মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জোহর রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারে রাজকীয় প্রতিষ্ঠানকে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হওয়া উচিত এবং এ ধরনের প্রতিযোগিতায় রাজপরিবারকে টেনে আনা দেশের ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য ভালো নয়।
সম্প্রতি একটি নির্বাচনী অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর এ বিষয়ে কথা বলেন আনোয়ার। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে বিদ্রূপ করা হয়নি। বরং নির্বাচনী প্রচারে তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত না করার বিষয়ে একটি মতামত তুলে ধরা হয়েছিল।
রাজকীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান
আনোয়ার বলেন, দেশের রাজকীয় প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বার্থে এ প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, জোহরের রিজেন্টের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াও ইতিবাচক। নির্বাচনকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের ওপর জোর
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ, পরিণত ও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নেওয়া। এমন কোনো ইস্যু সামনে আনা উচিত নয়, যা নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত বা বিভক্ত করে তুলতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব পক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ করবে এবং ভোটারদের কাছে নিজেদের কর্মসূচি ও নীতির ভিত্তিতে সমর্থন চাইবে।

বিশ্ব প্রতিযোগিতা সূচকে অগ্রগতির কৃতিত্ব সরকারি কর্মীদের
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে মালয়েশিয়ার উন্নতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আনোয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের যে অগ্রগতি হয়েছে, তার মূল শক্তি হলো সরকারি কর্মীদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সেবার মান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের অর্জন কোনো একক ব্যক্তির কারণে হয়নি। বরং দেশের প্রশাসনিক কাঠামো এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
সংস্কারে বাধা দুর্নীতিপ্রবণ গোষ্ঠী
আনোয়ার স্বীকার করেন, প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বাস্তবায়নে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সরকারকে। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে অস্বচ্ছ ব্যবস্থার সুবিধাভোগী কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগের সময়ই সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধ দেখা যায়। তবে দেশের অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদা বাড়াতে এই বাধা অতিক্রম করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সুশাসন, জবাবদিহি ও সততার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের সমর্থন সমানভাবে প্রয়োজন। পরিবর্তনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন অর্জন কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















