কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে.সি. ভেনুগোপাল এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার মহিলাদের সংরক্ষণকে সামনে রেখে সংবিধান সংশোধনী বিলের মাধ্যমে সীমা পুনর্নির্ধারণ চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, সরকার ভেবেছিল এতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ভেঙে যাবে, কিন্তু জোটের ঐক্য তাদের পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ভেনুগোপাল বলেন, যখন কেরালার বিধানসভা নির্বাচন চলছিল, তখন তড়িঘড়ি করে সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল সংসদে আনা হয়। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল জরুরি পরিস্থিতির পরিবেশ তৈরি করে বিরোধীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং বিভাজন ঘটানো।
তিনি আরও বলেন, এই বিলের মাধ্যমে আসলে আসনগুলোর সীমা এমনভাবে পুনর্নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছিল যাতে তা রাজনৈতিকভাবে বিজেপির পক্ষে যায়। অসম ও জম্মু-কাশ্মীরে যেমন করা হয়েছে, তেমনভাবেই গোটা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলানোর পরিকল্পনা ছিল। মহিলাদের সংরক্ষণকে সামনে এনে প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে।
তার মতে, সরকার যেভাবে প্রতিটি সিদ্ধান্তকে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বা কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরে, বাস্তবে এই ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন সেই ব্যর্থতা ঢাকতে নতুন বর্ণনা দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।

বিরোধী জোটের ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আশা করেনি যে বিরোধীরা এতটা ঐক্যবদ্ধ থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তা-ই হয়েছে এবং এতে সরকার চাপে পড়েছে।
মহিলাবিরোধী প্রচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে ভেনুগোপাল বলেন, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে কাজ করে আসছে। স্থানীয় সরকারে সংরক্ষণ, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, প্রথম নারী স্পিকার ও প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি—সবই কংগ্রেসের উদ্যোগে হয়েছে। তাই মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি এই ইস্যুতে মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সীমা পুনর্নির্ধারণের চেষ্টা করেছিল, যা ব্যর্থ হয়েছে। এরপর তারা বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি সাংসদদের প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রস্তুত থাকা এই প্রচারের পূর্বপরিকল্পিত ইঙ্গিত দেয়।
জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, এই জোট গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছে। বিজেপির নীতি ‘ভাগ করে শাসন করা’, আর ইন্ডিয়া জোট মানুষের ঐক্যকে গুরুত্ব দেয়। রাজ্যভিত্তিক পার্থক্য থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে সবাই একসঙ্গে কাজ করছে।

কেরালার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট শক্তিশালী প্রচার চালিয়েছে এবং তারা সরকার গঠন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে এখনই আলোচনা করার প্রয়োজন নেই; সময় হলে গণতান্ত্রিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রসঙ্গে ভেনুগোপাল বলেন, তা ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং নির্বাচনের সময় সরকারি মঞ্চ ব্যবহার করে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি করে। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, সংস্থাটি কার্যত সরকারের প্রভাবে কাজ করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















