০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
লোডশেডিং চরমে, গরমে নাজেহাল জনজীবন ও উৎপাদন ব্যাহত ইউয়ানে লৌহ আকরিকের দাম নির্ধারণে নতুন অধ্যায়, ডলারের আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ লোম্বক প্রণালীতে চীনা ড্রোন উদ্ধার, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রতলের নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা তীব্র কৃত্রিমভাবে তৈরি জ্বালানি সংকট, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি মির্জা ফখরুলের হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেশে বাড়ছে সংক্রমণ বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা ঝিনাইদহে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল গৃহবধূর শেষ মুহূর্তে সিলেবাস বদল, অনিশ্চয়তায় দেড় লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থী আমরা চেষ্টা করছি, যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হয় -অর্থমন্ত্রী রেড কার্পেটে নতুন ঢেউ: উদীয়মান ডিজাইনারদের দখলে ফ্যাশনের আলো

ইরান যুদ্ধের প্রভাব, সুদের হার বাড়াতে যাচ্ছে না জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আগামী সপ্তাহের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার দিকেই ঝুঁকছে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থনীতিবিদদের মূল্যায়নে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে।

আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনের বৈঠকে ব্যাংকটি তাদের নীতিগত সুদের হার পর্যালোচনা করবে। বর্তমানে এই হার ০.৭৫ শতাংশে নির্ধারিত রয়েছে।

সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যাওয়া

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এপ্রিল মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে এই মাসে হার বাড়ানোর, যেখানে দুই সপ্তাহ আগেও তা ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ।

BOJ keeps policy rate unchanged as Iran war complicates next steps

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারের প্রত্যাশা দ্রুত বদলে যাওয়ায় আগের পূর্বাভাস সংশোধন করতে হয়েছে। পাশাপাশি, বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও কোনো স্পষ্ট সংকেত পাওয়া যায়নি।

নীতিগত অবস্থান ও সাম্প্রতিক পদক্ষেপ

২০২৪ সালের মার্চে দীর্ঘদিনের ঋণাত্মক সুদের হার নীতি থেকে সরে এসে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধীরে ধীরে সুদের হার বাড়ানো শুরু করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হার ০.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.৭৫ শতাংশে নেওয়া হয়।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েনের দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ ব্যাংকটির ওপর বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পরিবারগুলোর ব্যয়ভার বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক চাপও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইরান যুদ্ধ ও অর্থনীতির অনিশ্চয়তা

গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর কাজুও উয়েদা বলেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে, একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Iran War Has The Bank Of Japan As Confused As The Federal Reserve

তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতি এক ধরনের নেতিবাচক সরবরাহ ধাক্কা তৈরি করছে, যা মোকাবিলা করা মুদ্রানীতির জন্য অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও জানান, স্থিতিশীল ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি অর্জনের লক্ষ্যেই নীতিগত সুদের হার পরিচালনা করা হবে।

মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি বাজার

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে জাপানের মূল্যস্ফীতি ছিল ১.৫ শতাংশ। তাজা খাদ্যপণ্য বাদ দিলে তা দাঁড়ায় ১.৮ শতাংশে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি এবং জ্বালানি কর প্রত্যাহারের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির দামের পতনও ধীর হয়ে এসেছে।

ফেব্রুয়ারিতে কর প্রত্যাহারের পর পেট্রোলের দাম ১৪.৯ শতাংশ কমলেও মার্চে তা কমেছে ৫.৪ শতাংশ।

Montel | Blog - The Correlation Between Energy Prices and Inflation

আগামী নীতির দিকনির্দেশনা

অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এখন ধারণা, সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাব্য সময় জুন মাসে গিয়ে ঠেকতে পারে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিশ্লেষকই এখন সেই সময়সীমার দিকেই নজর দিচ্ছেন।

বৈঠকের পর গভর্নরের সংবাদ সম্মেলন থেকে ভবিষ্যৎ নীতির ইঙ্গিত খুঁজবে বিনিয়োগকারীরা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ কৌশলেই থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, আসন্ন বৈঠকে অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির ত্রৈমাসিক পূর্বাভাসও প্রকাশ করা হবে, যেখানে প্রথমবারের মতো ২০২৮ অর্থবছরের পূর্বাভাস অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমানো হলেও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

লোডশেডিং চরমে, গরমে নাজেহাল জনজীবন ও উৎপাদন ব্যাহত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব, সুদের হার বাড়াতে যাচ্ছে না জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

০৭:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আগামী সপ্তাহের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার দিকেই ঝুঁকছে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থনীতিবিদদের মূল্যায়নে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে।

আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনের বৈঠকে ব্যাংকটি তাদের নীতিগত সুদের হার পর্যালোচনা করবে। বর্তমানে এই হার ০.৭৫ শতাংশে নির্ধারিত রয়েছে।

সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যাওয়া

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এপ্রিল মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে এই মাসে হার বাড়ানোর, যেখানে দুই সপ্তাহ আগেও তা ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ।

BOJ keeps policy rate unchanged as Iran war complicates next steps

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারের প্রত্যাশা দ্রুত বদলে যাওয়ায় আগের পূর্বাভাস সংশোধন করতে হয়েছে। পাশাপাশি, বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও কোনো স্পষ্ট সংকেত পাওয়া যায়নি।

নীতিগত অবস্থান ও সাম্প্রতিক পদক্ষেপ

২০২৪ সালের মার্চে দীর্ঘদিনের ঋণাত্মক সুদের হার নীতি থেকে সরে এসে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধীরে ধীরে সুদের হার বাড়ানো শুরু করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হার ০.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.৭৫ শতাংশে নেওয়া হয়।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েনের দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ ব্যাংকটির ওপর বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পরিবারগুলোর ব্যয়ভার বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক চাপও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইরান যুদ্ধ ও অর্থনীতির অনিশ্চয়তা

গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর কাজুও উয়েদা বলেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে, একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Iran War Has The Bank Of Japan As Confused As The Federal Reserve

তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতি এক ধরনের নেতিবাচক সরবরাহ ধাক্কা তৈরি করছে, যা মোকাবিলা করা মুদ্রানীতির জন্য অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও জানান, স্থিতিশীল ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি অর্জনের লক্ষ্যেই নীতিগত সুদের হার পরিচালনা করা হবে।

মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি বাজার

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে জাপানের মূল্যস্ফীতি ছিল ১.৫ শতাংশ। তাজা খাদ্যপণ্য বাদ দিলে তা দাঁড়ায় ১.৮ শতাংশে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি এবং জ্বালানি কর প্রত্যাহারের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির দামের পতনও ধীর হয়ে এসেছে।

ফেব্রুয়ারিতে কর প্রত্যাহারের পর পেট্রোলের দাম ১৪.৯ শতাংশ কমলেও মার্চে তা কমেছে ৫.৪ শতাংশ।

Montel | Blog - The Correlation Between Energy Prices and Inflation

আগামী নীতির দিকনির্দেশনা

অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এখন ধারণা, সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাব্য সময় জুন মাসে গিয়ে ঠেকতে পারে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিশ্লেষকই এখন সেই সময়সীমার দিকেই নজর দিচ্ছেন।

বৈঠকের পর গভর্নরের সংবাদ সম্মেলন থেকে ভবিষ্যৎ নীতির ইঙ্গিত খুঁজবে বিনিয়োগকারীরা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ কৌশলেই থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, আসন্ন বৈঠকে অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির ত্রৈমাসিক পূর্বাভাসও প্রকাশ করা হবে, যেখানে প্রথমবারের মতো ২০২৮ অর্থবছরের পূর্বাভাস অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমানো হলেও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।