পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়েছে একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওটিতে একজন ব্যক্তিকে মদ্যপান করতে এবং শিখ গুরুদের ছবিতে মদ ছিটাতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ভগবন্ত মান বলে দাবি করা হলেও তিনি তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।
এরই মধ্যে শিখদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ আকাল তখত মানকে ‘গুরু দোখি’ (গুরুবিরোধী) এবং ‘খালসা পন্থ বিরোধী’ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে তিনি ধর্মীয় নেতৃত্বকে বিভ্রান্ত করেছেন।
‘ভিডিওতে আমি নই’: মান
এক ভিডিও বার্তায় ভগবন্ত মান বলেন, ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও আকাল তখতের সামনে উপস্থিত হয়ে একই ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
মানের দাবি, ভিডিওতে দেখা ব্যক্তির উচ্চতা ও শারীরিক গঠন তার সঙ্গে মেলে না। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি সেই প্রচারণার অংশ হয়ে উঠছেন।
তিনি আরও বলেন, পাঞ্জাবের পানি, গুরবাণী, কৃষি ও তরুণদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি যে পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তা অনেকের সহ্য হচ্ছে না। তবে আকাল তখতের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পাঞ্জাবের মানুষের জন্য তিনি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে
চলতি বছরের শুরুতে ভগবন্ত মানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ‘গুরু কি গোলক’ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং ভাইরাল ভিডিওতে শিখ গুরুদের ছবি ও নিহত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা জর্নাইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালের ছবির সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করেছেন।
আকাল তখতের জাঠেদার জিয়ানি কুলদীপ সিং গারগাজ জানান, জানুয়ারিতে মান দাবি করেছিলেন ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। পরে ভিডিওটির ফরেনসিক পরীক্ষা করার জন্য আকাল তখত তার কাছে পরীক্ষাগারের সুপারিশ চাইলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফরেনসিক পরীক্ষার দাবি
আকাল তখতের দাবি, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকৃত দুটি ফরেনসিক পরীক্ষাগারে ভিডিওটি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে ভিডিওটি আসল এবং এআই-নির্মিত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গারগাজের ভাষ্য, শিখ সম্প্রদায় এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী আকাল তখতের সামনে ভিডিওটির বিষয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন। এর ভিত্তিতেই পাঁচ সিং সাহিবের বৈঠকে তাকে ‘গুরু দোখি’ ও ‘খালসা পন্থ বিরোধী’ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে শিখ সম্প্রদায়কে তার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আপের পাল্টা অভিযোগ
ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (আপ) ফরেনসিক প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলের নেতা বলতেজ সিং পান্নু বলেন, প্রতিবেদনে ভিডিওটি এআই-নির্মিত নয় বলা হলেও সেখানে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।
তার দাবি, ভিডিওতে দেখা ব্যক্তির উচ্চতা, পরিচয় কিংবা ঘটনাস্থল সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য প্রতিবেদনে নেই। ফলে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি যে ভগবন্ত মান, তা প্রমাণিত হয়নি।
বিরোধীদের পদত্যাগ দাবি
আকাল তখতের ঘোষণার পর বিরোধী দলগুলো মুখ্যমন্ত্রীর ওপর চাপ বাড়িয়েছে। পাঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং বলেছেন, আকাল তখতের এমন সিদ্ধান্তের পর ভগবন্ত মানের নৈতিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকার অধিকার নেই। তিনি অবিলম্বে মানের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
আরেক বিতর্কে আকাল তখত
এদিকে আকাল তখত পাঞ্জাব সরকারের ‘জগত জ্যোত শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহিব সৎকার (সংশোধনী) আইন, ২০২৬’ নিয়েও আপত্তি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ শিখ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই আইনটি পাস করা হয়েছে এবং উত্থাপিত আপত্তিগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।
এ কারণে আগামী ২৯ জুন পাঞ্জাব মন্ত্রিসভার সব শিখ মন্ত্রী (ভগবন্ত মান ছাড়া) এবং বিভিন্ন দলের শিখ বিধায়কদের আকাল তখতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অশিখ মন্ত্রীদের কাছেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পাঞ্জাবে ভগবন্ত মান বিতর্ক
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও বিতর্কে আকাল তখতের ‘গুরু দোখি’ ঘোষণা নতুন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















