পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অনেক সময়ই আলোচনায় উঠে আসে গামা-রে বিস্ফোরণের কথা। ১৯৬৩ সালের পার্শিয়াল টেস্ট ব্যান চুক্তির পর অবৈধ বায়ুমণ্ডলীয় অস্ত্র পরীক্ষা শনাক্ত করতে পাঠানো উপগ্রহ থেকেই ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে ঘটনাচক্রে প্রথম ধরা পড়ে এই স্বল্পস্থায়ী বিকিরণ ঝলক। পরে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, এগুলো দূরবর্তী গ্যালাক্সিতে বিশাল নক্ষত্রের বিপর্যয়কর মৃত্যুর ফলে সৃষ্ট উচ্চশক্তির বিকিরণ।
তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা ও রাতের আকাশের মধ্যে আরও সূক্ষ্ম এক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে তোলা একটি বড় ফটোগ্রাফিক আকাশ জরিপ বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এমন কিছু আলোকবিন্দু শনাক্ত করেছেন, যেগুলো আকাশে একবারই দেখা গেছে, তারপর আর দেখা যায়নি। এ ধরনের ক্ষণস্থায়ী আলোকবিন্দুকেই বলা হয় ‘ট্রান্সিয়েন্ট’। এগুলো ছবির ত্রুটি, গ্রহাণু বা কৃত্রিম উপগ্রহ নয় বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুরোনো আকাশচিত্রে মিলল অস্বাভাবিক আলোকবিন্দু
যুক্তরাষ্ট্র ও সুইডেনভিত্তিক দুই গবেষক ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সালের জরিপচিত্রে দেখা দেওয়া এসব ট্রান্সিয়েন্ট নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেন। তারা এক লাখের বেশি ট্রান্সিয়েন্ট শনাক্ত করে সেগুলোকে বায়ুমণ্ডলে পরিচালিত পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার তারিখ এবং অজ্ঞাত অস্বাভাবিক আকাশঘটনা বা ইউএপি-সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।

গবেষণার সময়কালে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ব্রিটেন ১২৪ দিনে ভূপৃষ্ঠের ওপরে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালায়। গবেষকেরা পরীক্ষার দিনকে কেন্দ্র করে তিন দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেন, যাকে তারা ‘নিউক্লিয়ার টেস্ট উইন্ডো’ বলেছেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়সীমার মধ্যে ট্রান্সিয়েন্টের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি, বিশেষ করে পরীক্ষার পরের দিন এর প্রবণতা বেশি ছিল।
ইউএপি ও পারমাণবিক পরীক্ষার সম্পর্ক এখনো অনিশ্চিত
গবেষণায় ইউএপি প্রতিবেদন ও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে কম স্পষ্ট হলেও, নির্দিষ্ট দিনে যত বেশি স্বাধীন ইউএপি রিপোর্ট পাওয়া গেছে, সেদিন তত বেশি ট্রান্সিয়েন্টও রেকর্ড হয়েছে—এমন একটি ইতিবাচক সম্পর্ক গবেষকেরা দেখাতে পেরেছেন।
এর অর্থ কী, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে গবেষণাটি ইঙ্গিত করছে, বহু ইউএপি দর্শনের পেছনে বাস্তব কোনো ভৌত ঘটনা থাকতে পারে এবং তার কিছু অংশ বায়ুমণ্ডলীয় পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। গবেষকদের ধারণা, এসব ট্রান্সিয়েন্টের অন্তত কিছু হয়তো পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট এমন এক বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাব, যা আগে স্বীকৃত হয়নি।
তবে এই সম্ভাব্য ব্যাখ্যা এখনো অনুমানপর্যায়ে রয়েছে। আর যেহেতু পৃথিবী আর কখনো বায়ুমণ্ডলে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্ফোরণ দেখতে চাইবে না, তাই এই রহস্যের পূর্ণ ব্যাখ্যা হয়তো ভবিষ্যতেও অমীমাংসিতই থেকে যাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















