জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এটি কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সংকটের অংশ। তিনি জানান, জনগণের কষ্ট বিবেচনায় রেখে সরকার অনেক দেরিতে এবং সীমিত আকারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকারের সামর্থ্যের একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কারণ রাষ্ট্র পরিচালিত হয় জনগণের ট্যাক্সের অর্থে। এই বাস্তবতায় সংকট মোকাবিলায় সবাইকে কৃচ্ছ্রসাধনের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকার চেষ্টা করছে, যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি
অর্থমন্ত্রী বলেন, পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো কিছু গোপন রাখা হচ্ছে না। দেশ সবার, তাই প্রতিটি পদক্ষেপ জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এখানে কোনো লুকোচুরির সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অবস্থান
দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব ঘটনাকে দলীয়ভাবে দেখার সুযোগ নেই; সমাজে কিছু অশৃঙ্খল ব্যক্তি থাকে, যাদের বিরুদ্ধে আইনই ব্যবস্থা নেবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং দলীয়করণ বা অরাজনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
ব্যাংকিং খাতের সংকট ও করণীয়
ব্যাংকিং খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের কারণে এই খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আমানতকারীরা তাদের টাকা তুলতে পারছেন না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এ জন্য জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
সংকট উত্তরণে সময় ও সহযোগিতার প্রয়োজন
অর্থমন্ত্রী বলেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সময় প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে সরকারের চেষ্টা এবং ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















