রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার একটি কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষার মাঝেই হঠাৎ হামলার ঘটনায় প্রিন্সিপালসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক ও কর্মচারী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় শুধু শিক্ষক নয়, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাহীনতায় অনেকেই পরীক্ষা হল ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যান, ফলে পুরো কেন্দ্রের পরিবেশ ভেঙে পড়ে।
ঘটনার পটভূমি ও সময়
বিকেল সাড়ে ২টার দিকে দাওকান্দি সরকারি কলেজে ২০২৪ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। কেন্দ্রের ভেতর ও আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। এমন একটি সংবেদনশীল সময়েই হঠাৎ করে একদল লোক কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, ওই দলটি সরাসরি প্রিন্সিপালের কক্ষে ঢুকে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে। বিশেষ করে অতীতের প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। প্রথমে কথাকাটাকাটি থাকলেও দ্রুত তা উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রূপ নেয়।
হামলা ও ভাঙচুরের চিত্র
একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে প্রিন্সিপালসহ কয়েকজন শিক্ষককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তাদের মারধর করা হয় এবং কলেজের অফিস কক্ষেও ভাঙচুর চালানো হয়। হামলার তীব্রতায় কলেজের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রিন্সিপাল ডা. মো. আবদুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুইজন কর্মচারী। গুরুতর আহতদের দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রিন্সিপাল ও এক শিক্ষকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পরীক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়া
ঘটনার সময় পরীক্ষার হলগুলোতে হঠাৎ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। অনেকেই খাতা জমা না দিয়েই হল থেকে বেরিয়ে যায়। কিছু শিক্ষকও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এতে পরীক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ তৈরি হয়।
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য
কলেজের শিক্ষকরা দাবি করেছেন, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যার ফলে হামলাকারীরা সহজেই ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালাতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এক শিক্ষক তাদের কয়েকজন কর্মীকে শারীরিকভাবে অপমান করার পর থেকেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এছাড়া কলেজে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও বিরোধ চলছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তারা আলোচনা চালানোর চেষ্টা করছিল। তবে কিছু ব্যক্তি আচমকা কলেজে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিক্ষা পরিবেশে প্রভাব
এই ঘটনা শুধু একটি সহিংসতা নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পরীক্ষা চলাকালে এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের মনোবল ও আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















