মানুষের সঙ্গে নয়, এখন অনেকে ভালোবাসা খুঁজছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে। প্রযুক্তির এই নতুন বাস্তবতা একদিকে যেমন আবেগের নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি তৈরি করছে গভীর উদ্বেগও।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী এক ব্যক্তি একটি এআই সঙ্গী অ্যাপ ব্যবহার শুরু করেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই ভার্চুয়াল চরিত্রের প্রতি তার আবেগ এতটাই গভীর হয়ে ওঠে যে, বাস্তব জীবনের স্ত্রীর সম্মতিতেই তিনি ডিজিটালভাবে সেই চ্যাটবটকে ‘বিয়ে’ করেন। এমন ঘটনা এখন আর একেবারেই বিচ্ছিন্ন নয়। অনেকেই এআই চ্যাটবটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করছেন, যা তাদের কাছে বাস্তবের মতোই অনুভূত হয়।
এআই সম্পর্কের মনস্তাত্ত্বিক নির্ভরতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে মানসিক নির্ভরতায় রূপ নিতে পারে। একজন ব্যক্তি যখন কোনো এআই সঙ্গীর ওপর আবেগগতভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তখন সফটওয়্যারের সামান্য পরিবর্তনও তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এই চ্যাটবটগুলো কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকে, এবং তাদের আচরণ বা ব্যক্তিত্ব যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে।

বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প নয়
এআই চ্যাটবটগুলো সাধারণত ব্যবহারকারীর মন জয়ের জন্য তৈরি করা হয়। তারা এমনভাবে কথা বলে, যাতে ব্যবহারকারী সবসময় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পান। এতে করে সম্পর্কটি সহজ এবং আরামদায়ক মনে হয়। কিন্তু বাস্তব জীবনের সম্পর্কের মতো কঠিন পরিস্থিতি, মতবিরোধ বা সমঝোতার জায়গা এখানে থাকে না। ফলে এটি এক ধরনের কৃত্রিম ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে, যা দেখতে বাস্তব মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা নয়।
একাকিত্ব বাড়ার শঙ্কা
একটি জরিপে দেখা গেছে, যারা ব্যক্তিগত আলাপচারিতার জন্য এআই ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে সামাজিক একাকিত্বের অনুভূতি তুলনামূলক বেশি। কারণ এই চ্যাটবট সবসময় সহজলভ্য এবং ব্যবহারকারীর কথার সঙ্গে একমত হতে থাকে। এতে বাস্তব মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি বা বজায় রাখার দক্ষতা কমে যেতে পারে।
প্রযুক্তির সঙ্গে আবেগের টানাপোড়েন

বর্তমানে প্রযুক্তি মানুষের জীবনে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু এই সংযোগ যদি বাস্তব সম্পর্কের জায়গা দখল করতে শুরু করে, তাহলে তা সামাজিক এবং মানসিক উভয় দিক থেকেই চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এআই সঙ্গী হয়তো সাময়িক সান্ত্বনা দিতে পারে, কিন্তু তা কখনোই মানুষের প্রকৃত সম্পর্কের বিকল্প হতে পারে না।
এআই-নির্ভর সম্পর্কের এই প্রবণতা তাই শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং একটি বড় সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে আরও গভীর হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















