২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তায় পড়েছে। পরীক্ষার মাঝপথে শিক্ষা বোর্ডের এক সিদ্ধান্তে তাদের ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে বলা হয়েছে, যদিও তারা পড়াশোনা করেছে নতুন ২০২৬ কারিকুলামে।
সিলেবাস পরিবর্তনের আকস্মিক সিদ্ধান্ত
২৩ এপ্রিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২০২৩-২৪ সেশনে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত আসে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি করে।
যেসব শিক্ষার্থী ২০২৩ সালে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছিল, তারা ২০২৪ সালে নতুন কারিকুলামে নবম শ্রেণিতে পড়ে এবং ২০২৫ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে দশম শ্রেণির পড়া শেষ করে। ফলে তারা ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে প্রস্তুত ছিল না।
সংখ্যার হিসাবেই বড় সংকট
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সেশনে নিবন্ধিত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী নতুন কারিকুলামে পড়াশোনা করেছে।
এই শিক্ষার্থীদের এখন এমন একটি সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে, যা তারা পুরোপুরি কখনও পড়েনি। এতে তাদের ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের শঙ্কা।

পরীক্ষার হলে বিভ্রান্তির চিত্র
পরীক্ষার শুরুতেই সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিয়েছে নতুন সিলেবাসে, কিন্তু পরদিন তাকে দেওয়া হয় পুরোনো সিলেবাসভিত্তিক বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন।
এই ধরনের ঘটনার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা বাড়ছে। অনেকেই বুঝতে পারছে না কোন সিলেবাস অনুযায়ী তাদের মূল্যায়ন হবে।
অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ
অভিভাবক ও শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী নয়। বছরের শুরুতেই যদি সিলেবাস নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হতো, তাহলে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিতে পারত।
তারা মনে করছেন, পরীক্ষার মাঝপথে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার। এতে তাদের মানসিক চাপ বাড়ছে এবং ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মানবিক বিবেচনার দাবি
ক্রমাগত কারিকুলাম পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যেই শিক্ষাব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা সরকারের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের মতে, যে সিলেবাস শিক্ষার্থীরা কখনও পুরোপুরি পড়েনি, সেটির ওপর ভিত্তি করে পরীক্ষা নেওয়া একটি বড় ধরনের সিদ্ধান্ত, যা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















