নিউইয়র্ক শহরের প্রতিটি কোণে যেন ইতিহাস আর স্মৃতির ছাপ খুঁজে পান মার্কিন লেখক জে ম্যাকইনার্নি। বয়স এখন ৭১, তবু শহরটিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতেই চান না তিনি। বরং নিজের জীবন, অভিজ্ঞতা আর শহরের পরিবর্তন—সবকিছুকে একসঙ্গে বুনে তুলে ধরেছেন তাঁর নতুন উপন্যাসে।
তারুণ্যের ঝলক থেকে পরিণত জীবনের প্রতিচ্ছবি
১৯৮৪ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ব্রাইট লাইটস, বিগ সিটি’ তাকে রাতারাতি খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। তরুণ শহুরে জীবনের উচ্ছ্বাস, অস্থিরতা আর ব্যক্তিগত সংকট—সব মিলিয়ে সেই বই এক প্রজন্মের প্রতীক হয়ে ওঠে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উচ্ছ্বাস বদলে গেছে গভীরতা আর অভিজ্ঞতায়। নতুন উপন্যাসে সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন দেখা যায়।
নতুন বইয়ে সময়ের দীর্ঘ যাত্রা
সাম্প্রতিক প্রকাশিত তাঁর নতুন বইটি একটি ধারাবাহিক উপন্যাসের শেষ অধ্যায়। এতে নিউইয়র্ক শহরের কয়েক দশকের পরিবর্তন উঠে এসেছে—বাজার ধস, সামাজিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক উত্তাপ থেকে শুরু করে কোভিড মহামারির প্রভাব পর্যন্ত। শহরের জীবন, শিল্প, অর্থনীতি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক—সবকিছু মিলিয়ে এক বিস্তৃত সময়রেখা তৈরি করেছেন লেখক।

কোভিড সময়ের নিঃসঙ্গতা ও সৃষ্টিশীলতা
কোভিড মহামারির সময় শহরের স্বাভাবিক সামাজিক জীবন থমকে যায়। থিয়েটার, রেস্তোরাঁ, পার্টি—সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ এক ধরনের নিঃসঙ্গতার মধ্যে পড়ে। তবে এই সময়টিই লেখকের জন্য নতুনভাবে সৃষ্টিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। একদিকে সমাজের পরিবর্তন, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের গভীরতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধন নতুন বইটিকে বিশেষ করে তুলেছে।
নিউইয়র্কের বদলে যাওয়া চেহারা
ম্যাকইনার্নির চোখে নিউইয়র্ক আর আগের মতো নেই। এক সময় যেখানে তরুণ শিল্পী আর লেখকদের ভিড় ছিল, এখন সেখানে জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেই পরিবেশ বদলে গেছে। তবুও শহরের প্রতি তাঁর টান অটুট। তাঁর মতে, বয়স বাড়লেও শহরের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা কমে না, বরং আরও বেড়ে যায়।
ব্যক্তিগত জীবন ও উপলব্ধি
লেখকের নিজের জীবনও কম নাটকীয় নয়। একসময় যিনি উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন, এখন তিনি স্বাস্থ্য ও শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দেন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে। অতীতের স্মৃতি আর বর্তমানের বাস্তবতা—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি বুঝতে পারছেন, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়গুলো তিনি হয়তো ইতিমধ্যেই পার করে এসেছেন।
শেষ অধ্যায়ে বিদায়ের সুর
নতুন উপন্যাসে তিনি এমন এক দম্পতির গল্প শেষ করেছেন, যারা তরুণ বয়স থেকে বার্ধক্যে পৌঁছেছে। সম্পর্কের টানাপোড়েন, সময়ের চাপ আর শহুরে জীবনের জটিলতা—সবকিছুর মধ্যেও টিকে থাকা এক সম্পর্কের গল্প এটি। লেখকের নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই গল্পের মিল থাকলেও, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এক ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















