রাজধানীর শাহবাগ থানায় ডাকসুর কয়েকজন নেতার ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পাবনা ও কুমিল্লায় ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
শাহবাগ থানার ভেতরে উত্তেজনা
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং নারী নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমার ওপর শাহবাগ থানার ভেতরে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে একটি ভুয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। ওই পোস্টটি একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হয় বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্ররাজনীতিতে সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাবনা ও কুমিল্লায় হামলার অভিযোগ
পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে একটি মিছিলের সময় ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হন। একই দিন রাতে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটেও আরেকটি হামলার ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলোকে অনেকেই পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান
ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে শাহবাগ থানার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সব পক্ষকে রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















