দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পুলিশে চাকরি করার পর অবসরে গিয়েও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। যুক্তরাজ্যে পেনশন হিসাবের নিয়মে হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে অবসর নেওয়া পুলিশ সদস্যদের এককালীন পেনশন অর্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কেউ কেউ কয়েক হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে।
হঠাৎ পরিবর্তনে ক্ষতির মুখে কর্মকর্তারা
৫১ বছর বয়সী সার্জেন্ট পল ইভানস ৩৩ বছর পুলিশ বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তিনি জানান, যদি মাত্র এক সপ্তাহ আগে অবসরে যেতেন, তাহলে তার এককালীন পেনশন অর্থ প্রায় ৭ হাজার পাউন্ড বেশি হতো। সরকারি হিসাব পদ্ধতিতে আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে ২২ মে-পরবর্তী সময়ে অবসর নেওয়া কর্মকর্তারা আগের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কম অর্থ পাচ্ছেন।
ইভানস বলেন, পরিবর্তনের বিষয়ে আগে থেকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। তিনি অবসরের পর পরিবারকে নিয়ে তুরস্কে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। আর্থিক পরামর্শ নিয়েও সেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং নতুন কাগজপত্রে স্বাক্ষরের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
কী বদলেছে পেনশন ব্যবস্থায়
যুক্তরাজ্যের পুলিশ সদস্যরা তাদের বেতনের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন তহবিলে জমা দেন। নির্দিষ্ট মেয়াদ চাকরি করার পর তারা অবসরে গিয়ে আজীবন নির্ধারিত পেনশন সুবিধা পান। অবসরের সময় চাইলে তারা মাসিক পেনশনের একটি অংশ ত্যাগ করে তার পরিবর্তে এককালীন অর্থ গ্রহণ করতে পারেন, যা সাধারণত করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকে।
এই এককালীন অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে সরকার ভবিষ্যতের পেনশন ব্যয়ের পূর্বাভাস ব্যবহার করে। অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ের সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করা হয়। নতুন পরিবর্তনের ফলে এই হিসাব পদ্ধতি সংশোধন করা হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রাপ্য অর্থের ওপর।

পুরোনো স্কিমে থাকা সদস্যরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২০০৬ সালের ৬ এপ্রিলের আগে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়া কর্মকর্তারা, যারা পুলিশ পেনশন স্কিম ১৯৮৭-এর আওতায় রয়েছেন। মে মাসের শেষ দিকে সরকার এই স্কিমের আওতায় এককালীন অর্থ নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তন করে।
ইভানসের ভাষায়, পেনশনই ছিল এমন একটি সুবিধা যা অনেক কর্মকর্তাকে চাকরিতে ধরে রেখেছিল। তার মতে, হঠাৎ করে কোনো রূপান্তরকাল বা পূর্বঘোষণা ছাড়া নিয়ম বদলে দেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
চাকরি ছাড়ার প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা
পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এ পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান চাপ, জনমত এবং সুবিধা কমে যাওয়ার কারণে অনেকের কাছে পেশাটি আগের মতো আকর্ষণীয় থাকছে না।
আরেক কর্মকর্তা, যিনি পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন, জানিয়েছেন নতুন নিয়মের কারণে তার প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড ক্ষতি হবে। তিনি ইতোমধ্যে পুরোনো হিসাব অনুযায়ী কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, কিন্তু এখন নতুন ও কম পরিমাণ অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টিকে মৌলিকভাবে অন্যায্য বলে উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন।
আইনি পদক্ষেপের চিন্তা
পুলিশ ফেডারেশন জানিয়েছে, এককালীন পেনশন অর্থ নির্ধারণের পদ্ধতিতে এই পরিবর্তনের যৌক্তিকতা ও প্রভাব নিয়ে তারা আইনি পরামর্শ নিচ্ছে। যেসব কর্মকর্তাকে আগে ভিন্ন অঙ্কের হিসাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের পক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ট্রেজারি এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















