০৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ ২০২৯ নির্বাচনের প্রস্তুতি, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যের ডাক ইন্ডিয়া শিবিরে চীনের নতুন গরুর মাংস কোটা নীতিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য, সুযোগ দেখছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রাজ্যসভা ছাড়লেন সুখেন্দু শেখর, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু নতুন সমীকরণের আলোচনা পশ্চিমবঙ্গের মদ নীতিতে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাবা হওয়া কি সত্যিই বদলে দিতে পারে জীবন? গবেষণায় মিলছে মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চমকপ্রদ উপকার কফির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক: শক্তির উৎস, নাকি ঘুমের গোপন শত্রু? ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগে নতুন বিতর্ক, লেবাননের বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্যাট্রিক ব্রুয়েলকে গ্রেপ্তার, ১৩ নারীর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ফ্রান্সে তোলপাড় যুক্তরাজ্যে পুলিশ পেনশন বিতর্ক: রাতারাতি নিয়ম বদলে হাজার হাজার পাউন্ড হারাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা

ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগে নতুন বিতর্ক, লেবাননের বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

লেবাননের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় এই দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

কোথায় দেখা গেছে সাদা ফসফরাসের ব্যবহার

সাম্প্রতিক ভিডিওচিত্রে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরের আকাশে সাদা ফসফরাসের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ধোঁয়ার রেখা দেখা গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এছাড়া টাইর উপকূলীয় অঞ্চল এবং ক্বালায়া, খিয়াম ও ইয়োহমোরের আশপাশেও একই ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব ঘটনা ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ শুরুর পর সামনে আসে।

সাদা ফসফরাস কী এবং কেন বিতর্ক

সাদা ফসফরাস এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ যা বাতাসের সংস্পর্শে এলেই জ্বলে ওঠে। সামরিক বাহিনী সাধারণত ধোঁয়ার পর্দা তৈরি, লক্ষ্য চিহ্নিত করা বা যুদ্ধক্ষেত্রে আড়াল তৈরির কাজে এটি ব্যবহার করে। তবে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এর ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, তাদের ব্যবহৃত ধোঁয়া তৈরির প্রধান গোলাগুলোতে সাদা ফসফরাস থাকে না। একই সঙ্গে তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অনুমোদিত কিছু সাদা ফসফরাসসমৃদ্ধ গোলা তাদের কাছে রয়েছে, যা শুধুমাত্র ধোঁয়ার পর্দা তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়।

Lebanon: Evidence of Israel's unlawful use of white phosphorus in southern  Lebanon as cross-border hostilities escalate - Amnesty International  Australia

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সাদা ফসফরাস মানুষের শরীরে ভয়াবহ পোড়া ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। এটি ত্বক, চোখ ও শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর আগুন হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে এবং ঘন ধোঁয়া শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতা ও অঙ্গ বিকলের ঝুঁকি বাড়ায়।

এছাড়া বাড়িঘর, যানবাহন, কৃষিজমি ও বনভূমিতেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে মাটি ও পানিতে এর অবশিষ্টাংশ পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।

পুরোনো অভিযোগের ধারাবাহিকতা

সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগ এই প্রথম নয়। অতীতেও গাজা ও লেবাননে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। লেবানন সরকার বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ জানিয়েছে। দেশটির দাবি, দক্ষিণাঞ্চলে শত শত অগ্নিকাণ্ডের পেছনে এই অস্ত্র ব্যবহারের ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাদা ফসফরাস প্রযুক্তিগতভাবে সব ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ নয়। তবে বেসামরিক মানুষের উপস্থিতি রয়েছে এমন এলাকায় এর ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বর্তমান সংঘাতের মধ্যেও সেই বিতর্ক আবার সামনে চলে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ

ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগে নতুন বিতর্ক, লেবাননের বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

০৮:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

লেবাননের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় এই দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

কোথায় দেখা গেছে সাদা ফসফরাসের ব্যবহার

সাম্প্রতিক ভিডিওচিত্রে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরের আকাশে সাদা ফসফরাসের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ধোঁয়ার রেখা দেখা গেছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এছাড়া টাইর উপকূলীয় অঞ্চল এবং ক্বালায়া, খিয়াম ও ইয়োহমোরের আশপাশেও একই ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব ঘটনা ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ শুরুর পর সামনে আসে।

সাদা ফসফরাস কী এবং কেন বিতর্ক

সাদা ফসফরাস এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ যা বাতাসের সংস্পর্শে এলেই জ্বলে ওঠে। সামরিক বাহিনী সাধারণত ধোঁয়ার পর্দা তৈরি, লক্ষ্য চিহ্নিত করা বা যুদ্ধক্ষেত্রে আড়াল তৈরির কাজে এটি ব্যবহার করে। তবে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এর ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, তাদের ব্যবহৃত ধোঁয়া তৈরির প্রধান গোলাগুলোতে সাদা ফসফরাস থাকে না। একই সঙ্গে তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অনুমোদিত কিছু সাদা ফসফরাসসমৃদ্ধ গোলা তাদের কাছে রয়েছে, যা শুধুমাত্র ধোঁয়ার পর্দা তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়।

Lebanon: Evidence of Israel's unlawful use of white phosphorus in southern  Lebanon as cross-border hostilities escalate - Amnesty International  Australia

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সাদা ফসফরাস মানুষের শরীরে ভয়াবহ পোড়া ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। এটি ত্বক, চোখ ও শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর আগুন হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে এবং ঘন ধোঁয়া শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতা ও অঙ্গ বিকলের ঝুঁকি বাড়ায়।

এছাড়া বাড়িঘর, যানবাহন, কৃষিজমি ও বনভূমিতেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে মাটি ও পানিতে এর অবশিষ্টাংশ পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।

পুরোনো অভিযোগের ধারাবাহিকতা

সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগ এই প্রথম নয়। অতীতেও গাজা ও লেবাননে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। লেবানন সরকার বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ জানিয়েছে। দেশটির দাবি, দক্ষিণাঞ্চলে শত শত অগ্নিকাণ্ডের পেছনে এই অস্ত্র ব্যবহারের ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাদা ফসফরাস প্রযুক্তিগতভাবে সব ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ নয়। তবে বেসামরিক মানুষের উপস্থিতি রয়েছে এমন এলাকায় এর ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বর্তমান সংঘাতের মধ্যেও সেই বিতর্ক আবার সামনে চলে এসেছে।