০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
লোডশেডিং চরমে, গরমে নাজেহাল জনজীবন ও উৎপাদন ব্যাহত ইউয়ানে লৌহ আকরিকের দাম নির্ধারণে নতুন অধ্যায়, ডলারের আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ লোম্বক প্রণালীতে চীনা ড্রোন উদ্ধার, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রতলের নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা তীব্র কৃত্রিমভাবে তৈরি জ্বালানি সংকট, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি মির্জা ফখরুলের হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেশে বাড়ছে সংক্রমণ বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা ঝিনাইদহে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল গৃহবধূর শেষ মুহূর্তে সিলেবাস বদল, অনিশ্চয়তায় দেড় লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী আমরা চেষ্টা করছি, যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হয় -অর্থমন্ত্রী রেড কার্পেটে নতুন ঢেউ: উদীয়মান ডিজাইনারদের দখলে ফ্যাশনের আলো

আমেরিকার অস্ত্র ফুরিয়ে যাচ্ছে

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতায়। কয়েক সপ্তাহের এই সংঘাতে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে দেশটির বৈশ্বিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত কমে এসেছে। এতে ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ব্যাপক অস্ত্র ব্যবহার ও দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া মজুত
যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১,১০০টির মতো দীর্ঘপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা মূলত চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি ১,০০০টির বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা এক বছরে দেশটি যত কিনে তার প্রায় দশগুণ। প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র—প্রতি ইউনিটের দাম ৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি, অথচ যুদ্ধেই ব্যবহার হয়েছে ১,২০০টিরও বেশি।

খরচের হিসাব ও অর্থনৈতিক চাপ
এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ২৮ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যা এই সংঘাতের তীব্রতা বোঝাতে যথেষ্ট।

পুনরায় মজুত গড়তে দীর্ঘ সময়ের শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান উৎপাদন হারে এই অস্ত্রভাণ্ডার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। এরই মধ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগকে নতুন অর্থায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

এশিয়া ও ইউরোপে প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য এশিয়া ও ইউরোপ থেকে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশও সরানো হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতে করে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সামরিক কৌশলে নতুন উদ্বেগ
এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর নির্ভরতার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে সস্তা ও দ্রুত উৎপাদনযোগ্য প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা এখন আরও জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে টানা সামরিক অভিযানের কারণে যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও বাহিনীর কার্যক্ষমতা ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

সামগ্রিকভাবে ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। অস্ত্রভাণ্ডারের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা না গেলে ভবিষ্যৎ বড় সংঘাত মোকাবিলায় দেশটির প্রস্তুতি আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লোডশেডিং চরমে, গরমে নাজেহাল জনজীবন ও উৎপাদন ব্যাহত

আমেরিকার অস্ত্র ফুরিয়ে যাচ্ছে

০৮:০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতায়। কয়েক সপ্তাহের এই সংঘাতে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে দেশটির বৈশ্বিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত কমে এসেছে। এতে ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ব্যাপক অস্ত্র ব্যবহার ও দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া মজুত
যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১,১০০টির মতো দীর্ঘপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা মূলত চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি ১,০০০টির বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা এক বছরে দেশটি যত কিনে তার প্রায় দশগুণ। প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র—প্রতি ইউনিটের দাম ৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি, অথচ যুদ্ধেই ব্যবহার হয়েছে ১,২০০টিরও বেশি।

খরচের হিসাব ও অর্থনৈতিক চাপ
এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ২৮ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যা এই সংঘাতের তীব্রতা বোঝাতে যথেষ্ট।

পুনরায় মজুত গড়তে দীর্ঘ সময়ের শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান উৎপাদন হারে এই অস্ত্রভাণ্ডার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। এরই মধ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগকে নতুন অর্থায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

এশিয়া ও ইউরোপে প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য এশিয়া ও ইউরোপ থেকে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশও সরানো হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতে করে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সামরিক কৌশলে নতুন উদ্বেগ
এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর নির্ভরতার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে সস্তা ও দ্রুত উৎপাদনযোগ্য প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা এখন আরও জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে টানা সামরিক অভিযানের কারণে যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও বাহিনীর কার্যক্ষমতা ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

সামগ্রিকভাবে ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। অস্ত্রভাণ্ডারের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা না গেলে ভবিষ্যৎ বড় সংঘাত মোকাবিলায় দেশটির প্রস্তুতি আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।