০৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ ২০২৯ নির্বাচনের প্রস্তুতি, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যের ডাক ইন্ডিয়া শিবিরে চীনের নতুন গরুর মাংস কোটা নীতিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য, সুযোগ দেখছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রাজ্যসভা ছাড়লেন সুখেন্দু শেখর, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু নতুন সমীকরণের আলোচনা পশ্চিমবঙ্গের মদ নীতিতে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাবা হওয়া কি সত্যিই বদলে দিতে পারে জীবন? গবেষণায় মিলছে মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চমকপ্রদ উপকার কফির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক: শক্তির উৎস, নাকি ঘুমের গোপন শত্রু? ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগে নতুন বিতর্ক, লেবাননের বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্যাট্রিক ব্রুয়েলকে গ্রেপ্তার, ১৩ নারীর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ফ্রান্সে তোলপাড় যুক্তরাজ্যে পুলিশ পেনশন বিতর্ক: রাতারাতি নিয়ম বদলে হাজার হাজার পাউন্ড হারাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা

২০২৯ নির্বাচনের প্রস্তুতি, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যের ডাক ইন্ডিয়া শিবিরে

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ নতুন করে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকে অংশ নেওয়া ২৩টি দল ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে এবং অভিযোগ তোলে যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট ও নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জোটের নেতারা কংগ্রেসকে বিরোধী শিবিরকে একসঙ্গে ধরে রাখার প্রধান শক্তি বা ‘আঠা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) এবং নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সংসদে সমন্বয় জোরদার করা, ঘন ঘন বৈঠক করা এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার জন্য কেন্দ্র সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষাপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হবে। কারণ, লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার রাজনৈতিক দায় এড়ানো যায় না।

দুই মাস অন্তর বৈঠকের সিদ্ধান্ত

খাড়গে জানান, জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং কৌশলগত সমন্বয়ের জন্য প্রতি দুই মাস অন্তর বৈঠক করবে ইন্ডিয়া। পরবর্তী বৈঠক আগামী ৮ আগস্ট হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনী অনিয়ম হয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। পাশাপাশি তিনি দেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেন এবং জনগণের সমর্থন সংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মমতার পাশে বিরোধী নেতারা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন জোটের বহু নেতা। মমতা অভিযোগ করেন, সাংবিধানিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। তিনি অতীতের মতভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

মমতা বলেন, বিরোধী দলগুলোর উচিত নিজেদের মধ্যে প্রকাশ্য সমালোচনা না করা এবং সমন্বয়ের বিষয়ে কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া।

অখিলেশ যাদবও মমতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তার পরাজয়কে সরলভাবে রাজনৈতিক হার হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাজ্যভিত্তিক শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোর প্রতি কংগ্রেসের আরও উদার মনোভাব দেখানোর আহ্বান জানান।

জোটের ভেতরের মতপার্থক্যও সামনে

ঐক্যের বার্তা জোরালো হলেও বৈঠকে কিছু মতবিরোধও প্রকাশ পায়। কেরালার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-এর পারস্পরিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়। তবে তা বড় কোনো বিরোধে রূপ নেয়নি।

আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব আত্মসমালোচনার সুরে বলেন, বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে জোটে ধরে রাখতে না পারা একটি রাজনৈতিক ভুল ছিল। তিনি মনে করেন, তাকে আগেই সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

২০২৯-কে সামনে রেখে নতুন প্রস্তুতি

মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, এনসিপি (এসপি) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনসহ একাধিক নেতা জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।

সবচেয়ে আশাবাদী বক্তব্যগুলোর একটি আসে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর কাছ থেকে। তিনি বলেন, বিরোধী শিবির ইতোমধ্যে একটি বড় রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে। তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কংগ্রেসই সেই শক্তি, যা বিভিন্ন মত ও দলের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করছে এবং ২০২৯ সালের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

জোটের কয়েকজন নেতা ‘জোট’ বা ‘অ্যালায়েন্স’ শব্দ ব্যবহার না করে শুধু ‘ইন্ডিয়া’ নামটিকেই সামনে আনার পক্ষে মত দেন। তাদের মতে, এই পরিচয়কে আরও সুসংগঠিত রাজনৈতিক সত্তায় পরিণত করাই আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ

২০২৯ নির্বাচনের প্রস্তুতি, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যের ডাক ইন্ডিয়া শিবিরে

০৯:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ নতুন করে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকে অংশ নেওয়া ২৩টি দল ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে এবং অভিযোগ তোলে যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট ও নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জোটের নেতারা কংগ্রেসকে বিরোধী শিবিরকে একসঙ্গে ধরে রাখার প্রধান শক্তি বা ‘আঠা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) এবং নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সংসদে সমন্বয় জোরদার করা, ঘন ঘন বৈঠক করা এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার জন্য কেন্দ্র সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষাপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হবে। কারণ, লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার রাজনৈতিক দায় এড়ানো যায় না।

দুই মাস অন্তর বৈঠকের সিদ্ধান্ত

খাড়গে জানান, জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং কৌশলগত সমন্বয়ের জন্য প্রতি দুই মাস অন্তর বৈঠক করবে ইন্ডিয়া। পরবর্তী বৈঠক আগামী ৮ আগস্ট হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনী অনিয়ম হয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। পাশাপাশি তিনি দেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেন এবং জনগণের সমর্থন সংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মমতার পাশে বিরোধী নেতারা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন জোটের বহু নেতা। মমতা অভিযোগ করেন, সাংবিধানিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। তিনি অতীতের মতভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

মমতা বলেন, বিরোধী দলগুলোর উচিত নিজেদের মধ্যে প্রকাশ্য সমালোচনা না করা এবং সমন্বয়ের বিষয়ে কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া।

অখিলেশ যাদবও মমতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তার পরাজয়কে সরলভাবে রাজনৈতিক হার হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাজ্যভিত্তিক শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোর প্রতি কংগ্রেসের আরও উদার মনোভাব দেখানোর আহ্বান জানান।

জোটের ভেতরের মতপার্থক্যও সামনে

ঐক্যের বার্তা জোরালো হলেও বৈঠকে কিছু মতবিরোধও প্রকাশ পায়। কেরালার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-এর পারস্পরিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়। তবে তা বড় কোনো বিরোধে রূপ নেয়নি।

আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব আত্মসমালোচনার সুরে বলেন, বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে জোটে ধরে রাখতে না পারা একটি রাজনৈতিক ভুল ছিল। তিনি মনে করেন, তাকে আগেই সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

২০২৯-কে সামনে রেখে নতুন প্রস্তুতি

মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, এনসিপি (এসপি) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনসহ একাধিক নেতা জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।

সবচেয়ে আশাবাদী বক্তব্যগুলোর একটি আসে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর কাছ থেকে। তিনি বলেন, বিরোধী শিবির ইতোমধ্যে একটি বড় রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে। তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কংগ্রেসই সেই শক্তি, যা বিভিন্ন মত ও দলের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করছে এবং ২০২৯ সালের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

জোটের কয়েকজন নেতা ‘জোট’ বা ‘অ্যালায়েন্স’ শব্দ ব্যবহার না করে শুধু ‘ইন্ডিয়া’ নামটিকেই সামনে আনার পক্ষে মত দেন। তাদের মতে, এই পরিচয়কে আরও সুসংগঠিত রাজনৈতিক সত্তায় পরিণত করাই আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য।