ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা ও ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর শাহবাগ থানার ভেতরেই হামলার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংঘটিত এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
থানার ভেতরেই সহিংসতা, পুলিশের নীরবতা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহবাগ থানার সীমানার মধ্যেই হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু পুরো সময়জুড়ে পুলিশকে কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় দেখা যায়। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
দিনভর উত্তেজনার পর হামলা
ঘটনার আগে থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দিনের শুরুতেই ক্যাম্পাসের হল এলাকায় কয়েক দফায় সাংবাদিকদের হেনস্তা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে সেই উত্তেজনা গড়ায় শাহবাগ থানায়।
আহতদের মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের একাধিক সাংবাদিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। একজন সাংবাদিকের চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
ছাত্রনেতারাও রেহাই পাননি
শুধু সাংবাদিকই নন, ডাকসু নির্বাচিত কয়েকজন ছাত্রনেতাও এই হামলার শিকার হন। তাদের মধ্যে দুজন মাথায় আঘাত পান। যদিও তাদের আঘাত তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর বলে জানা গেছে।

ভুয়া পোস্ট ঘিরে উত্তেজনা
ঘটনার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। একটি স্ক্রিনশটে এক ছাত্রনেতার নামে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ানো হয়, যা পরে তিনি অস্বীকার করেন।
পরবর্তীতে যাচাই করে জানা যায়, পোস্টটি বিকৃত বা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তবুও বিষয়টি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং হুমকি-ধমকিও চলতে থাকে।
থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে অবরুদ্ধ
নিজেকে নিরাপত্তা দেওয়ার আবেদন জানাতে সংশ্লিষ্ট ছাত্রনেতা শাহবাগ থানায় যান। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। একই সময় অন্য একটি পক্ষও থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করে। সংখ্যাধিক্যের কারণে তারা থানাটি ঘিরে ফেলে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা
এই পরিস্থিতি কাভার করতে গেলে সাংবাদিকরা হামলার মুখে পড়েন। ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয় এবং প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর চড়াও হওয়া হয়। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের থানার ভেতর থেকেই ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।
পরে আরেকটি দল এসে সাংবাদিকদের ওপর আবারও হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় উত্তেজনাপূর্ণ স্লোগানও দেওয়া হয়।
ক্ষমা প্রার্থনার চেষ্টা, তবুও প্রশ্ন রয়ে গেছে
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর হামলায় জড়িত এক নেতা সাংবাদিক নেতার কাছে ক্ষমা চাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। তবে পুরো ঘটনার দায় ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক এখনো কাটেনি।
এ ঘটনায় ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাও বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন। তবে হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















