০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

পশ্চিমবঙ্গের মদ নীতিতে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে মদ কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি গোপনীয় আবগারি দপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে রাজ্যের মদ বিতরণ নীতিতে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছিল যা বেসরকারি পাইকারি ব্যবসায়ীদের কার্যত সরিয়ে দিয়ে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায়ের সুযোগ তৈরি হয় এবং সেই অর্থের একটি অংশ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহলে পৌঁছাত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কার্টেল প্রতিরোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, রাজ্যের সর্বত্র মদের সহজলভ্যতা এবং ভোক্তার পছন্দের প্রসার”– এই যুক্তি দেখিয়ে নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা ভেঙে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ।

নীতির পরিবর্তন ও নতুন করপোরেশন

২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট বেভারেজেস করপোরেশন লিমিটেড (ডব্লিউবিএসবিসিএল) গঠন করা হয়। এর আগে বিদেশি মদ ও বিয়ার বিতরণের দায়িত্বে ছিল ৫৫টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি পাইকারি প্রতিষ্ঠান, যাদের ‘ট্রেড’ বলা হতো।

পুরোনো ব্যবস্থায় উৎপাদকরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী বিতরণকারী নির্বাচন করতে পারতেন এবং খুচরা বিক্রেতারাও একাধিক উৎস থেকে সরবরাহ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই ব্যবস্থায় সুস্থ প্রতিযোগিতা ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত ছিল।

কিন্তু নতুন করপোরেশন চালুর পর একটি নতুন পরিবেশক কাঠামো তৈরি হয়, যেখানে বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে বিতরণ ব্যবস্থা

গোপন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন পরিবেশকরা প্রতি ক্রেটে গুদাম ভাড়া হিসেবে ৪ টাকা এবং পরিবহন খরচ হিসেবে ৩ টাকা আদায় করতেন। উৎপাদক ও বিদেশি মদ প্রস্তুতকারকদের এসব অর্থ দিতে বাধ্য করা হতো।

প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হতো। এমনকি দেশি মদের ক্ষেত্রেও বোতলপ্রতি অতিরিক্ত ৩ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিকেন্দ্রীভূত ব্যবসা ও প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর পরিবর্তে একচেটিয়া ব্যবসায়িক মডেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যা সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আইএফবি অ্যাগ্রোর অভিযোগ

আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সম্প্রতি আবগারি কমিশনারকে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চাপ ও হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে। কোম্পানিটি দাবি করেছে, বেআইনি দাবির সঙ্গে আপস না করায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

চিঠিতে তারা আগের একাধিক যোগাযোগের উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বর্তমান আবগারি কমিশনার জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অনুমোদিত নন। সাবেক আবগারি কমিশনারও একই অবস্থান নিয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নীতিটি প্রণয়নে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের পর্যায়ে নেওয়া হয়েছিল।

ক্ষতিপূরণের দাবি জোরালো হচ্ছে

শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সংগঠিত হয়ে তাদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ফেরতের দাবি তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা মনে করছে, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। এ নিয়ে শিগগিরই বৃহত্তর আন্দোলনের সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

পশ্চিমবঙ্গের মদ নীতিতে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

০৯:১৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে মদ কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি গোপনীয় আবগারি দপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে রাজ্যের মদ বিতরণ নীতিতে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছিল যা বেসরকারি পাইকারি ব্যবসায়ীদের কার্যত সরিয়ে দিয়ে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায়ের সুযোগ তৈরি হয় এবং সেই অর্থের একটি অংশ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহলে পৌঁছাত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কার্টেল প্রতিরোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, রাজ্যের সর্বত্র মদের সহজলভ্যতা এবং ভোক্তার পছন্দের প্রসার”– এই যুক্তি দেখিয়ে নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা ভেঙে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ।

নীতির পরিবর্তন ও নতুন করপোরেশন

২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট বেভারেজেস করপোরেশন লিমিটেড (ডব্লিউবিএসবিসিএল) গঠন করা হয়। এর আগে বিদেশি মদ ও বিয়ার বিতরণের দায়িত্বে ছিল ৫৫টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি পাইকারি প্রতিষ্ঠান, যাদের ‘ট্রেড’ বলা হতো।

পুরোনো ব্যবস্থায় উৎপাদকরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী বিতরণকারী নির্বাচন করতে পারতেন এবং খুচরা বিক্রেতারাও একাধিক উৎস থেকে সরবরাহ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই ব্যবস্থায় সুস্থ প্রতিযোগিতা ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত ছিল।

কিন্তু নতুন করপোরেশন চালুর পর একটি নতুন পরিবেশক কাঠামো তৈরি হয়, যেখানে বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে বিতরণ ব্যবস্থা

গোপন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন পরিবেশকরা প্রতি ক্রেটে গুদাম ভাড়া হিসেবে ৪ টাকা এবং পরিবহন খরচ হিসেবে ৩ টাকা আদায় করতেন। উৎপাদক ও বিদেশি মদ প্রস্তুতকারকদের এসব অর্থ দিতে বাধ্য করা হতো।

প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হতো। এমনকি দেশি মদের ক্ষেত্রেও বোতলপ্রতি অতিরিক্ত ৩ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিকেন্দ্রীভূত ব্যবসা ও প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর পরিবর্তে একচেটিয়া ব্যবসায়িক মডেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যা সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আইএফবি অ্যাগ্রোর অভিযোগ

আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সম্প্রতি আবগারি কমিশনারকে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চাপ ও হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে। কোম্পানিটি দাবি করেছে, বেআইনি দাবির সঙ্গে আপস না করায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

চিঠিতে তারা আগের একাধিক যোগাযোগের উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বর্তমান আবগারি কমিশনার জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অনুমোদিত নন। সাবেক আবগারি কমিশনারও একই অবস্থান নিয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নীতিটি প্রণয়নে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের পর্যায়ে নেওয়া হয়েছিল।

ক্ষতিপূরণের দাবি জোরালো হচ্ছে

শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সংগঠিত হয়ে তাদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ফেরতের দাবি তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা মনে করছে, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। এ নিয়ে শিগগিরই বৃহত্তর আন্দোলনের সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে।