বেইজিংয়ের বৃহত্তম গাড়ি প্রদর্শনীতে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতারা এখন নতুন কৌশলে এগোচ্ছে। দেশের ভেতরে বিক্রি চাপের মুখে থাকায় তারা আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
বিদেশমুখী কৌশল কেন গুরুত্বপূর্ণ
চীনা ইভি নির্মাতাদের জন্য এখন বিদেশে বিস্তার প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দেশে লাভজনক অবস্থানে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় নির্মাতারা ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার মতো অঞ্চলে নজর দিচ্ছে, যেখানে একই গাড়ি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব। এই পরিবর্তনকে শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করা হচ্ছে।
অটো চায়নায় নতুন মডেল ও পরিকল্পনা

বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া প্রায় সব বড় নির্মাতাই আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য নতুন মডেল উন্মোচন করেছে অথবা ভবিষ্যৎ বিক্রির লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত জিএসি গ্রুপ তিনটি নতুন মডেল নিয়ে বিদেশে প্রবেশের পরিকল্পনা জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম একটি হাইব্রিড এসইউভি।
এই প্রদর্শনীতে মোট ১,৪৫১টি মডেল প্রদর্শিত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮১টি প্রথমবারের মতো বিশ্বে উন্মোচিত হয়েছে। প্রদর্শনী এলাকা আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বড় করা হয়েছে, যা শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ির চাহিদা কমছে, আর ব্যাটারিচালিত গাড়ির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ইউরোপের মতো বাজারে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
লাভের হিসাব বদলে যাচ্ছে
চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে একটি গাড়ি থেকে গড়ে প্রায় ৫ হাজার ইউয়ান মুনাফা পাওয়া গেলেও বিদেশে এই পরিমাণ চারগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই পার্থক্যই নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক বাজারে ঝুঁকতে উৎসাহ দিচ্ছে।

একই সঙ্গে এক্সপেংসহ বিভিন্ন কোম্পানি ইউরোপে বিক্রি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। গত বছর তাদের রপ্তানির বড় অংশই এসেছে এই অঞ্চল থেকে, এবং চলতি বছরে বিক্রি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও প্রতিযোগিতা
বিশ্বব্যাপী বিশ্লেষণ বলছে, আগামী কয়েক বছরে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে বছরে গড়ে প্রায় ১২ লাখ গাড়ি বিদেশে পাঠানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারকে প্রধান মুনাফার উৎসে পরিণত করতে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উৎপাদন দক্ষতার কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে কয়েকটি চীনা কোম্পানি বিশ্বের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতাদের তালিকায় উঠে আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে বিক্রির দিক থেকে বিশ্বের বড় নির্মাতাদের তালিকায় চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অবস্থান শক্ত হয়েছে, যা বৈশ্বিক গাড়ি শিল্পে নতুন প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















