১০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ক্ষমতার ভারসাম্য যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করে এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকছে গুগল, বিওয়াইডি ও এএমডি জি-৭-এর প্রশংসার পরও ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, চুক্তি বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট হলে ফের হামলার ইঙ্গিত ইন্দোনেশিয়ায় রুপিয়ার দরপতনে ওষুধের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দিয়ে গৃহকর্মী নির্যাতন, থানা হেফাজতে পুলিশ দম্পতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন ভূরাজনীতি এবং ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পরীক্ষা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে ১.৭ গুণ বেশি বন্দি, রয়েছে ৭৭ হাজার ৪০ জন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানালেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ভারতের বিএসএফ ২,৩৬৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মসজিদের জন্য মাইক কিনতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের সিন্ধু পানি চুক্তি: আইনের শাসন নাকি উজানের একতরফা ক্ষমতা?

কাজ ফেলে রাখার ফাঁদ: আলস্য নয়, স্ট্রেসই আসল কারণ

কাজ করার সময় এসেছে, অথচ অজান্তেই অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়া—এই অভ্যাস অনেকেরই পরিচিত। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি আলস্যের লক্ষণ নয়; বরং গভীর মানসিক চাপের একটি প্রতিফলন। গবেষণায় দেখা গেছে, কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

স্ট্রেস থেকেই শুরু দেরির অভ্যাস

অনেকেই মনে করেন কাজ পেছানো মানে সময় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এটি আসলে আবেগ নিয়ন্ত্রণের একটি উপায়। যখন কোনো কাজ নিয়ে অস্বস্তি, ভয় বা চাপ তৈরি হয়, তখন মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সেই কাজ এড়িয়ে যায়। এর বদলে তারা এমন কিছু করে যা মুহূর্তের জন্য স্বস্তি দেয়—যেমন ফোন ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় কাজ বা অন্য বিনোদন।

এই স্বস্তি সাময়িক হলেও পরে তা আরও বড় চাপ তৈরি করে। ফলে একটি চক্র তৈরি হয়—কাজ এড়ানো, চাপ বাড়া, আবার এড়ানো। এই চক্রই দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করে।

image

স্বাস্থ্যেও পড়ছে প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত কাজ পেছান, তারা বেশি শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। ঠান্ডা-কাশি, হজমের সমস্যা, শরীর ব্যথা—এসব সমস্যা তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উচ্চ মাত্রার মানসিক চাপ। কাজ জমে যাওয়ার ফলে যে উদ্বেগ তৈরি হয়, তা শরীরেও প্রভাব ফেলে।

পারফেকশনিজমের ফাঁদ

কাজ পেছানোর পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো অতিরিক্ত নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা। অনেকেই মনে করেন, কাজটি একেবারে নিখুঁতভাবে শুরু করতে হবে। এই অতিরিক্ত প্রত্যাশাই তাদের কাজ শুরু করতে বাধা দেয়। ফলে তারা কাজটি এড়িয়ে যেতে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত আরও বড় সমস্যার জন্ম দেয়।

চাপের মধ্যে কাজ ভালো হয়—মিথ না বাস্তব?

কিছু মানুষ দাবি করেন, তারা চাপের মধ্যে ভালো কাজ করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এটি সত্য হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত চাপ মানুষকে ভেঙে দিতে পারে এবং কাজের মানও খারাপ করে দিতে পারে। তাই এই পদ্ধতিকে নিরাপদ বলা যায় না।

How to Practice Mindfulness: A Guide to Stress Reduction

সমাধান কোথায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল সমাধান লুকিয়ে আছে আবেগ নিয়ন্ত্রণে। সচেতনভাবে নিজের অনুভূতি বোঝা, নিজেকে কম সমালোচনা করা এবং ছোট ছোট ধাপে কাজ শুরু করা—এসবই কার্যকর হতে পারে।

ধ্যান বা মনোযোগের চর্চা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত অনুশীলনে মানসিক চাপ কমে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে। পাশাপাশি নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়াও জরুরি। কঠোর আত্মসমালোচনা বরং কাজ শুরু করা আরও কঠিন করে তোলে।

শেষ পর্যন্ত বার্তা একটাই—কাজ পেছানো কোনো চরিত্রগত দুর্বলতা নয়। এটি একটি সংকেত, যা বলে দেয় যে ব্যক্তি মানসিকভাবে চাপের মধ্যে আছেন। সেই চাপ বোঝা এবং তা সামলানোর পথ খুঁজে নেওয়াই আসল সমাধান।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতার ভারসাম্য যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করে

কাজ ফেলে রাখার ফাঁদ: আলস্য নয়, স্ট্রেসই আসল কারণ

০২:০২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

কাজ করার সময় এসেছে, অথচ অজান্তেই অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়া—এই অভ্যাস অনেকেরই পরিচিত। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি আলস্যের লক্ষণ নয়; বরং গভীর মানসিক চাপের একটি প্রতিফলন। গবেষণায় দেখা গেছে, কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

স্ট্রেস থেকেই শুরু দেরির অভ্যাস

অনেকেই মনে করেন কাজ পেছানো মানে সময় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এটি আসলে আবেগ নিয়ন্ত্রণের একটি উপায়। যখন কোনো কাজ নিয়ে অস্বস্তি, ভয় বা চাপ তৈরি হয়, তখন মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সেই কাজ এড়িয়ে যায়। এর বদলে তারা এমন কিছু করে যা মুহূর্তের জন্য স্বস্তি দেয়—যেমন ফোন ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় কাজ বা অন্য বিনোদন।

এই স্বস্তি সাময়িক হলেও পরে তা আরও বড় চাপ তৈরি করে। ফলে একটি চক্র তৈরি হয়—কাজ এড়ানো, চাপ বাড়া, আবার এড়ানো। এই চক্রই দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করে।

image

স্বাস্থ্যেও পড়ছে প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত কাজ পেছান, তারা বেশি শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। ঠান্ডা-কাশি, হজমের সমস্যা, শরীর ব্যথা—এসব সমস্যা তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উচ্চ মাত্রার মানসিক চাপ। কাজ জমে যাওয়ার ফলে যে উদ্বেগ তৈরি হয়, তা শরীরেও প্রভাব ফেলে।

পারফেকশনিজমের ফাঁদ

কাজ পেছানোর পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো অতিরিক্ত নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা। অনেকেই মনে করেন, কাজটি একেবারে নিখুঁতভাবে শুরু করতে হবে। এই অতিরিক্ত প্রত্যাশাই তাদের কাজ শুরু করতে বাধা দেয়। ফলে তারা কাজটি এড়িয়ে যেতে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত আরও বড় সমস্যার জন্ম দেয়।

চাপের মধ্যে কাজ ভালো হয়—মিথ না বাস্তব?

কিছু মানুষ দাবি করেন, তারা চাপের মধ্যে ভালো কাজ করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এটি সত্য হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত চাপ মানুষকে ভেঙে দিতে পারে এবং কাজের মানও খারাপ করে দিতে পারে। তাই এই পদ্ধতিকে নিরাপদ বলা যায় না।

How to Practice Mindfulness: A Guide to Stress Reduction

সমাধান কোথায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল সমাধান লুকিয়ে আছে আবেগ নিয়ন্ত্রণে। সচেতনভাবে নিজের অনুভূতি বোঝা, নিজেকে কম সমালোচনা করা এবং ছোট ছোট ধাপে কাজ শুরু করা—এসবই কার্যকর হতে পারে।

ধ্যান বা মনোযোগের চর্চা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত অনুশীলনে মানসিক চাপ কমে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে। পাশাপাশি নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়াও জরুরি। কঠোর আত্মসমালোচনা বরং কাজ শুরু করা আরও কঠিন করে তোলে।

শেষ পর্যন্ত বার্তা একটাই—কাজ পেছানো কোনো চরিত্রগত দুর্বলতা নয়। এটি একটি সংকেত, যা বলে দেয় যে ব্যক্তি মানসিকভাবে চাপের মধ্যে আছেন। সেই চাপ বোঝা এবং তা সামলানোর পথ খুঁজে নেওয়াই আসল সমাধান।