ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে না—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই অবস্থানের পরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে হঠাৎ প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র কয়েকটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইরান শেষ মুহূর্তের শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় ইরানি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালায়, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
ইউরোপে জ্বালানি উদ্বেগ
ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইউরোপেও পড়তে শুরু করেছে। বিমান চলাচলে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে কীভাবে তা মোকাবিলা করা হবে, সে বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও জার্মানির অর্থনীতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আপাতত জ্বালানি সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা নেই, তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন জটিলতা
একদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে ইউরোপে তেল সরবরাহের একটি বড় পাইপলাইন আবার চালু করা সম্ভব। অন্যদিকে শিল্প সূত্র বলছে, মে মাস থেকে কাজাখস্তান হয়ে জার্মানিতে তেল সরবরাহ বন্ধ করতে পারে রাশিয়া। এতে ইউরোপের জ্বালানি বাজার আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
জার্মানিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু মূল্যবৃদ্ধিই নয়, যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাবও অনুভব করতে শুরু করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ায় খুচরা বিক্রি বেড়েছে, বিশেষ করে পেট্রোল পাম্পগুলোতে আয়ের রেকর্ড বৃদ্ধি হয়েছে।

সুদের হার ও রাজনীতির টানাপোড়েন
যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সুদের হার কমানোর চাপ বাড়ছে, যা অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি বাড়ালেও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জটিলতা তৈরি করতে পারে। এতে তেলের চাহিদা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মজুতের দিকেও নজর
বিশ্ববাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুতের সাপ্তাহিক তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল তেল মজুত থেকে কমেছে। যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে দাম আরও বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















