

নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ওষুধ বন্ধ করার পর নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যান, তাদের মধ্যে ওজন ধরে রাখার হার তুলনামূলক বেশি।

তবে এটি সহজ নয়। অনেকের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুরু থেকেই একটি বাস্তবসম্মত ব্যায়াম রুটিন তৈরি করা জরুরি।

সবাই কি একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব মানুষের ক্ষেত্রে ফল একরকম হয় না। কারও ক্ষেত্রে ওজন দ্রুত ফিরে আসে, আবার কেউ তুলনামূলকভাবে তা ধরে রাখতে পারেন। এর পেছনে জেনেটিক কারণ, জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাস—সবকিছুই প্রভাব ফেলে।

Weight Gain After Ozempic or Mounjaro: Why It Happens

তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ একটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। কারও জন্য শুধু খাদ্য ও ব্যায়াম যথেষ্ট, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

এখন গবেষণা চলছে এমন ওষুধ নিয়ে, যা ধীরে ধীরে কম মাত্রায় ব্যবহার করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। এতে একেবারে বন্ধ না করে ধীরে ধীরে নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ওজন কমানো যতটা সহজ হচ্ছে, তা ধরে রাখা ততটাই কঠিন। তাই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য জীবনধারার পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।