০৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপে আজ ফ্রান্স-সেনেগাল ও আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, ইরান দলকে ঘিরে নাটক ‘নাইভস আউট ৩’ নেটফ্লিক্সে: বেনোয়া ব্লাঁর নতুন রহস্য নেটফ্লিক্সের এমজে ডকু নিয়ে ক্ষুব্ধ ভক্তদের একাংশ কান ২০২৬: ঐশ্বরিয়া নাকি আলিয়া — ফ্যাশন বিতর্কে সামাজিক মাধ্যম দ্বিধাবিভক্ত আলিয়া ভাটের ‘আলফা’ টিজারে ওয়াইআরএফ স্পাই ইউনিভার্সে নতুন অধ্যায় ১৯ জুন আসছে ‘ককটেল ২’: শাহিদ-ক্রিতি-রাশ্মিকার ত্রিকোণ প্রেম বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে বিটিএস, শাকিরা ও ম্যাডোনা বিটিএস-এর ১৩তম বার্ষিকী: ‘কাম ওভার’ স্ট্রিমিংয়ে, ‘সুইম’ বিলবোর্ডে শীর্ষে ব্রিটেনে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পরিকল্পনা ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য আলোচনার কেন্দ্রে

তৃণমূলে বড় ভাঙনের আশঙ্কা, ২০ সাংসদের এনসিপিআইতে যোগদানের দাবি; আদালতে ভবানীপুর ফল চ্যালেঞ্জ মমতার

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলটির ভেতরে অসন্তোষ ও বিভাজনের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে একীভূত হওয়ার দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফল চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।

বিদ্রোহী সাংসদদের পদক্ষেপ

তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, ২০ জন লোকসভা সদস্য এনসিপিআইয়ের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করবেন। এই গোষ্ঠী ইতোমধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিয়েছে।

স্পিকারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে। বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাক্ষরও যাচাই করা হবে। অনুমোদন মিললে এটি সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সংসদীয় রাজনীতির অন্যতম বড় দলত্যাগের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তৃণমূলের আপত্তি

তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিভাজনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী ‘স্প্লিট’ বা দলভাগের বিধান আর কার্যকর নয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস একটি অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল।

এদিকে বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ সুধীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য দল ছাড়েন, তাহলে তা সংবিধানসম্মত এবং দলত্যাগ হিসেবে গণ্য হয় না। তিনি বলেন, প্রকৃত তৃণমূল কোনটি, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই নেবে।

Why Did 20 Rebel Trinamool MPs Merge With The Little-Known NCPI? | Outlook  India

মমতার আইনি লড়াই

রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর আসনে নিজের পরাজয়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে নির্বাচন সংক্রান্ত আবেদন করেছেন। তিনি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ওই আসনে পরাজিত হন। আদালতে আবেদন দাখিলের জন্য মঙ্গলবার তিনি হাইকোর্টে উপস্থিত হন বলে জানা গেছে।

দলের ভেতরে চাপ বাড়ছে

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। এর আগে একদল বিধায়ক বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে পৃথক অবস্থান নেন। পরে কয়েকজন সাংসদ প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এনডিএকে সমর্থনের ইঙ্গিত দেন। বিদ্রোহী শিবিরে সায়নী ঘোষ, শতাব্দী রায়, দীপক অধিকারী, জুন মালিয়া, মালা রায়সহ একাধিক পরিচিত মুখের নাম উঠে এসেছে।

এদিকে তৃণমূলের কয়েকজন নেতা সাম্প্রতিক সময়ে ডিম নিক্ষেপের মতো হামলার শিকার হয়েছেন। দলীয় নেতা কুণাল ঘোষ ও যুব নেতা সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে পৃথক ঘটনায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

লোকসভার অঙ্কে প্রভাব

বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআইয়ের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এনডিএর লোকসভায় আসনসংখ্যা আরও বাড়বে। তবে তাতেও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যায় পৌঁছাবে না। ফলে বিষয়টি শুধু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে আজ ফ্রান্স-সেনেগাল ও আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, ইরান দলকে ঘিরে নাটক

তৃণমূলে বড় ভাঙনের আশঙ্কা, ২০ সাংসদের এনসিপিআইতে যোগদানের দাবি; আদালতে ভবানীপুর ফল চ্যালেঞ্জ মমতার

০৫:৫৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলটির ভেতরে অসন্তোষ ও বিভাজনের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে একীভূত হওয়ার দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফল চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।

বিদ্রোহী সাংসদদের পদক্ষেপ

তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, ২০ জন লোকসভা সদস্য এনসিপিআইয়ের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করবেন। এই গোষ্ঠী ইতোমধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিয়েছে।

স্পিকারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে। বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাক্ষরও যাচাই করা হবে। অনুমোদন মিললে এটি সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সংসদীয় রাজনীতির অন্যতম বড় দলত্যাগের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তৃণমূলের আপত্তি

তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিভাজনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী ‘স্প্লিট’ বা দলভাগের বিধান আর কার্যকর নয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস একটি অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল।

এদিকে বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ সুধীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য দল ছাড়েন, তাহলে তা সংবিধানসম্মত এবং দলত্যাগ হিসেবে গণ্য হয় না। তিনি বলেন, প্রকৃত তৃণমূল কোনটি, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই নেবে।

Why Did 20 Rebel Trinamool MPs Merge With The Little-Known NCPI? | Outlook  India

মমতার আইনি লড়াই

রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর আসনে নিজের পরাজয়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে নির্বাচন সংক্রান্ত আবেদন করেছেন। তিনি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ওই আসনে পরাজিত হন। আদালতে আবেদন দাখিলের জন্য মঙ্গলবার তিনি হাইকোর্টে উপস্থিত হন বলে জানা গেছে।

দলের ভেতরে চাপ বাড়ছে

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। এর আগে একদল বিধায়ক বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে পৃথক অবস্থান নেন। পরে কয়েকজন সাংসদ প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এনডিএকে সমর্থনের ইঙ্গিত দেন। বিদ্রোহী শিবিরে সায়নী ঘোষ, শতাব্দী রায়, দীপক অধিকারী, জুন মালিয়া, মালা রায়সহ একাধিক পরিচিত মুখের নাম উঠে এসেছে।

এদিকে তৃণমূলের কয়েকজন নেতা সাম্প্রতিক সময়ে ডিম নিক্ষেপের মতো হামলার শিকার হয়েছেন। দলীয় নেতা কুণাল ঘোষ ও যুব নেতা সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে পৃথক ঘটনায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

লোকসভার অঙ্কে প্রভাব

বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআইয়ের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এনডিএর লোকসভায় আসনসংখ্যা আরও বাড়বে। তবে তাতেও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যায় পৌঁছাবে না। ফলে বিষয়টি শুধু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।