০৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ ২০২৯ নির্বাচনের প্রস্তুতি, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যের ডাক ইন্ডিয়া শিবিরে চীনের নতুন গরুর মাংস কোটা নীতিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য, সুযোগ দেখছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রাজ্যসভা ছাড়লেন সুখেন্দু শেখর, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু নতুন সমীকরণের আলোচনা পশ্চিমবঙ্গের মদ নীতিতে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাবা হওয়া কি সত্যিই বদলে দিতে পারে জীবন? গবেষণায় মিলছে মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চমকপ্রদ উপকার কফির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক: শক্তির উৎস, নাকি ঘুমের গোপন শত্রু? ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগে নতুন বিতর্ক, লেবাননের বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্যাট্রিক ব্রুয়েলকে গ্রেপ্তার, ১৩ নারীর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ফ্রান্সে তোলপাড় যুক্তরাজ্যে পুলিশ পেনশন বিতর্ক: রাতারাতি নিয়ম বদলে হাজার হাজার পাউন্ড হারাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা

পশ্চিমবঙ্গের মদ নীতিতে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে মদ কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি গোপনীয় আবগারি দপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে রাজ্যের মদ বিতরণ নীতিতে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছিল যা বেসরকারি পাইকারি ব্যবসায়ীদের কার্যত সরিয়ে দিয়ে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায়ের সুযোগ তৈরি হয় এবং সেই অর্থের একটি অংশ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহলে পৌঁছাত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কার্টেল প্রতিরোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, রাজ্যের সর্বত্র মদের সহজলভ্যতা এবং ভোক্তার পছন্দের প্রসার”– এই যুক্তি দেখিয়ে নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা ভেঙে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ।

নীতির পরিবর্তন ও নতুন করপোরেশন

২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট বেভারেজেস করপোরেশন লিমিটেড (ডব্লিউবিএসবিসিএল) গঠন করা হয়। এর আগে বিদেশি মদ ও বিয়ার বিতরণের দায়িত্বে ছিল ৫৫টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি পাইকারি প্রতিষ্ঠান, যাদের ‘ট্রেড’ বলা হতো।

পুরোনো ব্যবস্থায় উৎপাদকরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী বিতরণকারী নির্বাচন করতে পারতেন এবং খুচরা বিক্রেতারাও একাধিক উৎস থেকে সরবরাহ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই ব্যবস্থায় সুস্থ প্রতিযোগিতা ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত ছিল।

কিন্তু নতুন করপোরেশন চালুর পর একটি নতুন পরিবেশক কাঠামো তৈরি হয়, যেখানে বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে বিতরণ ব্যবস্থা

গোপন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন পরিবেশকরা প্রতি ক্রেটে গুদাম ভাড়া হিসেবে ৪ টাকা এবং পরিবহন খরচ হিসেবে ৩ টাকা আদায় করতেন। উৎপাদক ও বিদেশি মদ প্রস্তুতকারকদের এসব অর্থ দিতে বাধ্য করা হতো।

প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হতো। এমনকি দেশি মদের ক্ষেত্রেও বোতলপ্রতি অতিরিক্ত ৩ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিকেন্দ্রীভূত ব্যবসা ও প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর পরিবর্তে একচেটিয়া ব্যবসায়িক মডেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যা সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আইএফবি অ্যাগ্রোর অভিযোগ

আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সম্প্রতি আবগারি কমিশনারকে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চাপ ও হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে। কোম্পানিটি দাবি করেছে, বেআইনি দাবির সঙ্গে আপস না করায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

চিঠিতে তারা আগের একাধিক যোগাযোগের উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বর্তমান আবগারি কমিশনার জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অনুমোদিত নন। সাবেক আবগারি কমিশনারও একই অবস্থান নিয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নীতিটি প্রণয়নে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের পর্যায়ে নেওয়া হয়েছিল।

ক্ষতিপূরণের দাবি জোরালো হচ্ছে

শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সংগঠিত হয়ে তাদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ফেরতের দাবি তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা মনে করছে, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। এ নিয়ে শিগগিরই বৃহত্তর আন্দোলনের সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ

পশ্চিমবঙ্গের মদ নীতিতে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

০৯:১৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে মদ কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি গোপনীয় আবগারি দপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে রাজ্যের মদ বিতরণ নীতিতে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছিল যা বেসরকারি পাইকারি ব্যবসায়ীদের কার্যত সরিয়ে দিয়ে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায়ের সুযোগ তৈরি হয় এবং সেই অর্থের একটি অংশ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহলে পৌঁছাত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কার্টেল প্রতিরোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, রাজ্যের সর্বত্র মদের সহজলভ্যতা এবং ভোক্তার পছন্দের প্রসার”– এই যুক্তি দেখিয়ে নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা ভেঙে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ।

নীতির পরিবর্তন ও নতুন করপোরেশন

২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট বেভারেজেস করপোরেশন লিমিটেড (ডব্লিউবিএসবিসিএল) গঠন করা হয়। এর আগে বিদেশি মদ ও বিয়ার বিতরণের দায়িত্বে ছিল ৫৫টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি পাইকারি প্রতিষ্ঠান, যাদের ‘ট্রেড’ বলা হতো।

পুরোনো ব্যবস্থায় উৎপাদকরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী বিতরণকারী নির্বাচন করতে পারতেন এবং খুচরা বিক্রেতারাও একাধিক উৎস থেকে সরবরাহ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই ব্যবস্থায় সুস্থ প্রতিযোগিতা ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত ছিল।

কিন্তু নতুন করপোরেশন চালুর পর একটি নতুন পরিবেশক কাঠামো তৈরি হয়, যেখানে বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে বিতরণ ব্যবস্থা

গোপন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন পরিবেশকরা প্রতি ক্রেটে গুদাম ভাড়া হিসেবে ৪ টাকা এবং পরিবহন খরচ হিসেবে ৩ টাকা আদায় করতেন। উৎপাদক ও বিদেশি মদ প্রস্তুতকারকদের এসব অর্থ দিতে বাধ্য করা হতো।

প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হতো। এমনকি দেশি মদের ক্ষেত্রেও বোতলপ্রতি অতিরিক্ত ৩ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিকেন্দ্রীভূত ব্যবসা ও প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর পরিবর্তে একচেটিয়া ব্যবসায়িক মডেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যা সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আইএফবি অ্যাগ্রোর অভিযোগ

আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সম্প্রতি আবগারি কমিশনারকে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চাপ ও হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে। কোম্পানিটি দাবি করেছে, বেআইনি দাবির সঙ্গে আপস না করায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

চিঠিতে তারা আগের একাধিক যোগাযোগের উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বর্তমান আবগারি কমিশনার জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অনুমোদিত নন। সাবেক আবগারি কমিশনারও একই অবস্থান নিয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নীতিটি প্রণয়নে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের পর্যায়ে নেওয়া হয়েছিল।

ক্ষতিপূরণের দাবি জোরালো হচ্ছে

শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সংগঠিত হয়ে তাদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ফেরতের দাবি তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা মনে করছে, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। এ নিয়ে শিগগিরই বৃহত্তর আন্দোলনের সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে।