জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে “কৃত্রিম ভূমিকম্প” সংক্রান্ত দাবিও ছিল। এসব তথ্যের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।
সোমবার জাপানের সানরিকু উপকূলের কাছে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে আওমোরি প্রিফেকচারের হাশিকামি এলাকায় জাপানের ভূমিকম্প তীব্রতা সূচকে ‘আপার ৫’ মাত্রা রেকর্ড হয়, যা উচ্চ মাত্রার কম্পনের মধ্যে অন্যতম। ভূমিকম্পের পরপরই সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
গুজবের উৎস ও ছড়ানোর ধরণ
সামাজিক মাধ্যম এক্সে অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, এই ভূমিকম্পটি স্বাভাবিক নয়, বরং এটি মানুষের তৈরি। কিছু পোস্টে বলা হয়, জাপানের সামুদ্রিক গবেষণা সংস্থার একটি গভীর সমুদ্র ড্রিলিং জাহাজের কার্যক্রমের কারণে এই কম্পন সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সানরিকু উপকূলের কাছে, আর ওই জাহাজটি ছিল হোক্কাইডোর অন্য অঞ্চলে।
এ ধরনের একটি পোস্ট ৫০ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে। কিন্তু কোনো পোস্টেই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, গবেষণামূলক ড্রিলিং কার্যক্রম পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের এমন বড় ধরনের নড়াচড়ার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায় বিভ্রান্তির বিস্তার
সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণকারী একটি টুল ব্যবহার করে দেখা গেছে, “কৃত্রিম ভূমিকম্প” বা এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে পোস্টের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। ভূমিকম্পের পরদিন পর্যন্ত এমন পোস্টের সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ পোস্টে মানুষকে সতর্ক থাকার বা ভুয়া তথ্য সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা ছিল।
অন্য একটি প্ল্যাটফর্মে ভূমিকম্পের কয়েক দিন আগে করা একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, অন্তত ৫ মাত্রার কম্পন আসতে যাচ্ছে। এই পোস্টটি ব্যাপক সাড়া পায় এবং হাজারো ব্যবহারকারী সেটিতে প্রতিক্রিয়া দেন। তবে ওই অ্যাকাউন্টটি আগে থেকেই বারবার ভিত্তিহীন পূর্বাভাস দিয়ে আসছিল।
বিজ্ঞান যা বলছে
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানায়, বর্তমান বৈজ্ঞানিক জ্ঞানে ভূমিকম্পের নির্দিষ্ট সময় ও স্থান আগে থেকে নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীমূলক তথ্যকে ভুয়া হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ধসে পড়া ভবন থেকে মানুষ পালাচ্ছে—এসব ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের সতর্ক করতে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শও দেখানো হচ্ছে।
মানুষের উদ্বেগ ও তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়, আর সেই সুযোগে অনিশ্চিত ও ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই এ সময় সরকারি বা নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
তারা পরামর্শ দেন, প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা উচিত এবং সামাজিক মাধ্যমের বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে কিছুটা দূরে থাকাও হতে পারে একটি কার্যকর উপায়।
জাপানের ভূমিকম্প, সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের গুরুত্ব নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে সতর্কতার বার্তা দিয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















