পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আগামী ৫ মে পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তাপপ্রবাহের সতর্কতা ও ঝুঁকি
জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের মাধ্যমে জারি করা সতর্কতায় বলা হয়েছে, সিন্ধু, দক্ষিণ পাঞ্জাব এবং বেলুচিস্তানের বেশ কিছু এলাকায় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। করাচি, হায়দরাবাদ, সুক্কুর, লারকানা, জ্যাকবাবাদসহ বড় শহরগুলোতে তীব্র গরমের প্রভাব বেশি অনুভূত হবে।
এছাড়া মধ্য পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখোয়ার কিছু এলাকাতেও তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
আবহাওয়ার বৈচিত্র্য: কোথাও গরম, কোথাও বৃষ্টি
একই সময়ে দেশের কিছু অঞ্চলে ভিন্ন ধরনের আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। ২৪ থেকে ২৯ এপ্রিলের মধ্যে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দমকা হাওয়া, ধূলিঝড় এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, লাহোর, ফয়সালাবাদসহ বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বেলুচিস্তানের উত্তরের কিছু অঞ্চলেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তবে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সতর্কতা
তাপপ্রবাহের কারণে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। নাগরিকদের সরাসরি রোদে কম বের হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তুতির নির্দেশ
সরকার সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা, কুলিং সেন্টার চালু করা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় গাফিলতি নিয়ে তদন্ত
অন্যদিকে, হিমবাহভিত্তিক হঠাৎ বন্যা মোকাবিলায় স্থাপিত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় অবহেলা সহ্য করা হবে না।
তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে দ্রুত সমন্বিত প্রস্তুতি নিতে এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে সব ধরনের বাধা দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় জোর
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তাই জীবন ও সম্পদ রক্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সক্ষমতা নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নদী ও বন্যা প্রবাহপথে অবৈধ দখল উচ্ছেদের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর কার্যকর কৌশল গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















