পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এবং কেন্দ্রের বিজেপি—দুই দলকেই একসঙ্গে আক্রমণ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, দুর্নীতি, সহিংসতা ও বিভাজনের রাজনীতিতে দুই দলই একই ধারার প্রতিনিধিত্ব করছে।
সেরামপুর ও শহীদ মিনারের সভা থেকে কড়া বার্তা
হুগলির সেরামপুর ও কলকাতার শহীদ মিনারে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং রাজ্যের তৃণমূল সরকার—দুটিই একই ধরনের শাসন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। তার ভাষায়, দেশে যদি বিজেপি ঘৃণা ছড়ায়, তাহলে বাংলায় সেই একই কাজ করছে তৃণমূল। দুর্নীতির ক্ষেত্রেও দুই পক্ষের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূলের শাসনব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই বাংলায় বিজেপির উত্থান সম্ভব হয়েছে। তার মতে, যদি দুর্নীতি কম থাকত এবং বিতর্কিত ঘটনাগুলো সঠিকভাবে মোকাবিলা করা হতো, তাহলে বিজেপি এতটা জায়গা পেত না।

বিজেপি-তৃণমূলের গোপন সমঝোতার অভিযোগ
রাহুল গান্ধী অভিযোগ তোলেন, বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে এক ধরনের নীরব সমঝোতা রয়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকে বেছে বেছে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তৃণমূল নেতৃত্বকে অনেক ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
নিজের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও জিজ্ঞাসাবাদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তার মতো নেতাদের বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে একই ধরনের কঠোরতা দেখা যায় না।
সহিংসতা ও গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ
শহীদ মিনারের সভায় বক্তব্যে রাহুল গান্ধী আরও তীব্র ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, বিজেপি যেমন দেশে বিভাজনের রাজনীতি করছে, তেমনি বাংলায় সেই একই ধারা অনুসরণ করছে তৃণমূল। তার অভিযোগ, দুই দলই সহিংসতার রাজনীতি করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
তিনি ‘ভারত জোড়ো’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তাদের লক্ষ্য দেশকে একত্র করা, যেখানে অন্য পক্ষ বিভাজনের রাজনীতি করছে।
শিল্প, অর্থনীতি ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, একসময় শিল্পের জন্য পরিচিত বাংলা এখন পিছিয়ে পড়েছে। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, কর্মসংস্থান কমেছে এবং গঙ্গা তীরবর্তী শিল্পাঞ্চলগুলো সংকটে রয়েছে।
এছাড়া তিনি ‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর অভিযোগ তুলে বলেন, রাজনৈতিক যোগসূত্র ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই সুযোগ পাওয়া যায় না। নারীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন রাজ্যে এবং বাংলায়ও নারী নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে রয়ে গেছে।
আদর্শের লড়াইয়ে কংগ্রেস
রাহুল গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, কংগ্রেসই একমাত্র দল যারা আদর্শগতভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তার মতে, এই লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার লড়াই।
তিনি শেষ পর্যন্ত দাবি করেন, জাতীয় স্তরে বিজেপিকে পরাজিত করতে পারে কংগ্রেসই, পাশাপাশি আঞ্চলিক দলগুলোকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন, রাহুল গান্ধীর বক্তব্য ও বিজেপি-তৃণমূল বিরোধ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে, যা আগামী দিনে নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















