০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিল হাইকোর্ট, ১৪ বছরেও নেই চার্জশিট বৃষ্টি-ঝড়ের আভাস, কমতে পারে তাপপ্রবাহ—আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস গাজীপুরে বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার, বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ক্যামেরায় বন্দি করা রঘু রাই আর নেই: ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে কিংবদন্তির বিদায় সহজ ভ্যাট–শুল্কই ন্যায্য বাজারের চাবিকাঠি মাইকেল জ্যাকসনকে ভালোবাসা কি এখনও সম্ভব? দুর্নীতি-সহিংসতায় বিজেপি ও তৃণমূল একই মুদ্রার দুই পিঠ: রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ জীবন, তবু স্বাভাবিক থাকার বার্তা ট্রাম্পের ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা, সন্দেহভাজন আটক পৃথিবীর সবচেয়ে গোপন ও নিষিদ্ধ স্থানগুলো: কেন বিজ্ঞানীরা এসব জায়গা লুকিয়ে রেখেছেন

অনলাইনে কতটা ক্ষতি করছে আপনার এক ক্লিক? এআই, ভিডিও আর দৈনন্দিন অভ্যাসের অদৃশ্য কার্বন হিসাব

মানুষ আজ এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি ছোট কাজও পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলছে। খাবার, যাতায়াত বা দৈনন্দিন আরাম—সবই জলবায়ু পরিবর্তনের আলোচনায় এসেছে বহুবার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে নজরে এসেছে আমাদের অনলাইন কার্যকলাপ, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার।

ডিজিটাল দুনিয়ার বাড়তি চাপ

২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে এআই ব্যবহারের ফলে যে ডেটা সেন্টারগুলো চালু থাকে, সেগুলো বছরে একটি বড় শহরের সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করছে। শুধু তাই নয়, এআই ব্যবহার করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ পানিও খরচ হচ্ছে। হিসাব বলছে, কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রায় আধা লিটার পানি ব্যবহৃত হতে পারে।

এমনকি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ডেটা সেন্টারগুলো ভবিষ্যতে পানি নিরাপত্তার ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে।

Humans Absorb Bias from AI—And Keep It after They Stop Using the Algorithm  | Scientific American

এআই বনাম অন্যান্য অনলাইন ব্যবহার

তবে প্রশ্ন আসে—এআই কি সবচেয়ে ক্ষতিকর? বিষয়টি এত সহজ নয়। বিভিন্ন প্রযুক্তির মধ্যে তুলনা করা কঠিন হলেও কিছু ধারণা পাওয়া গেছে। একটি সাধারণ এআই প্রশ্নের কার্বন নিঃসরণ প্রায় ০.২৮ গ্রাম, যা প্রায় ৩৫ সেকেন্ড ভিডিও দেখার সমান। একই পরিমাণ নির্গমন হয় কয়েকটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করা বা এক মিনিট ল্যাপটপ ব্যবহারের সময়েও।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডেটার পরিমাণ যত বেশি, পরিবেশগত প্রভাবও তত বেশি। যেমন, শুধু লেখা পড়া কম ক্ষতিকর, কিন্তু ভিডিও দেখা বা তৈরি করা অনেক বেশি শক্তি ব্যবহার করে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কোথায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাউড-ভিত্তিক গেমিং অনলাইন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় দূষণকারীদের একটি, কারণ এতে সার্ভার সবসময় চালু রাখতে হয়। তবে আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো—অনলাইন নয়, বরং অফলাইন জীবনই বেশি ক্ষতিকর।

Green Streaming? We Need to Talk About Netflix, Prime and Co. – Digital for  Good | RESET.ORG

একটি বার্ষিক ভিডিও স্ট্রিমিং সাবস্ক্রিপশন থেকে যত কার্বন নির্গত হয়, তা একটি গাড়িতে স্বল্প দূরত্ব ভ্রমণের সমান। কিন্তু একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বা একটি গরুর মাংসের খাবার তার চেয়ে বহু গুণ বেশি ক্ষতি করে।

দৈনন্দিন অভ্যাসেই বড় প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ রক্ষায় শুধু স্ক্রিন টাইম কমানোই যথেষ্ট নয়। আমরা কী খাচ্ছি, কী কিনছি এবং কোথায় যাচ্ছি—এই সিদ্ধান্তগুলোই বড় ভূমিকা রাখে। অনলাইন দুনিয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বাস্তব জীবনের অভ্যাসই পরিবেশের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করে।

তাই পরিবেশবান্ধব হতে চাইলে, শুধু প্রযুক্তি নয়, পুরো জীবনধারার দিকেই নজর দেওয়া জরুরি।

আপনার প্রতিদিনের অনলাইন ব্যবহার কতটা পরিবেশবান্ধব?

 

সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিল হাইকোর্ট, ১৪ বছরেও নেই চার্জশিট

অনলাইনে কতটা ক্ষতি করছে আপনার এক ক্লিক? এআই, ভিডিও আর দৈনন্দিন অভ্যাসের অদৃশ্য কার্বন হিসাব

০২:০৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

মানুষ আজ এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি ছোট কাজও পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলছে। খাবার, যাতায়াত বা দৈনন্দিন আরাম—সবই জলবায়ু পরিবর্তনের আলোচনায় এসেছে বহুবার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে নজরে এসেছে আমাদের অনলাইন কার্যকলাপ, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার।

ডিজিটাল দুনিয়ার বাড়তি চাপ

২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে এআই ব্যবহারের ফলে যে ডেটা সেন্টারগুলো চালু থাকে, সেগুলো বছরে একটি বড় শহরের সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করছে। শুধু তাই নয়, এআই ব্যবহার করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ পানিও খরচ হচ্ছে। হিসাব বলছে, কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রায় আধা লিটার পানি ব্যবহৃত হতে পারে।

এমনকি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ডেটা সেন্টারগুলো ভবিষ্যতে পানি নিরাপত্তার ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে।

Humans Absorb Bias from AI—And Keep It after They Stop Using the Algorithm  | Scientific American

এআই বনাম অন্যান্য অনলাইন ব্যবহার

তবে প্রশ্ন আসে—এআই কি সবচেয়ে ক্ষতিকর? বিষয়টি এত সহজ নয়। বিভিন্ন প্রযুক্তির মধ্যে তুলনা করা কঠিন হলেও কিছু ধারণা পাওয়া গেছে। একটি সাধারণ এআই প্রশ্নের কার্বন নিঃসরণ প্রায় ০.২৮ গ্রাম, যা প্রায় ৩৫ সেকেন্ড ভিডিও দেখার সমান। একই পরিমাণ নির্গমন হয় কয়েকটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করা বা এক মিনিট ল্যাপটপ ব্যবহারের সময়েও।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডেটার পরিমাণ যত বেশি, পরিবেশগত প্রভাবও তত বেশি। যেমন, শুধু লেখা পড়া কম ক্ষতিকর, কিন্তু ভিডিও দেখা বা তৈরি করা অনেক বেশি শক্তি ব্যবহার করে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কোথায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাউড-ভিত্তিক গেমিং অনলাইন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় দূষণকারীদের একটি, কারণ এতে সার্ভার সবসময় চালু রাখতে হয়। তবে আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো—অনলাইন নয়, বরং অফলাইন জীবনই বেশি ক্ষতিকর।

Green Streaming? We Need to Talk About Netflix, Prime and Co. – Digital for  Good | RESET.ORG

একটি বার্ষিক ভিডিও স্ট্রিমিং সাবস্ক্রিপশন থেকে যত কার্বন নির্গত হয়, তা একটি গাড়িতে স্বল্প দূরত্ব ভ্রমণের সমান। কিন্তু একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বা একটি গরুর মাংসের খাবার তার চেয়ে বহু গুণ বেশি ক্ষতি করে।

দৈনন্দিন অভ্যাসেই বড় প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ রক্ষায় শুধু স্ক্রিন টাইম কমানোই যথেষ্ট নয়। আমরা কী খাচ্ছি, কী কিনছি এবং কোথায় যাচ্ছি—এই সিদ্ধান্তগুলোই বড় ভূমিকা রাখে। অনলাইন দুনিয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বাস্তব জীবনের অভ্যাসই পরিবেশের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করে।

তাই পরিবেশবান্ধব হতে চাইলে, শুধু প্রযুক্তি নয়, পুরো জীবনধারার দিকেই নজর দেওয়া জরুরি।

আপনার প্রতিদিনের অনলাইন ব্যবহার কতটা পরিবেশবান্ধব?