ভারতের কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন রাজ্যের গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ দেশের ফেডারেল কাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক।
চেন্নাইয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য
মঙ্গলবার চেন্নাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে খার্গে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সেক্যুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স ক্ষমতায় আসবে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রশ্ন
খার্গে বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে শাসক দলের সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে আচরণ করছে। তার মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি, পরবর্তী পর্যায়ে নাগরিক নিবন্ধন সংক্রান্ত পদক্ষেপ এবং সীমা নির্ধারণ কমিশনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা—সব মিলিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে।
নারী সংরক্ষণ বিল ও সীমা নির্ধারণ বিতর্ক
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগের জবাবে খার্গে বলেন, বিরোধী দল নারী সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করেনি; বরং ২০২৩ সালে বিলটি পাসের সময় তারা সমর্থন দিয়েছিল। তবে তারা সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তার যুক্তি, যেসব দক্ষিণী রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তাদের শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।
রাজ্যের অধিকার ও রাজনৈতিক জোট নিয়ে সমালোচনা
খার্গে দাবি করেন, বিজেপি রাজ্যগুলোর কাজে হস্তক্ষেপ করে এবং নিজেদের মতাদর্শ চাপিয়ে দিতে চায়। ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে দলটি তামিলনাড়ুতে এআইএডিএমকের সঙ্গে জোট করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু বিকল্প দল নিজেদের আলাদা শক্তি হিসেবে তুলে ধরলেও তারা মূলত ধর্মনিরপেক্ষ ভোট ভাগ করে দিয়ে পরোক্ষভাবে বিজেপিরই সুবিধা করে দেবে।
সার্বিক প্রেক্ষাপট
এই বক্তব্যের মাধ্যমে খার্গে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেন যে, আসন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে আদর্শগত এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি বড় ইস্যু হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















