ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জেট জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আগামী ছয় মাসে ২০ হাজার ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানির শীর্ষ এয়ারলাইন লুফথানসা গ্রুপ।
জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিকল্পনা
মঙ্গলবার কোম্পানিটি জানায়, মে মাস পর্যন্ত কোন কোন ফ্লাইট কমানো হবে তা ইতোমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন জেট জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, অন্তত আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য তাদের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কা
ইউরোপের বিভিন্ন এয়ারলাইন সতর্ক করে বলছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হবে। এর ফলে বিমান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার আকাশপথে এর প্রভাব পড়েছে, যার কারণে ফ্লাইট কমানো ও টিকিটে অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জ আরোপ করা হয়েছে।
দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি
ইউরোপ এই প্রণালী দিয়ে আসা জেট জ্বালানির সবচেয়ে বড় ভোক্তা। মোট আমদানির প্রায় ৪১ শতাংশই আসে এই পথ দিয়ে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক জেট জ্বালানির দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ইউরোপে জ্বালানি মজুত নিয়ে উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল গত সপ্তাহে জানান, ইউরোপে মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট জ্বালানি মজুত রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় ইউরোপের পরিবহন মন্ত্রীরা বৈঠক করেছেন।
বিকল্প জ্বালানি খোঁজার উদ্যোগ
ইউরোপীয় পরিবহন কমিশনার অ্যাপোস্টোলস জিৎসিকোস্তাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জরুরি মজুত ব্যবহারের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইউরোপজুড়ে জ্বালানি বিতরণ সমন্বয়ে জেট জ্বালানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ফ্লাইট পুনর্বিন্যাসে লুফথানসা
লুফথানসা জানিয়েছে, তারা মূলত স্বল্প দূরত্বের অলাভজনক ফ্লাইট বাতিল করবে, বিশেষ করে ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখ থেকে পরিচালিত রুটগুলোতে। তবে জুরিখ, ভিয়েনা ও ব্রাসেলস থেকে নতুন রুট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে কোম্পানিটি জ্বালানি ও খরচ কমাতে ২৭টি পুরোনো বিমান স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং গ্রীষ্মের শেষে কিছু দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইট বাতিল করছে।
অন্যান্য এয়ারলাইনের সতর্কবার্তা
ইউরোপের অন্যান্য এয়ারলাইনও জ্বালানির বাড়তি খরচ ও সম্ভাব্য ফ্লাইট বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কম খরচের এয়ারলাইন রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তাদের সরবরাহকারীরা মে মাসের বেশিরভাগ সময় পর্যন্তই জেট জ্বালানি নিশ্চিত করতে পারবে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কেএলএম জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি সংকট না থাকলেও খরচ কমাতে আমস্টারডাম থেকে ৮০টি রিটার্ন ফ্লাইট কমানো হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















