পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফস্তূপ দ্রুত গলছে, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে বিশ্বের উপকূলবর্তী শহরগুলোর ওপর। বিশেষ করে থোয়েটস হিমবাহের দ্রুত ক্ষয় বিজ্ঞানীদের গভীর উদ্বেগে ফেলেছে। এই হিমবাহ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়লে আগামী কয়েক দশকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় দুই ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা কোটি কোটি মানুষের জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দেবে।
হিমবাহ ভাঙনের আশঙ্কা ও বৈশ্বিক প্রভাব
বিজ্ঞানীদের মতে, থোয়েটস হিমবাহ শুধু নিজেই বিপজ্জনক নয়, এটি আশপাশের আরও অনেক হিমবাহকে আটকে রাখে। ফলে এটি ভেঙে গেলে পুরো পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফস্তূপ ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে সমুদ্রের পানির পরিমাণ দ্রুত বাড়বে, আর তার প্রভাব পড়বে বিশ্বের উপকূলজুড়ে।
বিশ্বের শহরগুলো কতটা ঝুঁকিতে
বিশ্বের বড় বড় শহরের অধিকাংশই উপকূলবর্তী এলাকায় গড়ে উঠেছে। ফলে সামান্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিও এসব শহরের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে এশিয়ার শহরগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যেখানে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং নিম্নভূমিতে বসবাসের প্রবণতা বেশি।
চীনের সাংহাই শহরে ইতিমধ্যেই লাখো মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে বসবাস করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ দুই ফুট বাড়লে আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একইভাবে বিশ্বের অন্যান্য উপকূলীয় শহরগুলোও ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বাংলাদেশ ও ঢাকার বাড়তি চাপ
বাংলাদেশের মতো নিম্নভূমির দেশগুলো এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যেই ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মাত্রা বেড়েছে। লবণাক্ত পানি কৃষিজমি নষ্ট করছে, ফলে গ্রাম থেকে মানুষ বাধ্য হয়ে শহরে, বিশেষ করে ঢাকায় আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যা ৫ কোটির বেশি হতে পারে। এই বিপুল জনসংখ্যার চাপ সামাল দিতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে, যার বড় অংশই ঋণের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে।
প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সীমাবদ্ধতা
উপকূলীয় শহরগুলোকে রক্ষা করতে বিশাল ব্যয় প্রয়োজন। কিছু ধনী দেশ তাদের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো রক্ষার পরিকল্পনা করছে, তবে সব জায়গা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ফলে অনেক এলাকা ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে।
অতীতের অভিজ্ঞতাও সতর্কবার্তা দিচ্ছে। বড় ধরনের বন্যা ও ঝড়ের সময় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে বিপর্যয় কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা আগেও দেখা গেছে।
ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত আজকের হাতে
বিজ্ঞানীরা বলছেন, থোয়েটস হিমবাহ কখন ভেঙে পড়বে, তা নির্ভর করছে বর্তমানের সিদ্ধান্তের ওপর। গবেষণায় বিনিয়োগ কমে গেলে বা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে।
তাদের মতে, আজ যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তার প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বহন করতে হবে। তাই এখনই সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উপকূলীয় শহরগুলোর জন্য সামনে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ বাড়ার হুমকিতে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলন, ঢাকাসহ উপকূলীয় শহরগুলোতে বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















