তামিলনাড়ুর নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আম আদমি পার্টির নেতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল অভিযোগ করেছেন, বিজেপি এখন এআইএডিএমকেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। তাঁর দাবি, এই জোটকে ভোট দিলে তামিলনাড়ুর বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ থেমে যাবে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রচারণা সভায় বক্তব্য
চেন্নাইয়ের এগমোর আসনে এক নির্বাচনী সভায়, যেখানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনও উপস্থিত ছিলেন, কেজরিওয়াল বলেন, এনডিএ আসলে আলাদা কোনো জোট নয়—এটি কার্যত বিজেপির নিয়ন্ত্রণে। তাঁর অভিযোগ, এআইএডিএমকে এখন পুরোপুরি বিজেপির প্রভাবাধীন এবং ভবিষ্যতে দলটি ভেঙে ফেলার আশঙ্কাও রয়েছে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে বিহারের রাজনীতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, যেভাবে সেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে, তেমনি তামিলনাড়ুতেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হতে পারে। তিনি বলেন, বিজেপির লক্ষ্য রাজ্য দখল করা, কিন্তু তামিলনাড়ুর মানুষ এই দলকে সমর্থন করে না।

‘ভুল সিদ্ধান্তের ফল’
দিল্লির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কেজরিওয়াল বলেন, এক বছর আগে সেখানে মানুষ ভুল করে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল। এর ফলে তাঁর সরকারের শুরু করা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি দাবি করেন, দিল্লিতে শুরু হওয়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উদ্যোগ, বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা, এমনকি বিদ্যুতের ভর্তুকিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন বেশি খরচের চাপে পড়েছে।
তামিলনাড়ুর উন্নয়ন মডেল
কেজরিওয়াল তামিলনাড়ুর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ পরিবারপ্রধান নারী প্রতি মাসে এক হাজার টাকা পাচ্ছেন, যা অন্য কোনো রাজ্যে নেই।
এছাড়া স্কুলে মুখ্যমন্ত্রীর প্রাতঃরাশ কর্মসূচি এবং উচ্চশিক্ষার জন্য ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ জনগণের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনছে।

সতর্কবার্তা ভোটারদের জন্য
কেজরিওয়াল ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, ভুল করে যদি এনডিএ, বিজেপি বা এআইএডিএমকেকে ভোট দেওয়া হয়, তাহলে তামিলনাড়ুর বর্তমান সরকারের ভালো কাজগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর অভিযোগ, এই জোটের মূল লক্ষ্য জনগণের স্বার্থ রক্ষা নয়, বরং নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা।
স্টালিনের বক্তব্য
সভায় এম কে স্টালিন বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি কেজরিওয়ালকে তামিলনাড়ুতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্র রক্ষায় এই লড়াই অব্যাহত রাখা জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















