ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ২৯৪টির মধ্যে ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয়েছে। সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হলেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার ভোটদানের হার ছিল ৯২.৩৫ শতাংশ, যা স্বাধীনতার পর রাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
১৬টি জেলায় সকাল ৭টা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এই দফায় মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণের জন্য ভোট দেন নাগরিকরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভোটারদের অংশগ্রহণকে প্রশংসা করে বলেন, এত উচ্চ ভোটদানের হার রাজ্যে আগে দেখা যায়নি।
রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, নির্বাচন কমিশনের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ভোটদানের উচ্চ হারে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটাররা ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দিয়েছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, যদিও উন্নতির সুযোগ সবসময়ই থাকে।

তবে কিছু এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, কোচবিহার এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং প্রার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব এলাকায় অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
মুর্শিদাবাদের ডোমকল ও নওদা এলাকায় ভোটের আগের দিনই উত্তেজনা ছড়ায়। ভোটের দিন ডোমকলের রায়পুর গ্রামে একটি কেন্দ্রে ভোটারদের অস্ত্রের মুখে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা দিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়।
/newsdrum-in/media/media_files/2026/04/23/suvendu-sarkar-attack-2026-04-23-14-54-27.jpg)
একই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-এর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হন। নওদার শিবনগরে তৃণমূল কংগ্রেস ও আজুপ দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষই সড়ক অবরোধ করে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী সুভেন্দু সরকারের ওপর তৃণমূল কর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। একটি কেন্দ্রে তার এজেন্টকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তিনি এক তৃণমূল কর্মীকে ধাওয়া করেন। পরে অন্য কেন্দ্রে গেলে তাকে ঘিরে ধরে মারধরের অভিযোগ ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে মারধর ও টানাহেঁচড়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
এছাড়া পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে পাথর ছোড়ার ঘটনায় গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এই বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনাগুলিকে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক। তিনি জানান, ঘটনাগুলো দুঃখজনক হলেও নিয়ন্ত্রণে ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে নওদা থেকে ৯ জন, দুবরাজপুর থেকে ৩ জন এবং কুমারগঞ্জ থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ভোটের দিনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অন্তত ৫৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















