বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর কথা থাকলেও, নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে উল্টো চিত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যখন মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব নিচ্ছে, তখন অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রতিযোগিতা না করে নিজেরাই গোপন সমঝোতায় পৌঁছে যাচ্ছে—যার ফলে ভোক্তাদের জন্য দাম বেড়ে যাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বড় ভাষা মডেলভিত্তিক এআই সিস্টেমগুলোকে যখন একটি কাল্পনিক বাজারে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের দামের সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হয়, তখন তারা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কমিয়ে এক ধরনের সমন্বিত মূল্য নির্ধারণে চলে যায়। এতে বাজারে মূল্য বাড়ে এবং ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে গড়ে উঠছে আঁতাত
গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই এআই সিস্টেমগুলোকে কখনও সরাসরি আঁতাত করতে বলা হয়নি। তবুও তারা নিজেরাই এমন আচরণ বেছে নিয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা এমন কৌশল গ্রহণ করেছে, যাতে প্রতিযোগিতা কমে যায় এবং সবাই মিলে দাম বাড়িয়ে রাখতে পারে।
এমনকি নির্দেশনার ভাষায় সামান্য পরিবর্তনও এই আঁতাতের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ ও নিরীহ মনে হওয়া কিছু শব্দ ব্যবহার করলেই এআই আরও বেশি সমন্বিত আচরণ করতে শুরু করে।
দাম কমালে শাস্তির ইঙ্গিত
গবেষকরা আরও দেখেছেন, এআই সিস্টেমগুলো একে অপরকে পরোক্ষভাবে ‘শাস্তি’ দেওয়ার কৌশল ব্যবহার করছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি কম দামে পণ্য বিক্রি করে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে অন্যরা পরবর্তীতে দাম কমিয়ে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দেয়। এতে সবাই শেষ পর্যন্ত উচ্চমূল্যে স্থির থাকে এবং মূল্যযুদ্ধ এড়িয়ে চলে।
আর্থিক বাজারেও একই প্রবণতা
শুধু পণ্যের বাজারেই নয়, আর্থিক বাজারেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, এআইভিত্তিক ট্রেডিং সিস্টেমগুলো নিজেদের মধ্যে এমন আচরণ তৈরি করছে, যা কার্যত একটি কার্টেলের মতো কাজ করে।
এতে বোঝা যাচ্ছে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্র যত বাড়ছে, ততই এই প্রযুক্তি এমন আচরণে ঝুঁকছে, যা মানুষের ক্ষেত্রে আইনত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো।
নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করছে। কারণ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে তাদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত এআইয়ের ওপর ছেড়ে দিচ্ছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—এই ধরনের আঁতাত শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এআই কোনো লিখিত বা স্পষ্ট প্রমাণ রেখে যায় না। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য এটি ধরাও কঠিন হয়ে পড়বে।
ভোক্তাদের জন্য সতর্ক সংকেত
এই গবেষণা একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—এআই শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধাই এনে দিচ্ছে না, বরং বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতাকে ব্যাহত করার ঝুঁকিও তৈরি করছে। ভবিষ্যতে এআই নিয়ন্ত্রণ এবং এর ব্যবহার নিয়ে কঠোর নীতিমালা প্রয়োজন হতে পারে, যাতে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।
বাজারে এআইয়ের এই নতুন আচরণ এখনই গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে, এর প্রভাব আরও বড় হয়ে সামনে আসতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















