পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার প্রচার শেষ হয়েছে তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে। ভোটের আগে শেষ দিনজুড়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, বড় বড় সমাবেশ এবং উত্তপ্ত পরিবেশে রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী আবহ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
কোথায় কত আসনে ভোট
এই দফায় ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ১,৪৫২ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।
উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ—এই জেলাগুলোতে ভোট হবে। দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামেও একই দিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নির্বাচনকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ সদস্যের ২,৪৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতিটি বুথে শতভাগ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভিড় বা বুথ দখলের মতো পরিস্থিতি শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনও অনিয়ম ধরা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে পুনর্ভোটের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও কোচবিহারের ৮ হাজারের বেশি বুথকে ‘অতিসংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভোটের আগে সহিংসতা
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও ভোটের আগে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন এলাকায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। মোটরবাইক পোড়ানো, ভাঙচুর এবং প্রার্থীর আহত হওয়ার মতো ঘটনা সামনে আসে।
দুর্গাপুরেও একই ধরনের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।

শেষ দিনে জোর প্রচার
প্রচার শেষের দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শীর্ষ নেতাদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো।
একদিকে, বিরোধী শিবিরের নেতারা উন্নয়ন, অনুপ্রবেশ ও শিল্পের অভাবকে ইস্যু করে প্রচার চালান। অন্যদিকে, রাজ্যের শাসক দল তাদের সামাজিক প্রকল্প, বাঙালি পরিচয় ও সংস্কৃতির ওপর জোর দেয়।
শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কেউ প্রতিপক্ষকে ক্ষমতায় এলে রাজ্যের ক্ষতির আশঙ্কা দেখান, আবার কেউ নিজেদের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য দেন।
প্রধান প্রার্থী ও রাজনৈতিক সমীকরণ
এই দফায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শাসক দল, প্রধান বিরোধী দল এবং কংগ্রেস-সহ অন্যান্য জোট—সবাই শক্ত অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন কার্যত বহু পক্ষের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও মূল লড়াই কয়েকটি প্রধান শক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
নির্বাচনের মূল ইস্যু
নির্বাচনে মূল ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, অনুপ্রবেশ, আইনশৃঙ্খলা এবং আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রশ্ন।
শাসক দল চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে, অন্যদিকে বিরোধীরা সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রচার চালাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবারের ভোট শুধুমাত্র আসন সংখ্যা নির্ধারণই করবে না, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশও ঠিক করে দেবে।
Sarakhon Report 



















